১০:২৪ এম
সরকারি নির্দেশনা মেনে হয়তো তাকে বিদায় নিতে হবে, এটাই আমলাতান্ত্রিক বাস্তবতা। কিন্তু বিদায় নেওয়ার আগে তিনি যা করে গেলেন, তা দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়। তিনি আর কেউ নন—আলোচিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সারওয়ার আলম। শত শত বছরের অচলায়তন ভেঙে মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দীর্ঘ ৭০০ বছরের ইতিহাসে এর আগে কেউ কখনো এভাবে প্রকাশ্য আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ার সাহস করেনি, এমনকি সাধারণ মানুষও কখনো ভাবেনি যে এই হিসাব চাওয়া সম্ভব। ডিসি সারওয়ার আলমের এই একটি সাহসী পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে।
আড়ালে থাকা 'খাদেমগোষ্ঠী' এখন প্রকাশ্যে
এতদিন মাজারের বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় যায়, কারা ভোগ করে—তা সাধারণ মানুষের কাছে মোটেও পরিষ্কার ছিল না। ভক্ত-আশেকানরা ভক্তিভরে যে বিপুল অংকের মান্নতের টাকা দান করতেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাথাব্যথাও ছিল কম।
কিন্তু ডিসি সারওয়ার আলমের নেওয়া পদক্ষেপের পর থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। কারা মাজারের টাকা ভোগ করছেন, তা এখন স্পষ্ট। হিসাব চাওয়ার পর মাজারের খাদেমগোষ্ঠীর নেতারা প্রকাশ্যে এসে গণমাধ্যমে যেভাবে বক্তব্য ও নিজেদের অধিকারের দাবি তুলে ধরেছেন, তাতে মানুষ তাদের আসল চেহারা চিনতে পেরেছে।
এই ধাক্কা দেশের মানুষের মধ্যে এক বিশাল সচেতনতা তৈরি করেছে। এখন থেকে মানুষ অন্তত বুঝে-শুনে এবং হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই মাজারে দান করতে শিখবে।
আরও পড়ুন: কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার রায় পেছাল, নতুন তারিখ বুধবার
গণমাধ্যমের সোচ্চার ভূমিকা ও ভবিষ্যতের জবাবদিহিতা
এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে দেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব জাগরণ। সচেতন মহলের মতে, দিন আর বেশি দূরে নয়, যখন দেশের প্রতিটি মাজারের হিসাব-নিকাশে শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাধ্য হবে কর্তৃপক্ষ।
দেশজুড়ে 'ডোমিনো ইফেক্ট'
সবচেয়ে মজার এবং ইতিবাচক বিষয় হলো, ডিসি সারওয়ার আলমের এই একটি সাহসী পদক্ষেপের আঁচড় লেগেছে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা শত শত মাজারে। কেবল সিলেটেই নয়, এখন দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা বিভিন্ন মাজারের বিপুল অংকের টাকা ও সম্পদের হিসাব চাওয়ার দাবি তুলতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ।
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এই 'ধাক্কা' দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা করলো বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন