ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

ফটিকছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১০ ভারতীয় গরু আটক


ফটিকছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১০ ভারতীয় গরু আটক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার কয়লারমুখ সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি ভারতীয় ১০টি গরু আটক করেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) অধীনে কয়লারমুখ বিওপির টহলদল গরুগুলো আটক করে।

আটক গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ধর্ষণ, চুরি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামীসহ গ্রেপ্তার ৯

বিজিবি সূত্র জানাচ্ছে, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় বুধবার ভোরে আনুমানিক ৪টা ৫৫ মিনিটে কয়লারমুখ বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ২২০৫/২ আরবি থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বদ্ধোগেড়ামারা এলাকায় অবস্থান নেয়।

সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে টহলদল ভারত থেকে ৩ জন চোরাকারবারিকে ১০টি ভারতীয় গরু নিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে।

এসময় বিজিবি সদস্যরা চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা গরুগুলো ফেলে দ্রুত ভারতের দিকে পালিয়ে যায়। পরে টহলদল ঘটনাস্থল থেকে ১০টি ভারতীয় গরু আটক করতে সক্ষম হয়।

সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে রামগড় ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে। বিজিবি বলছে, চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সীমান্ত সুরক্ষা, আভিযানিক কার্যক্রম এবং চোরাচালান দমনে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিরোধী দল কোনো রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করছে না: এমপি খোকন তালুকদার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে: রুশ রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫২ এম


রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে: রুশ রাষ্ট্রদূত

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ চলছে, এমন তথ্য দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন।

বুধবার বিকেলে গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানান।

বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। আলেকজান্ডার খোজিন জানান, আগামী নভেম্বরের প্রথম দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য মস্কোতে ওই বিজনেস ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক প্রোফাইলের ভিত্তিতে সরাসরি ব্যবসায়ী-ব্যবসায়ী (বিটুবি) বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে।

এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বৈঠকে বাংলাদেশ-রাশিয়া বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি রাশিয়ার বাজারে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিক রপ্তানির পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

রুশ রাষ্ট্রদূত জবাবে বলেন, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। তিনি আরও জানান, রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা রয়েছে।

কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে পৃথক এক বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি। তিনি জানান, আগামী বছরের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি কলম্বোয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হবে। এ মেলায় এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানান তিনি।

এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন।

দুই বৈঠকেই এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীরসহ রুশ দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রশিক্ষণে ৩৮ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩২ এম


স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রশিক্ষণে ৩৮ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে ‘দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ’ শুরু হয়েছে। ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যের দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টিগ্রিটিতে হেডকোয়ার্টার্স ভেন্যুর প্রশিক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে তিনি কথা জানান। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সারাদেশে ১১৪টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে পূর্বে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি এমন ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আজ শুরু হয়েছে। প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৯৬৫ জন।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৭৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাদেরকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে এক দিনের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শেষে এ রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়াই হাজারীবাগে চেম্বার খুলে রোগী দেখছেন ডিপ্লোমাধারী গিয়াস উদ্দিন

৪০ বছর ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা, প্রতিবেদককে হুমকি: ‘আমার ভাই বিচারপতি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ এম


৪০ বছর ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা, প্রতিবেদককে হুমকি: ‘আমার ভাই বিচারপতি’

রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার জিগাতলা এলাকায়, ৪৭/৩ বি সোনাতনগড় ঠিকানায় ‘মেসার্স বরিশাল ফার্মেসী’ নামে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন মিয়া নামের এক ব্যক্তি, যাঁর নেই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কোনো নিবন্ধন বা স্বীকৃত চিকিৎসা সনদ। একটি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেই নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে নিয়মিত রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে আসছেন তিনি — যা বিএমডিসির নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফার্মেসিতে তার চেম্বারে রোগীদের ভিড় লেগেই আছে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী দেখেন, প্রতি ভিজিটে ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নেন। যুগান্তরের হাতে আসা তার একটি প্রেসক্রিপশনে দেখা যায়, সেখানে তিনি নিজেকে ডি.এম.এফ (ঢাকা), বি.এইচ.এস (স্বাস্থ্য), ডি.আই.এম.এস (ঢাকা)-সহ শিশু ও স্ত্রীরোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। প্রেসক্রিপশনে ঠিকানা ও রোগী দেখার সময়ও (সকাল ৯টা–১টা, বিকাল ৫টা–১০টা) উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগের মুখোমুখি হলে গিয়াস উদ্দিন স্বীকার করেন, ১৯৮২ সালে মহাখালী ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একটি ডিপ্লোমা করেছিলেন এবং সেই থেকেই তিনি এই পেশায় যুক্ত। তিনি বলেন, তার ডাক্তারি নিয়ে আদালতে একটি প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে। নিজেকে ‘গরিবের ডাক্তার’ দাবি করে তিনি বলেন, তিনি মানুষের উপকারই করছেন। তবে একপর্যায়ে স্বীকার করেন, তার এই ডিপ্লোমা দিয়ে আইনগতভাবে চিকিৎসা দেওয়া বা প্রেসক্রিপশন লেখার অধিকার তার নেই। পরে প্রতিবেদকের ওপর চড়াও হয়ে তিনি হুমকি দেন, ‘আমার ভাই বিচারপতি। নিউজ করার আগে সাবধান!’

এই ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাই এই প্রতারণার প্রধান শিকার। আবু সায়েম নামের এক রোগী যুগান্তরকে বলেন, এলাকার মানুষ তাকে ভালো ডাক্তার মনে করে বলেই তিনি চিকিৎসা নিতে এসেছেন; এর আগে হাজারীবাগের মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে তার কাছ থেকেই ওষুধ নিয়েছেন তিনি।

সারা শরীরে লালচে ছোপ ও প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে আসা ১০ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তারের বাবা বলেন, মেয়ের অসুস্থতা দেখে প্রতিবেশীদের পরামর্শেই তিনি এখানে এসেছেন। নিরক্ষর হওয়ায় ডাক্তার প্রকৃত না ভুয়া, তা যাচাইয়ের সুযোগ তার নেই — সবাই দেখায় বলেই তিনিও ভরসা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৈধ সনদ না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন, এবং ভুল চিকিৎসায় কোনো ক্ষতি হলেও তার ‘বিচারপতি ভাই’-এর ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না বলে তাদের অভিযোগ। 

এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সুনির্দিষ্ট সনদ ও বৈধ নিবন্ধন ব্যতীত চিকিৎসা প্রদান কিংবা নামের আগে 'ডাক্তার' পদবি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বিএমডিসির অনুমোদনহীন ভুয়া ডিগ্রি ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কেবল প্রতারণাই নয়, আইনগতভাবে গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের প্রতারক চক্র দেশের সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জনস্বার্থে এই ভুয়া ডাক্তার ও তাদের পেছনের চক্রটির বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে বিএমডিসি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ এম


সার সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সার সরবরাহে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সফলতা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। কমিটি সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষিবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম। কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোছা. সাবিরা সুলতানা, মো. গোলাম রছুল এবং মো. আব্দুল বারী সরদার। বিশেষ আমন্ত্রণে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে কৃষির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সভাপতি উল্লেখ করেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর সরকারের অনেক সফলতা নির্ভর করে। তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীলভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে, কৃষক শক্তিশালী হলে দেশ শক্তিশালী হবে। আদা, মরিচ, টমেটো, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং রপ্তানিমুখী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারই প্রথম মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

বৈঠকে সার মজুত ও সরবরাহের তথ্য উপস্থাপন করে মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে সারের চাহিদা ৫৮ লাখ ৫০০ টন। জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার টন সার বিতরণ করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই চার ধরনের সারের মজুত রয়েছে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মজুত ছিল ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টন। ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি — তিন ধরনের সারের মজুত গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছর বেশি বলে বৈঠকে জানানো হয়।

তবে বৈঠকে কয়েকজন সদস্য তাদের নির্বাচনি এলাকায় সার সংকটের অভিযোগ করেন। কমিটির অন্তত তিন সদস্য জানান, অনেক জায়গায় কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। আবার কিছু সদস্য বলেন, তাদের এলাকায় সারের সংকট নেই। সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম যুগান্তরকে বলেন, সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারের ঘাটতি নেই। তবে নওগাঁ ও রাজশাহীর কিছু এলাকায় সংকট রয়েছে বলেও আলোচনা হয়েছে। এ অবস্থায় কমিটি সার বিতরণে সংকট থাকলে তা দূর করা, পালিয়ে যাওয়া ডিলারদের শূন্যস্থান পূরণ এবং ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে।

বৈঠকে মাটি ও ফসলে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গতানুগতিকভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া যশোরের গদখালীতে ফুল ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, পাহাড় ও সমতল এলাকার বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় তুলা উৎপাদন, চরের জমিতে ভুট্টা, মিষ্টি আলু ও বাদাম চাষ, কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো, কৃষক পর্যায়ে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা হয়।

মিয়ানমারে পাচারের সময় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী থেকে ৪০০ বস্তা ইউরিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সদরঘাট নৌ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন আবু বকর সিদ্দিক, নুরুল ইসলাম জাহেদ এবং আবদুল হক। বুধবার ভোরে কোতোয়ালি থানার চাক্তাই খালের পশ্চিমে বালুর মাঠসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। পুলিশ একটি সার পাচারের জন্য ব্যবহৃত কার্গো বোটও জব্দ করেছে।

সদরঘাট নৌথানার ওসি আবদুর রব জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁর বদলগাছীতে সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের প্রতি কেজি সার ৪ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ডিলারকে কালোবাজারিদের ৫০ বস্তা করে সার দিতে তিনি চাপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোববার বদলগাছী সদরের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের ম্যানেজার মনোরঞ্জনকে এক কালোবাজারিকে ৫০ বস্তা সার দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় পরে কৃষি অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিভিন্ন বিষয়ে চাপ আসতে থাকে।

মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম আলম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল তার ম্যানেজারকে ফোন করে একজনকে ৫০ বস্তা সার দিতে বলেছিলেন। তবে তিনি সার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে সজল সরকার বলেন, তিনি চাপ দেননি; সুযোগ থাকলে ৫০ বস্তা সার দিতে বলেছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, তিনি নতুন এসেছেন এবং দ্রুত সার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। তবে সজল সরকারের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

উপজেলা সার ও বীজ কমিটির সভাপতি ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তার সার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। যদি এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হবে।

সাতক্ষীরার তালায় বাড়িতে নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক মজুত রাখার দায়ে মশিয়ার রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জব্দ করা প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক ধ্বংসের নির্দেশও দিয়েছে।

বুধবার সকালে লাউতাড়া গ্রামে মশিয়ার রহমানের বাড়িতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে। পরে ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। মশিয়ার রহমান ওই গ্রামের ইমান আলী মোড়লের ছেলে। তিনি বিসিআইসি সার সাব-ডিলার হিসাবে ব্যবসা করার পাশাপাশি সার ও কীটনাশকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

রাজশাহীর পবা উপজেলায় কৃষকের বাড়িতে নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত ১২৯ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় কৃষক মামুনুন্নবী মিলনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দ করা ৪৮ বস্তা এমওপি ও ৮১ বস্তা টিএসপি সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।

বুধবার বড়গাছী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়ায় ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনুল আবেদীনের নেতৃত্বে অভিযানটি হয়।

তবে মিলনের দাবি, বিক্রির জন্য নয়, নিজের জমিতে আলু চাষের জন্য সার রেখেছিলেন। গত বছর ৪৫ বিঘা জমিতে আলু চাষের পর সার বেঁচে যায়। চলতি মৌসুমে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি সেগুলো মজুত করেছিলেন।

গুরুদাসপুরে সার পাচারের ভিডিও ভাইরাল

নাটোরের গুরুদাসপুরের এক ডিলারের ৪০ বস্তা সার পাচারের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শ্যালোচালিত ভটভটিতে সার নিয়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দিকে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয়দের কথোপকথনে ৪০ বস্তা সার তাড়াশের সবুজপাড়ায় নেওয়ার কথা শোনা যায়। চালকের বক্তব্যেও ডিলার গিয়াস উদ্দিন প্রামাণিকের নাম শোনা যায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ভিডিওটি ১৫ সেপ্টেম্বরের নয়, ১১ সেপ্টেম্বরের। তার দাবি, রানীগ্রামের কৃষক শহিদুল ও রাশিদুল তার কাছ থেকে ৮ বস্তা করে মোট ১৬ বস্তা সার ন্যায্যমূল্যে কিনেছিলেন। পথে রাঙ্গা মোল্লা নামে এক ব্যক্তি সারবোঝাই ভটভটি আটকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে সার পাচারের নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাঙ্গা মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সার ডিলারের মাধ্যমে তাড়াশে পাচার হচ্ছিল। পাচার রোধ করায় গিয়াস উদ্দিন তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%