বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:০৮ এম
টেস্ট র্যাংকিংয়ে জিম্বাবুয়ের অবস্থান সবার নিচে, ১০ নম্বরে। ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে তারা ১১তম এবং টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ১২তম স্থান অধিকার করেছে। তবে, একের পর এক চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া দলটি র্যাংকিংয়ের শীর্ষ পাঁচে পৌঁছাতে চায়।
বুলাওয়েতে, জিম্বাবুয়ে আগে ব্যাটিং করে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। এরপর বাংলাদেশকে অলআউট করে ১৩৮ রানে।
ম্যাচ শেষে দলের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা মন্তব্য করেন, 'এটা ১৫০-১৫৫ রানের উইকেট। তাই জয় নিয়ে আশাবাদী ছিলাম। দুই-একটি ভুল আমরা করেছি, তবে বোলিং ইউনিট দারুণভাবে খেলেছে। কিছু ভুল তো হবেই। আমরা তিন বিভাগেই ভালো খেলেছি। হেড কোচ বলছিলেন, আজ আমাদের পারফরম্যান্সকে দশে আট দেবে।'
দলের পেস ইউনিটের প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, 'উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বান্ধব ছিল। আগামীতে আমরা এ বিষয়টি মাথায় রেখে খেলতে নামব। আমাদের পেসাররা বিশ্ব ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্ট্যান্ডার্ড ধরে রেখেছে। আমি খুবই খুশি। জয়ের চেয়েও বড় কথা হলো, আমরা যেভাবে খেলছি…'
জয়ের চেয়েও তিনি দলের উন্নতি নিয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, 'টি-টোয়েন্টিতে প্রতিপক্ষকে অলআউট করা মানে আপনার দল সঠিক পথে আছে। বিশ্বকাপে আমরা সম্ভবত শীর্ষ সাতে শেষ করেছিলাম। তবে আমরা বিশ্বের শীর্ষ ৪-৫টি দলের একটি হতে চাই। আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী উন্নতি হচ্ছে, এটাই আমাকে খুশি করে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দুইদিন ধরে ভাসতে থাকা একটি ফিশিং বোটসহ মোট ১৯ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি দ্বারা প্রকাশিত সংবাদটি অনলাইন ভার্সনে রয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন কর্তৃক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই 'এফবি মা-২' নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৯ জন জেলেকে নিয়ে হাতিয়া থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যায়। কিন্তু ১৩ জুলাই ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে। মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকার কারণে জেলেরা কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেননি।
দুইদিন ভাসার পর বুধবার সকাল ১০টার দিকে ট্রলারটি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলে একজন জেলে কোস্টগার্ডকে ঘটনা সম্পর্কে অবগত করে। খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের স্টেশন ভাসানচর এবং অপারেশন 'সুরক্ষা'-এ নিয়োজিত জাহাজ বিসিজিএস কুতুবদিয়া দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
এই অভিযানে চট্টগ্রামের নরম্যান্স পয়েন্টের পশ্চিমে গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে বিকল ট্রলারসহ ১৯ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শর্তে জেলেদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ট্রলারসহ মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস আটলান্টার ম্যাচ ঘিরে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তবে, মার্ক গেয়ি নিজের দলের ওপর কোনো চাপ দেখতে পাচ্ছেন না। ইংল্যান্ডের ২৬ বছর বয়সী ডিফেন্ডার বলেছেন, আর্জেন্টিনা যেহেতু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, তাই চাপটা তাদেরই অবস্থান করছে।
বাংলাদেশ সময় ১৬ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে এসেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড তাদের ১৯৬৬ সালের সুখস্মৃতি পুনরাবৃত্তি করতে মুখিয়ে আছে।
ঘরের মাঠের সেই বিশ্বকাপের পর থেকে, বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ফাইনালে ইংল্যান্ড কখনোই ওঠতে পারেনি। ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তারা দুইবার সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে, কিন্তু দুবারই হতাশার শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় জানাতে হয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে। সব মিলিয়ে, ৬০ বছর আগে অর্জিত সেই সাফল্যের পর, এবার তৃতীয়বারের জন্য তারা সেরা চারের লড়াইয়ে প্রবেশ করতে চলেছে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াইয়ের কারণে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার সেই বিখ্যাত (একই সাথে কুখ্যাত) ‘হ্যান্ড অব গোল’ থেকে শুরু করে, ১২ বছর পরে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড পাওয়া নিয়েও অনেক বিতর্ক তৈরি হচ্ছে এই ম্যাচের চারপাশে।
এই দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ে নাটকীয়তা ও বিতর্কের অভাব ছিল না কখনো। সুতরাং, এই ম্যাচেও উভয় দলের ওপর স্নায়ুর চাপ থাকবে। তবে গেয়ি মনে করেন, তাদের দলটির ওপর চাপটা তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনার ওপর চাপ থাকবে, কারণ, তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে নওরয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিততে ইংল্যান্ড যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে। এই কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘সেরা ম্যাচ’ খেলতে চান গেয়ি।
তিনি বলেন, “এটা জীবনের সেরা ম্যাচ। দেশের জন্য আপনি যা পারেন, সবই করতে হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর রেসিডেন্সি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ) পর্যটকদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
এই ভিসার আওতায়, পর্যটকরা কোনো স্পন্সর বা হোস্ট ছাড়াই দুবাইসহ আরব আমিরাতে একাধিকবার যাতায়াত করতে পারবেন। খবর গালফ টুডের।
নতুন এই ভিসার মাধ্যমে পর্যটকরা প্রতিবার প্রবেশের পর ৯০ দিন পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। প্রয়োজনে এই মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো যাবে। তবে শর্ত অনুযায়ী, এক বছরে মোট অবস্থানের সময়কাল ১৮০ দিনের বেশি হতে পারবে না।
জিডিআরএফএ জানিয়েছে, এই ভিসা বিশ্বের যেকোনও দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র হলো– সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি, কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদি পাসপোর্টের কপি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সর্বনিম্ন ৪,০০০ ডলার বা সমপরিমাণ অর্থের স্থিতি প্রমাণসহ), বৈধ স্বাস্থ্য বীমা সনদ ও আসা-যাওয়ার বিমান টিকিট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে দুর্গত এলাকার মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন।
এ অঞ্চলের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন, উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ত্রাণ বিতরণ শেষে আজ বুধার সন্ধায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এই অঞ্চলের ৫টি জেলায় আনুমানিক ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ জন মানুষ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। দুর্যোগ শুরুর প্রথম দিন থেকে প্রশাসনের জরুরি তৎপরতায় প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও বন্যার পানি নেমে গিয়ে মানুষ নিজ নিজ বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। সর্বশেষ গত ১৫ জুলাইয়ের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন মাত্র ২ হাজার ২৯৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন, যার একটি বড় অংশ আগামীকালের মধ্যে ঘরে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ১১ জুলাই এসে আমি চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার এবং বান্দরবানে গেছি। প্রতিটি জেলায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছি, কোথায় কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে, তা শুনেছি এবং তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছি। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করেছি।
তিনি বলেন, যেসব এলাকার মধ্যবিত্ত মানুষ ত্রাণ কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়নি বা পানিবন্দি হয়ে থাকার কারণে খাবার পাচ্ছেন না, তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং প্রতিটি কাজ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অন্যান্য সংস্থা গুলোর সাথে সমন্বয় করে চলমান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় যেখানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানো হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই মহতি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে বন্যাকবলিত মানুষের বিষয়ে তথ্য ও সহযোগিতা পাওয়া গেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় সশস্ত্র বাহিনী, পেট্রোবাংলা ও জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ১৫ হাজার ২২৯ প্যাকেট শুকনো খাবার বিলি করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আক্রান্ত উপজেলাগুলোতে ৩ হাজার প্যাকেট এবং জ্বালানি বিভাগ ৪ হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্র্যাক, ইপসা ও জাগরণী ফাউন্ডেশনের মতো এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আরও ১১ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার সুষমভাবে বিলিবণ্টন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেছে এবং চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৯৫ জন, কক্সবাজারে ৩১০ জন, রাঙ্গামাটিতে ২৯৩ জন এবং বান্দরবানে ২০০ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন।
দুর্গত এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আকস্মিক বন্যার তীব্রতায় এ অঞ্চলের বেশ কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা; কক্সবাজারের রামু, পেকুয়া, চকরিয়া ও মাতামুহুরী; রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুড়াছড়ি ও কাউখালী; খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও সদর উপজেলা এবং বান্দরবান সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও রুমা উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল মারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ও নদীভাঙনে স্থানীয় গ্রামীণ রাস্তাঘাট এবং অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিউবওয়েলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও বোতলজাত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ সচল করা ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতের কাজ পুরোদমে চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলের একটি মানুষও যেন এই সংকটে অনাহারে কষ্ট না পান, তা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ৫টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১,২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৮৫ লাখ টাকা; কক্সবাজারে ২৫৬ মেট্রিক টন চাল, ২০.৮৫ লাখ টাকা, ৭ হাজার ৮৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও সাড় ৪ হাজার জনের রান্না করা খাবার; রাঙ্গামাটিতে ২৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩৫ লাখ টাকা; খাগড়াছড়িতে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০.৫০ লাখ টাকা এবং বান্দরবানে ৫৫ মেট্রিক টন চাল, ৪ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ৮৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই দুর্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এবং ত্রাণ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ। এছাড়া ঢাকা থেকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সার্বক্ষণিকভাবে ফোনে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রেখে দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।
বন্যা পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কৃষি খাতে এ অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভাগের প্রায় ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর আবাদী জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এর ফলে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বৃহৎ সংখ্যক কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং আগামী মৌসুমে চাষাবাদ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সার, বীজ ও বিশেষ কৃষি প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সাময়িক এই ক্ষতি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত সরকার দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সকল পুনর্বাসন সুবিধা নিশ্চিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ