শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩১ পি.এম
দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সামরিক কমপ্লেক্স ও দুটি বড় টানেল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করে উড়িয়ে দিয়েছে।
আল-তাহের পর্বতশ্রেণীর নিচে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল ধ্বংস করার সময় যে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, তার তীব্রতায় এলাকাটি ভূকম্পনের মতো কেঁপে ওঠে।
মার্কিন ভূগোলোক জরিপ সংস্থা জানায়, এই বিস্ফোরণের ফলে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পের সমপরিমাণ তীব্রতা অনুভূত হয়েছিল, যার কম্পন প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের উপকূলীয় শহর সাইদাতেও অনুভূত হয়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, এই টানেলটি দীর্ঘ দুই দশক ধরে ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় তৈরি করা হয়েছিল। এখানে হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটের একটি প্রধান কমান্ড সেন্টার ছিল, যেখানে বিপুল পরিমাণ রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ট্যাঙ্কবিধ্বংসী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ইসরাইল দাবি করেছে, কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি ধ্বংস করার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী একটি নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ভেতরে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিহত হয়েছে বা পালিয়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বিগত মার্চ মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে নতুন করে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। এতে লেবাননে এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল করে নেয়। যদিও গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমেছে, তবুও সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর এমন বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশি চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য। অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে চক্রটি অনলাইনে ডিজিটাল প্রতারণা, মাদক, এটিএম জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো, স্বর্ণ চোরাচালান ও মানবপাচারের মতো কাজ করছিল।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ চট্টগ্রামের অভিজাত খুলশী এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত ডিভাইসগুলোর মধ্যে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কি-বোর্ড, একটি মাউস ও একটি প্রিন্টার রয়েছে। এছাড়া পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খুলশীর জালালাবাদের কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের ওই ভবনের অষ্টম তলায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, চীনের ৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার বিকালে দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন্স) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ। তবে চক্রটির মূলহোতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ এখন তাকে খুঁজছে।
পুলিশ জানায়, ডিজিটাল প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি অপরাধী চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নাম্বার রোডের জনৈক দুবাই প্রবাসীর ১ নাম্বার বাড়িটি ভাড়া নিয়ে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আসছিল।
চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পেরেছে, বাংলাদেশে তাদের সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক সহায়তা প্রদানকারী দেশীয় ও বিদেশি সহযোগী রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে।
এছাড়া চক্রটি স্ক্যামিংয়ে জড়িত। স্ক্যামিং বলতে সাধারণ ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল। প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। কখনো লোভনীয় অফার, চাকরির প্রস্তাব, বিনিয়োগে অতিরিক্ত লাভের আশ্বাস কিংবা জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মোবাইল ফোন, ভুয়া ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এসব প্রতারণার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
খুলশী এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, গত এক মাস ধরে আটতলা ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের আনাগোনা ছিল। অবস্থান করা বিদেশিরা অনেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিতেন। পরে জানা যাচ্ছিল সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ কার্যক্রম করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এসব তথ্য ছিল। ডিভাইসগুলোতে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ কিংবা অনলাইন কার্যক্রমের কোনো তথ্য রয়েছে।
সিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, বৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে অনেক বিদেশি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তারা নানাভাবে ডিজিটাল প্রতারণা করছে। এসব প্রতারণার নেপথ্যে কিছু বিদেশি নাগরিক মূল পরিকল্পনাকারী হলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনে সহায়তা করছে স্থানীয় কিছু সহযোগী। বিদেশি চক্রগুলো হেরোইন, কোকেনসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত মাদকের কারবার, জাল ডলার ব্যবসা, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো এবং মানবপাচারের মতো অপরাধেও বিদেশিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। অনেককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চীন, ভারত, নাইজেরিয়া, কেনিয়াসহ, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রবেশের পর কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলে, যাতে তাদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বাসা কিংবা হোটেল ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলে অপরাধের ঘাঁটি।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন্স) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা যৌথ অভিযানে অনলাইন প্রতারণার বিভিন্ন ডিভাইসসহ ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুলশী থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পায়নি। একই সঙ্গে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকা বাইচের মতো আনন্দ-উৎসব আয়োজন থেকেও মানুষ বঞ্চিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বিএনপির সিনিয়র নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খাসেরহাট সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদীতে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবেদীন বলেন, “আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পেরেছেন বলেই আজ এই সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তিনি চমৎকার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পেরেছেন।”
বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের শত বছরের প্রাণের ঐতিহ্য। নানা কারণে এই ঐতিহ্য একসময় হারিয়ে যেতে বসেছিল। অতীতে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আনন্দের সঙ্গে নৌকা বাইচ উপভোগ করতেন। খোকন তালুকদার কালকিনিতে সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে এনেছেন।
অনুষ্ঠানে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি। এছাড়া বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌকা বাইচকে ঘিরে আড়িয়াল খাঁ নদীর দুই তীরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। হাজার হাজার দর্শনার্থী নদীর দুই পাড়ে ভিড় করে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। নৌকার ছন্দময় বৈঠার তালে তালে দর্শনার্থীদের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক যুবক অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঋণ শোধ করার জন্য তিনি পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং নিজের মোবাইল নম্বর থেকে ভাইকে ফোন করে অপহরণের কথা জানান। তাকে জীবিত অবস্থায় পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
পরে র্যাবের অভিযানে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। যুবকের নাম মো. আরিফুর রহমান (২৯)। তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার শান্তা এলাকার বাসিন্দা। ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় তার একটি ফুটপাতের দোকান রয়েছে, যেখানে তিনি থাকতেন।
র্যাব-৭ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় আরিফুর তার এক বন্ধুকে দোকানে বসিয়ে রেখে বিকাশে টাকা ক্যাশ আউট করতে বের হন। এরপর তিনি আর দোকানে ফিরে আসেননি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আরিফুরের মোবাইল নম্বর থেকেই তার ভাইয়ের কাছে ফোন করা হয়। ফোনে জানানো হয়, আরিফুরকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে জীবিত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
এই ঘটনায় আরিফুরের বন্ধু আসাফ-উদ-দৌলা বাদী হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় অপহরণের মামলা করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আরিফুরের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে র্যাব।
র্যাব-৭-এর একটি দল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুরকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুর জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে তার প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ হয়। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে তিনি আত্মগোপনে যান। পরে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভাইয়ের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আরিফুরকে উদ্ধারের পর সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বলে র্যাবকে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক মো. আলমগীর বলেন, উদ্ধার করা আরিফুরকে ভাটারা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে চারজন নিখোঁজ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেছে। শনিবার সকালে ভৈরব থেকে ডুবুরি দল এসে আবারও অভিযান শুরু করবে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৮), কাপাসিয়ার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মোছা. শান্তা (১৬), টাঙ্গাইলের জুয়েলের ছেলে মো. শান্ত (২৪) এবং নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মজনু মিয়ার ছেলে সৌরভ।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাখপুর গ্রামের মজনু মিয়ার বাড়িতে নিখোঁজ তিনজন বেড়াতে এসেছিলেন। বিকেলে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তাঁরা শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতে সাঁতার না জানা তিনজন গভীর পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে সৌরভও নদীতে তলিয়ে যান।
এ ঘটনার পর সঙ্গে থাকা লোকজন স্থানীয়দের খবর দেন। স্থানীয়রা নদীতে নেমে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সন্ধান পাননি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান পাননি। প্রবল স্রোতের কারণে পরে রাতের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।
শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের লিডার ইসলাম খান বলেন, নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে রাতে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। সকালে ভৈরব থেকে ডুবুরি দল এলে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনুর মিয়া জানান, সাঁতার না জানায় তাঁরা স্রোতে তলিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে পুলিশও উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ