ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চারঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অর্ধশত বোতল ভারতীয় মদ জব্দ


চারঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অর্ধশত বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫৯ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে। কিন্তু এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সোয়া ১২টায় রাজশাহী ব্যাটালিয়নের (১ বিজিবি) অধীন ইউসুফপুর বিওপির একটি আভিযানিক দল চারঘাট উপজেলার টাংগন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ মদ জব্দ করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারী পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া বস্তা তল্লাশি করে ৫৯ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়েছে। রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) জানিয়েছে, জব্দকৃত মদ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চারঘাট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন ডা. আমির হামজার, রেনু বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগরীতে দুই গাঁজা-সহ মাদক কারবারি গ্রেফতার-২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


নগরীতে দুই গাঁজা-সহ মাদক কারবারি গ্রেফতার-২

রাজশাহী নগরী থেকে গাঁজা-সহ দুইজন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত সোয়া ১০টায় নগরীর কর্ণহার থানার ধর্মহাটা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলো: মোঃ সোনারুল ইসলাম (২৬), যিনি নগরীর কর্ণহার থানার বাজিতপুর গ্রামের মোঃ আকাব্বর আলীর ছেলে এবং অন্যজন হলো মোঃ এরশাদ আলী (৪০), যিনি একই থানার ধর্মহাটা গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দীনের ছেলে।

শুক্রবার এ তথ্যটি যাচাই করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর), গাজিউর রহমান।

তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজ এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে তেল বিক্রি করতে যাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


জাপানে তেল বিক্রি করতে যাচ্ছে ইরান

ইরান আবারও জাপানি কোম্পানির কাছে তেল বিক্রির কার্যক্রম শুরুর জন্য আলোচনা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির পর বাজার সম্প্রসারণের এই প্রক্রিয়া চলছে। ওয়াশিংটনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের আওতায় চলছে এই আলোচনা। সম্ভাব্য ক্রেতারা অবশ্য ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা চাইছেন। ৬০ দিনব্যাপী আলোচনার অংশ হিসেবে এই ছাড়ের বিষয়টি গত ২২ জুন ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ছাড়ের মেয়াদ ২১ আগস্ট শেষ হবে। ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য বর্তমানে জাপানের তিনটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এটি ২০১৯ সালের পর জাপানের প্রথম এমন উদ্যোগ। স্পর্শকাতর বিষয়বস্তু হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের দুটি সূত্র এই তথ্য দিয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা শিল্প খাতের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাপান ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে তেল বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (মেটি) একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি এ ধরনের কোনো বিষয় সম্পর্কে সচেতন নন। রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোন সাড়া দেয়নি। ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কঠোর হয়। এর ফলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি। জাপানে কোনো ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বেসরকারি কোম্পানিগুলোর এখতিয়ারভুক্ত। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, পণ্য পরিবহনের সময় এবং বিদ্যমান চুক্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কোন চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, ট্যাঙ্কার চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টোকিও ও তেহরানের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নিষেধাজ্ঞা-ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে পণ্য বোঝাই করা হবে এবং জাপানি মালিকানাধীন বা পরিচালিত ট্যাঙ্কার ব্যবহার করা হবে। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সারা বিশ্বের বাজারে তাদের প্রথাগত ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের বলা হয়েছে যে, যদি কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তবে ইরান চায় তারা যেন পুনরায় তেল খরিদ শুরু করে। জাতিসংঘের নৌ-পরিবহন বিষয়ক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মধ্যাঞ্চলে تقریباً ৮০টি ভাসমান মাইন রয়েছে। জাপানের একটি বড় তেল শোধনাগার কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বীমা সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্যিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সাময়িক নিষেধাজ্ঞা-ছাড়ের বিষয়টি এশিয়ার পর্যাপ্ত মজুদসম্পন্ন শোধনাগারগুলোকে নতুনভাবে ক্রয়াদেশ দিতে উৎসাহিত করা নয়। তবে চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রধান ক্রেতা হিসেবে থেকে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুণে ধরা সমাজ পরিবর্তনে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির বিকল্প নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


ঘুণে ধরা সমাজ পরিবর্তনে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির বিকল্প নেই

ঘুণে ধরা সমাজ পরিবর্তনে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির বিকল্প নেই, এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নব মনোনীত মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি মন্তব্য করেন, নৈতিকতা, আদর্শ, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে না পারলে, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে কাঙ্খিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আদর্শবান নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন সাগর সৈকত কনভেনশন হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গাজীপুর মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ অনুষ্ঠানে মহানগর সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ ফাইজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন থানার প্রতিনিধি, মহানগরের সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নব মনোনীত মহাসচিবকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল নেতৃত্ব কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মহানগর সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ ফাইজ উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন থানা শাখা, সহযোগী সংগঠনসমূহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গাজীপুর মহানগরের পক্ষ থেকে নব মনোনীত মহাসচিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়।

এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় গাজীপুর মহানগরের সহসভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমানকেও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি লাভ করবে এবং দেশ, জাতি ও ইসলামী আন্দোলনের কল্যাণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার খ্যাত ইসরাইল ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত কি মধ্যপ্রাচ্য শান্ত হবে না?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার খ্যাত ইসরাইল ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত কি মধ্যপ্রাচ্য শান্ত হবে না?


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন চলমান যুদ্ধ থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেও সাময়িক ভাবে হলেও শান্ত করার চেষ্টা চলছে তখন ইজরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কর্তৃক ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়ায় যুদ্ধ অনবরত চালিয়ে যাওয়ার হুমকি-ই প্রমাণ করছে রাষ্ট্রটির বিলুপ্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য স্থিতিশীল হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—এই অঞ্চলে যুদ্ধের শেষ কোথায়? গত কয়েক দশকের ইতিহাস বলছে, যখনই শান্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তখনই নতুন সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে গ্রাস করেছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ও সামরিক নীতিই এই অস্থিরতার অন্যতম চালিকাশক্তি; তাদের ভাষায়, এই রাষ্ট্রটি মধ্যপ্রাচ্যের "ক্যান্সার"-এ পরিণত হয়েছে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত কেবল দুটি রাষ্ট্রের যুদ্ধ ছিল না; এটি দ্রুত এমন এক ভূরাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে—ইরানকে দ্রুত নতজানু করানোর যে হিসাব করা হয়েছিল, বাস্তবতা তার সঙ্গে মেলেনি। ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও দেশটি সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ধরে রেখেছে। সমর্থকদের দৃষ্টিতে, এই প্রতিরোধই ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের "সিংহ" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনায় আগ্রহকে অনেক বিশ্লেষক কেবল মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখেন না। তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য, তেলের বাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সংকট, এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা—বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন—ওয়াশিংটনকে কৌশল পরিবর্তনে বাধ্য করেছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কখনোই প্রকৃত শান্তির নিশ্চয়তা হয়ে ওঠেনি। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—সব পক্ষ কি একইভাবে যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বারবার ঘোষণা দিয়েছেন যে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে। একই সময়ে লেবানন, গাজা ও সিরিয়ায় সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার খবর এই ধারণাকে আরও জোরদার করেছে যে যুদ্ধ কেবল একটি ফ্রন্টে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—যদি যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কার্যকরই না হয়, তবে সেই শান্তি উদ্যোগের রাজনৈতিক মূল্য কতটুকু?


সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব এমন এক নিরাপত্তা দর্শনে বিশ্বাস করে, যেখানে সামরিক শক্তির প্রদর্শনই প্রধান ভাষা। তাদের যুক্তি, এই নীতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা বারবার ভেঙে পড়ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সমর্থকেরা বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকায় তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মাঝখানে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে।

ইরানের প্রতিরোধ, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পুনর্বিবেচনা এবং যুদ্ধবিরতির পরও সংঘাত অব্যাহত থাকা—সবকিছু মিলিয়ে একটি বাস্তবতা স্পষ্ট হচ্ছে: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন আর একক কোনো দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা অসম্ভব। তবে একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—যদি কূটনীতি ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয় এবং প্রতিটি সংকটের একমাত্র উত্তর সামরিক অভিযান হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি থেকেই যাবে। সেই আগুন শুধু এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর ধোঁয়া পৌঁছে যাবে বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির প্রতিটি প্রান্তে।

ইতিহাসের শিক্ষা হলো, যুদ্ধ শুরু করা তুলনামূলক সহজ; কিন্তু যুদ্ধের সমাপ্তি এবং তার রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। তাই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্যও একটি কঠিন পরীক্ষা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধের আপাত ইতি টানতে চাচ্ছেন তখন মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার হিসেবে খ্যাত ইসরাইলের দুর্নীতিবাজ ও যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, এই যুদ্ধ কখনোই থামবে না। তার অর্থ হচ্ছে ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তালমুদ অনুযায়ী ইসরাইল রাষ্ট্রটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর ধ্বংস হয়ে যায়। আর সেটি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েই এই প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং ধারণা করা হচ্ছে এই যুদ্ধ অনবরত চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইজরায়েল তার নিজের ধ্বংস ডেকে না আনা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের আগুন নিভবে না কিংবা ইসরাইল রাষ্ট্রটি মানচিত্র থেকে বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ হবে না এমনকি শান্তিও ফিরবে না এমন আশঙ্কা আজকের দিনে করা মনে হয় অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%