ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেনমার্কের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অনুমতি পেলেন


ডেনমার্কের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অনুমতি পেলেন

শ্রেণিকক্ষে ‘শারীরিক বলপ্রয়োগ’ বা শিক্ষার্থীদের ‘শাস্তি’ দেওয়ার অনুমতি ডেনমার্কের শিক্ষকদের দেওয়া হচ্ছে, সহিংসতা বৃদ্ধির অভিযোগের প্রেক্ষিতে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়-বামপন্থি সরকারের প্রস্তাবিত একটি সংস্কারের আওতায়, আগামী বছরের আগস্ট মাস থেকে শিক্ষকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য ‘শারীরিক বলপ্রয়োগ বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণের অনুমতি পাবেন। এর ফলে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধরে রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রাখা বা অন্য কোনো কক্ষে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

বর্তমানে, যদি কোনো শিক্ষার্থী নিজের, অন্যদের বা স্কুলের সম্পত্তির জন্য ‘বিপদ’ সৃষ্টি করে, কেবল তখনই শিক্ষকদের বলপ্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: সৌদি এয়ারলাইনসের যাত্রীদের লাগেজ হারানোর অভিযোগ দাখিলের আহ্বান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত এই আইনটি জাতীয় শিক্ষক ইউনিয়নের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে; ইউনিয়নটি দীর্ঘদিন ধরে বলছে যে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শিক্ষার্থীদের সামলানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই শারীরিক হস্তক্ষেপ করা যাবে এবং তা হতে হবে পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শারীরিক বলপ্রয়োগের যেকোনো ঘটনায় অভিভাবক ও পৌর পরিষদকেও অবহিত করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ম্যাগনাস হিউনিকে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি জটিল বা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষকরা কী করতে পারবেন, সে বিষয়ে তাদের মনে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকা উচিত নয়। কোনো শিক্ষকেরই উচিত নয় সহিংস পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করার কারণে চাকরি হারানোর ভয় পাওয়া।’

ডেনমার্কে প্রায় ৬০ বছর ধরে স্কুলে বলপ্রয়োগ কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দেশটি ১৯৬৭ সালেই শারীরিক শাস্তি বেআইনি ঘোষণা করেছিল।

আরও পড়ুন: বিসর্জনে শুধু সনাতনীদেরই প্রতিমা ছোঁয়ার নির্দেশ, অস্পৃশ্যতা ফেরানোর অভিযোগ

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে হামের আতঙ্ক, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


সিলেটে হামের আতঙ্ক, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

সিলেট বিভাগের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত, বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৯০ এ পৌঁছেছে। একই সময়ে, নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৫ জন। হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি রয়েছেন আরও ৫১৫ জন।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া তিন শিশুর চিকিৎসা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছিল। তাদের বয়স ছিল ছয় মাস, এক বছর দুই মাস এবং ১০ মাস। শিশুদের বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলায় অবস্থিত।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছে ১০ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৯০।

জেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্তের সংখ্যায় সিলেট জেলা এগিয়ে রয়েছে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২২। সুনামগঞ্জে ৩৫৭, হবিগঞ্জে ১৫৮ এবং মৌলভীবাজারে ১৫৮ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। হবিগঞ্জের সংখ্যার মধ্যে দুজন রুবেলা রোগী রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৫।

মৃত্যুর হিসাবেও সিলেট জেলা শীর্ষে অবস্থান করছে। জেলাটিতে সন্দেহজনক হাম রোগে ৭৪ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জে সন্দেহজনক হাম রোগে ৬৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে একজন মারা গেছেন। হবিগঞ্জে সন্দেহজনক হাম রোগে ২৪ জন ও নিশ্চিত হাম রোগে চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। মৌলভীবাজারে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৪ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে বিমরাডের কর্মশালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


ঢাকায় বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে বিমরাডের কর্মশালা

বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি (সুনীল অর্থনীতি) বিকাশ এবং সমুদ্র শাসনব্যবস্থার উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) সেমিনার হলে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ ২০২৬-এর আওতায় ‘এনাবলিং আ সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি ইন দ্য বে অব বেঙ্গল’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমরাডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান জ্ঞান বিনিময় ও অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ফেলোশিপ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হতে পারে। ফেলোদের অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে অবদান রাখতে হবে।

কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। এতে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সমুদ্র শাসনব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগের পরিচালিত এই ফেলোশিপটির আয়োজক হিসেবে কাজ করছে দেশটির ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের ‘অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান রিসোর্সেস অ্যান্ড সিকিউরিটি’। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার। এছাড়া বিমরাডের চেয়ারম্যান এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

আজ রবিবার ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা-এর সভাপতি মানিক মুনতাসির এবং সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনটির ৪৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এই তথ্য জানান।

এসময় রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়াকে সমাজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন এবং পেশাগত স্বার্থরক্ষায় সকল বিভাজন ভুলে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে নির্ভীক ও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায় জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধে মূলধারার গণমাধ্যম ও পেশাদার সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মমত্বের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘আমি যে শিকড় থেকে এসেছি, যে শিকড় থেকে আমার বেড়ে ওঠা, সেই শিকড়কে আমি ধরে রাখতে চাই।’

ঠাকুরগাঁওকে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি ফোরামের সদস্যদের অভিনন্দন জানান, যারা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশ ও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম এসময় সংগঠনটির সদস্যদেরকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান এবং জেলার সাফল্য ও অর্জনগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য উৎসাহিত করেন।

সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।

তারা রাষ্ট্রপতিকে পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

এছাড়া সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় এবং গুরুতর অসুস্থ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সংগঠনটির সমৃদ্ধি ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।

এসময় ফোরামের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন- ঢাকা স্ট্রিমের সিইও সোহেল রানা, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মানিকুল আজাদ, প্রথম আলোর সাংবাদিক তুহিন সাইফুল্লাহ, বাসসের সাংবাদিক মাহাবুর আলম সোহাগ, স্টার নিউজের সিনিয়র প্রডিউসার মাহবুব আলম রাজ, কালবেলার সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম এবং চ্যানেল-২৪ এর সাংবাদিক মাসউদুর রহমান রানা।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আঞ্চলিক জোট ও কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আঞ্চলিক জোট ও কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে সকল ধরনের কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে চীন, জাপান, আসিয়ান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের টেকসই সমাধান খুঁজছেন সরকার।

আজ রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের পথ-টেকসই প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী আঞ্চলিক সমাধানের দিকে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এজন্য চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংকট সমাধানে আনুষ্ঠানিক কূটনীতির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সব সম্ভাব্য পথ বিবেচনায় রেখে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন-সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়ার বাংলাদেশ সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি নিজে তাঁর সঙ্গে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে জাপান সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ওই সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আরও আলোচনা হবে।

সেমিনারের সভাপতি এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় সংকট ব্যবস্থাপনার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কৌশলগত কূটনীতি, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি টেকসই প্রত্যাবাসন এবং বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত জাতীয় কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে এ বছর বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে তিনটি বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আলী আশরাফ মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যাপক শাহাব এনাম খান রাখাইনের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ, পিএইচডি (অব.) আঞ্চলিক কূটনীতি ও বাংলাদেশের কৌশলগত করণীয় বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রত্যাবাসন টেকসই করতে ফেরত যাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকার সুযোগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাবাসনের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যেতে পারে।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%