ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হারের বৃত্তেই ইউনাইটেড, ক্যারিকের ওপর চাপ বাড়ছে


হারের বৃত্তেই ইউনাইটেড, ক্যারিকের ওপর চাপ বাড়ছে

চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও হতাশার সম্মুখীন হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মঙ্গলবার রাতে রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিতানোতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে মাইকেল ক্যারিকের দল। ম্যাচের শুরুতেই ৪৭ সেকেন্ডে গোল খেয়ে যায় ইউনাইটেড, এরপর দ্বিতীয়ার্ধে লেনি ইয়োরোর লাল কার্ডের কারণে তারা ১০ জনে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত পাবলো বারিওস ও আদেমোলা লুকম্যানের গোলে জয় নিশ্চিত করে আতলেতিকো।

ম্যাচের শুরুতেই ইউনাইটেড বড় ধাক্কা খায়। মাত্র ৪৭ সেকেন্ডে ডান দিক থেকে আলেক্স বায়েনার বাড়ানো বল পেয়ে গোল করেন বারিওস। তার নিচু শট আয়ডেন হেভেনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেন্নে লামেন্স আর বল ঠেকাতে পারেননি। এটি চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকোর দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২৭ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন কনর গ্যালাঘার।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। প্রথমার্ধে তাদের সবচেয়ে ভালো দুটি সুযোগ আসে ব্রায়ান এমবেউমোর কাছ থেকে। তার একটি নিচু শট আটকে দেন আতলেতিকোর রক্ষণ, আরেকটি তীক্ষ্ণ কোণের প্রচেষ্টা সামলে নেন গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক। অন্যদিকে আতলেতিকোও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোর ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক গোলের পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

আরও পড়ুন: সরকার তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহায়তা করবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বিরতির ঠিক আগে আতলেতিকো দ্বিতীয় গোল পেয়েছিল বলে মনে হলেও ভিএআরের কারণে তা বাতিল হয়। বারিওসের পাস থেকে জনি কারদোসো বল জালে পাঠালেও আক্রমণের শুরুতে মার্কোস ইয়োরেন্তের হ্যান্ডবলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলই সুযোগ তৈরি করে। ৫৪ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের ভলি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেসও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে তার একটি শট অল্পের জন্য বাইরে যায় এবং আরেকটি প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ইউনাইটেডের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়া জোনাথন ডেভিডকে থামানোর ঘটনায় প্রথমে হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর লেনি ইয়োরোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। গোল করার স্পষ্ট সুযোগ নষ্ট করার দায়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউনাইটেড।

সংখ্যায় এগিয়ে যাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সেই সুবিধা কাজে লাগায় আতলেতিকো। গ্রিমালদো সামনে এগিয়ে ডেভিডকে বল বাড়িয়ে দেন। তার শট লামেন্স ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে পাঠান লুকম্যান। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

আরও পড়ুন: জোডারের স্বপ্ন ভেঙে সাংহাই মাস্টার্সের শিরোপা জিতলেন ফকিনা

শেষদিকে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল ইউনাইটেড। আতলেতিকোর এক ভুল ক্লিয়ারেন্সের পর মাতেউস কুনহাকে বল বাড়ান জশুয়া জির্কজি। তবে সাবেক আতলেতিকো ফরোয়ার্ডের শট দুর্দান্তভাবে পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন ওবলাক। ফলে ক্লিন শিট নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

পরিসংখ্যানেও ম্যাচটি বেশ কাছাকাছি ছিল। আতলেতিকো ১১টি শট নিয়ে ১.৪২ xG তৈরি করে, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। ইউনাইটেডের ৯টি শট থেকে xG ছিল ০.৯৮, লক্ষ্যে ছিল চারটি। তবে ইয়োরোর লাল কার্ডের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে চলে যায়।

এই হারে মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বাড়ল। সপ্তাহান্তে ১০ জনের টটেনহ্যামের বিপক্ষে ড্র করার পর আতলেতিকোর মাঠে জয়ের প্রত্যাশা ছিল ইউনাইটেডের। কিন্তু তার বদলে আরও একটি পরাজয় পেল তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্যারিকের অধীনে শেষ পাঁচ ম্যাচে এটি ইউনাইটেডের তৃতীয় হার; এর আগের ২১ ম্যাচেও তারা হেরেছিল মাত্র তিনবার।

অন্যদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে মৌসুমের প্রথম জয় পেল আতলেতিকো। ইউনাইটেডের বিপক্ষে ইউরোপের এই প্রতিযোগিতায় তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও অক্ষুণ্ন থাকল—দুই ড্রয়ের পর পাঁচ দেখায় এটি তাদের তৃতীয় জয়। আতলেতিকোর আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান হলো, গত মৌসুমের শুরু থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুত আক্রমণ থেকে আট গোল করেছে তারা, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে দুটি বেশি। লুকম্যানও বদলি হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয় ম্যাচে চার গোলে অবদান রেখেছেন—তিন গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

আরও পড়ুন: টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চ্যাম্পিয়নস লীগে বার্সেলোনার ৪-১ গোলে দূরন্ত কামব্যাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ এম


চ্যাম্পিয়নস লীগে বার্সেলোনার ৪-১ গোলে দূরন্ত কামব্যাক

চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। তুরস্কের মাটিতে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয়লাভ করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। ২৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পরও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে বার্সা। ম্যাচে লামিনে ইয়ামালের জোড়া অ্যাসিস্টের সঙ্গে গোল করেন জোয়াও ক্যানসেলো, ফারমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন ও করিম আদেয়েমি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল বার্সেলোনা। পেদ্রির বাড়ানো বল ধরে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন গর্ডন, কিন্তু তিনি উগুরজান চাকারকে পরাস্ত করতে পারেননি। ইয়ামালের ক্রস থেকে ড্যানি ওলমোও হেডে গোল করার সুযোগ নষ্ট করেন। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল না পাওয়ার খেসারত অবশ্য দিতে হয় বার্সাকে।

২৮ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করেন আলেক্সেই বাতরাকভ। বলটি জোয়াও ক্যানসেলোর গায়ে লেগে সামান্য দিক পরিবর্তন করায় বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া আর ঠেকাতে পারেননি। গালাতাসারাই এগিয়ে যায়।

ছয় মিনিট পর স্বাগতিকরা ব্যবধান দ্বিগুণও করে ফেলেছিল। বাতরাকভের কর্নার থেকে ভিক্টর ওসিমেনের ফ্লিক করা বল হেডে জালে পাঠান বারিস আলপার ইলমাজ। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে দাঁড়ায়।

বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ডাভিনসন সানচেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ওলমো সেটি বাড়িয়ে দেন ক্যানসেলোকে। এরপর বাঁকানো শটে দূরের পোস্টের নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান পর্তুগিজ ডিফেন্ডার। দুই দল ১-১ সমতায় বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন গর্ডন। ইয়ামালের দুর্দান্ত পাসে একেবারে ভালো অবস্থানে থেকেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বার্সার এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে দেন ইয়ামাল। ৫০ মিনিটে ডান দিক থেকে তার চিপ করা বলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হেডে গোল করেন ফারমিন লোপেজ। বার্সেলোনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এর মাত্র তিন মিনিট পর আবারও ইয়ামালের জাদু। ডান প্রান্তে দুর্দান্ত ড্রিবলিং করে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গর্ডনের দিকে বল বাড়িয়ে দেন স্প্যানিশ তরুণ। এবার আর ভুল করেননি গর্ডন। নিচু শটে নিকট পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে বার্সার ব্যবধান করেন ৩-১।

বার্সার চতুর্থ গোলেও বড় ভূমিকা ছিল ইয়ামালের। তার থ্রু বল পেয়ে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের ভারী টাচ বলটি আদেয়েমির সামনে এনে দেয়। এরপর শক্তিশালী শটে গালাতাসারাইয়ের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জার্মান ফরোয়ার্ড। ফলে বার্সা ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

শেষ দিকে আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ইয়ামালের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়, আর আদেয়েমির আরেকটি প্রচেষ্টা সাইড নেটে লাগে। শেষ পর্যন্ত আর গোল না হলেও বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্লিকের দল।

ম্যাচে বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তাদের xG ছিল ২.৮৩, যেখানে গালাতাসারাইয়ের মাত্র ০.৪৩। ইয়ামাল একাই পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং পাঁচটি শট নেন, যা ম্যাচে সর্বোচ্চ—অ্যান্থনি গর্ডনের শটসংখ্যার সঙ্গে সমান।

বার্সার হয়ে এক ম্যাচে দুই অ্যাসিস্ট করা ইয়ামালের জন্য অবশ্য এটি নতুন কিছু নয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার জার্সিতে এক ম্যাচে দুই অ্যাসিস্ট করার ঘটনা এটি তার অষ্টমবার। এর মধ্যে চলতি মৌসুমেই এমন পারফরম্যান্স এসেছে চারবার।

রক্ষণে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও আক্রমণে বার্সেলোনা যেন অপ্রতিরোধ্য। মৌসুমে এখন পর্যন্ত আট লা লিগা ম্যাচে ৩৪ গোল করেছে তারা এবং সব ম্যাচেই জয় পেয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারানোর পর এবার গালাতাসারাইকেও বড় ব্যবধানে হারাল তারা। ফ্লিকের অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগে ২৮ ম্যাচে বার্সার গোলসংখ্যা এখন ৮৪।

তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী মঙ্গলবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের মাঠে খেলতে যাবে বার্সেলোনা। সেই ম্যাচেই ফ্লিকের দলের দুর্দান্ত আক্রমণভাগকে আরও বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাকার ৭ মিনিটের যাদুতে আর্সেনালের জয়ের ধারায় ৩-০ গোলে লিলেকে পরাজিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ এম


সাকার ৭ মিনিটের যাদুতে আর্সেনালের জয়ের ধারায় ৩-০ গোলে লিলেকে পরাজিত

চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত জয় ধরে রেখেছে আর্সেনাল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে লিলেকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৬৪ মিনিট পর্যন্ত গোলের দেখা না পেলেও, পরবর্তী সাত মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে জয় নিশ্চিত করে মিকেল আর্তেতার দল। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে সেই ঝড়ের কেন্দ্রে ছিলেন বুকায়ো সাকা—একটি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছেন ইংলিশ তারকা।

ম্যাচের শুরুতে আর্সেনালের আক্রমণভাগকে ভালোভাবে সামলে রাখে লিলের রক্ষণ। জুরিয়েন টিম্বারের ক্রস থেকে ব্রুনো গিমারেস বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর টিম্বারের আরেকটি ক্রস থেকে মিকেল মেরিনোর হেড সরাসরি চলে যায় লিলের গোলরক্ষক বেরকে ওজেরের হাতে।

অন্যদিকে, লিলেও একটি গোল পেয়েছিল, তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। আয়াসে উয়েদা গোল করলেও, ভিএআর ও অফসাইড পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল হওয়ায় ক্লিন শিট ধরে রাখেন আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। ইউরোপিয়ান কাপে আর্সেনালের হয়ে গোলরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় ডেভিড সিম্যানের সমান ৩৮ ম্যাচেও পৌঁছে যান রায়া।

প্রথমার্ধের শেষদিকে গোলের জন্য চাপ বাড়ায় আর্সেনাল। এজেকিয়েল এজে ওজেরকে পরীক্ষা নেন, আর যোগ করা সময়ে গিমারেসের বাঁকানো শটও প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল। তবে দ্রুত উঠে বলটি ঠেকিয়ে দেন ওজের। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধেও লিলে নিজেদের রক্ষণ সামলে রেখে আর্সেনালকে হতাশ করতে থাকে। একপর্যায়ে সাকা, কাই হাভার্টজ ও মার্টিন ওডেগার্ডকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নেন আর্তেতা। কিন্তু তাদের নামানোর আগেই ৬৪ মিনিটে গোলের দেখা পায় আর্সেনাল। ননি মাদুয়েকের পাস ধরে বল বক্সে নিয়ে টিম্বার গোলরক্ষক ওজেরকে লব করে জালে পাঠান। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

এরপর মাঠে নামেন সাকা, আর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। নামার মাত্র দুই মিনিট পরই এজেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ইংলিশ উইঙ্গার। সাকার পেছন থেকে বাড়ানো বল পেয়ে বাউন্স খাওয়া শট নিচের ডান কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজে।

এর চার মিনিট পর নিজেই গোল করেন সাকা। হাভার্টজ ও ওডেগার্ডের সঙ্গে দ্রুত পাস বিনিময়ের পর বক্সে ঢুকে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তিনি। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় আর্সেনাল।

শেষদিকে গিমারেস লিলের বেঞ্জামিন আন্দ্রের ভুলের সুযোগ নিয়ে আরও একটি গোল করতে পারতেন। তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন ওজের। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।

সাকার জন্য ম্যাচটি ছিল পরিসংখ্যানের দিক থেকেও বিশেষ। আর্সেনালের হয়ে বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তার গোলসংখ্যা এখন ১৯। ক্লাবটির হয়ে এই তালিকায় তার চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল থিয়েরি অঁরির—৪২টি।

চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের হয়ে অ্যাসিস্টের তালিকাতেও সাকা এখন নয়টি নিয়ে যৌথভাবে তৃতীয়। তার ওপরে আছেন অঁরি ১৬টি ও সেস ফ্যাব্রেগাস ১৪টি নিয়ে। অ্যালেক্সিস সানচেজ ও থিও ওয়ালকটের সঙ্গে একই সংখ্যক অ্যাসিস্ট রয়েছে সাকার। একই চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল ও অ্যাসিস্ট—দুটিই করা আর্সেনালের ইতিহাসে পঞ্চম খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি।

আর্সেনালের জয়টি সংখ্যাতেও যথেষ্ট প্রাপ্য ছিল। ১৬টি শট থেকে তাদের xG ছিল ১.৮৫, যেখানে লিলের চারটি শট থেকে xG মাত্র ০.৩৮। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি আর্সেনাল। সর্বশেষ বিরতির আগে গোল এসেছিল ৬ সেপ্টেম্বর চেলসির বিপক্ষে।

লিলেকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেল আর্সেনাল। এর আগে নাপোলিকে হারিয়েছিল তারা। তবে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। ২১ অক্টোবর প্রতিযোগিতায় বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে আর্তেতার দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়াবাসহ রোমান হাওলাদার আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ এম


ইয়াবাসহ রোমান হাওলাদার আটক

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। গত ১৩ তারিখ রাতে উপজেলার একটি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটক রোমান উপজেলার চোরমর্দন গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

জানা যায়, এর আগে ফেসবুকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কটূক্তির অভিযোগে রোমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। ঢাকা সাইবার ট্রাইবুনালে মামলাটি করেন সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোছাইন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সানজিদা খানম ইভা জানান, মামলাটি (নং ৩৩/২০২৪) আমলে নিয়ে আদালত ঢাকা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট নিজের ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করেছেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সিরাজদিখানের সামাজিক সংগঠন ঝিকুট ফাউন্ডেশন ও সাংবাদিক ইকবালের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিটে চরম কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও অশ্রাব্য ভাষায় কটূক্তি করা হয়। এটি সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর ২১, ২৫ ও ২৯ ধারায় অপরাধের শামিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত কেলেঙ্কারি, মাদক সেবন, চুরি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নারীসংক্রান্ত একটি ঘটনায় তিনি এক বছরের সাজা পেয়েছিলেন। মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ২৮ দিনের কারাদণ্ড দেন। এসব বিষয়ে সিরাজদিখান থানায় তাঁর নামে একাধিক সাধারণ ডায়েরি, অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সাংবাদিক মোক্তারের ক্যামেরা চুরির অভিযোগে থানায় অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সিরাজদিখান প্রেসক্লাব থেকে থানায় লিখিত আবেদন দেওয়া আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর কর্মকাণ্ডে উপজেলার সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকেরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার তাঁকে গণপিটুনি দিয়েছে বলেও জানা গেছে।

সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকৌশলী ও ব্যাংকারের চাকরি ছেড়ে লিজা এখন শিশুদের প্রিয় ‘আপা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ এম


প্রকৌশলী ও ব্যাংকারের চাকরি ছেড়ে লিজা এখন শিশুদের প্রিয় ‘আপা’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে কেউ প্রকৌশলী হন, কেউ ব্যাংকার। ভালো বেতন, প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন আর শহুরে স্বাচ্ছন্দ্যের হাতছানি থাকে অনেকের সামনে। তবে নাইলা সারাফ লিজার কাছে সাফল্যের অর্থটা একটু আলাদা। প্রকৌশলী ও ব্যাংকার হিসেবে কাজ করার পর তিনি বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। এখন তাঁর সময় কাটে নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের সঙ্গে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাইলা সারাফ লিজা শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি তাদের ‘লিজা আপা’—কখনোবা সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা লিজার শিক্ষাজীবন কেটেছে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন বুয়েটে। পড়াশোনা শেষ করে ২০০৯ সালের দিকে যোগ দেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি), সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। পরে ২০১১-১২ সালের দিকে চাকরি নেন জনতা ব্যাংকে।

কিন্তু প্রকৌশলী কিংবা ব্যাংকার—কোনো পেশাতেই নিজেকে দীর্ঘদিন আটকে রাখতে পারেননি তিনি। নিজের অনুভূতি জানিয়ে লিজা বলেন, ‘জব তো কখনো খারাপ হয় না। তবে আমার নিজেকে কখনো মনে হয়নি যে ওই জবগুলোতে আমি খুব বেশি ফিট।’

শিশুদের সঙ্গে অন্য রকম এক বন্ধন

২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বুয়েট থেকে পাস করা একজনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর। শুরুতে লিজার মনেও সংশয় ছিল। প্রথম তিন মাস তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছিল, এই পরিবেশে তিনি থাকতে পারবেন তো?

কিন্তু সহকর্মীদের আন্তরিকতা আর শিশুদের সরল মুখ তাঁকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অন্য চাকরির সুযোগ এলেও তিনি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শিশুদের কাছেই।

লিজার কাছে শিক্ষকতা মানে শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু শেখানো নয়। শিশুদের শেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষককে শিশুদের মন বুঝতে হবে। কেবল শাসন করে কিংবা বারবার একই কথা বলে কাউকে শেখানো যায় না। বরং শিক্ষার্থীর নিজের ভেতর থেকে শেখার আগ্রহ তৈরি করতে পারাটাই আসল।

লিজার ভাষায়, ‘শিক্ষক হওয়ার জন্য শিশুদের ভেতরে প্রবেশ করতে পারা এবং তাদের মোটিভেট করার ক্ষমতা থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমি নিজেকে খুব সাধারণ একজন মানুষ মনে করি। আমি শুধু ওদের মোটিভেট করার চেষ্টা করি, উৎসাহ দিই। শিক্ষার্থী নিজে থেকে না শিখলে আমি সারাদিন ঘ্যানঘ্যান করলেও কোনো লাভ হবে না।’

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক, কখনো বন্ধু

লিজার শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও কিছুটা আলাদা। শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেকে ভয়ের কারণ করে তুলতে চান না তিনি। বরং এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যেখানে শিশুরা ভুল করলেও নির্ভয়ে তা স্বীকার করতে পারে।

টিফিনের সময় শিশুদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়েও তৈরি হয় তাঁর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সম্পর্ক।

লিজা বলেন, ‘আমি যখন পড়াই, তখনো যদি কেবল নিজেকে শিক্ষক মনে করি, তাহলে ওরা আমাকে ভয় পাবে। আমি ক্লাসে ওদের বন্ধু। ওরা কোনো ভুল করলেও নির্দ্বিধায় আমার কাছে স্বীকার করতে পারে।’

তাঁর বিশ্বাস, শিশুরা নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে থাকলে শেখার প্রতি আগ্রহী হয়। তাই পাঠদানের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি।

পড়াশোনার বাইরেও শেখার জগৎ

সাহিত্যচর্চা, ছবি আঁকা, নাচ, গান ও আবৃত্তির প্রতি লিজার রয়েছে গভীর আগ্রহ। এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি শিশুদের মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন।

তাঁর মতে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। শিশুদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও সাংস্কৃতিক বোধ বিকাশেও ভূমিকা রাখতে হয়।

নিজের আগ্রহ ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেই জগতের সঙ্গে পরিচিত করানোর চেষ্টা করেন তিনি। আর এভাবেই শিক্ষকতার সঙ্গে তৈরি হয়েছে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক।

ঢাকার জীবন ছেড়ে শেকড়ের কাছে

লিজার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বাবা ছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। পড়াশোনা ও কর্মজীবনের শুরুর সময়ও ছিল ঢাকাকেন্দ্রিক।

তবে তাঁর পারিবারিক শেকড় নেত্রকোনায়। বাবার বাড়ি ও দাদার বাড়ির সূত্রে এই জেলার সঙ্গে রয়েছে তাঁর গভীর সম্পর্ক। একসময় সেই শেকড়ের কাছেই থিতু হয়েছেন তিনি।

শুরুতে মফস্বলের পরিবেশ ও যাতায়াতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগলেও এখন নেত্রকোনার জীবন তাঁকে স্বস্তি দেয়। ঢাকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের তুলনায় এখানকার মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।

বর্তমানে স্বামী ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে নেত্রকোনায় থাকেন লিজা। তাঁর ছেলে পড়াশোনা করছে মায়ের কর্মস্থল পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই।

সাফল্যের সংজ্ঞা যেখানে আলাদা

একজন বুয়েট স্নাতক হিসেবে প্রকৌশল কিংবা ব্যাংকিং পেশায় আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল নাইলা সারাফ লিজার সামনে। কিন্তু তিনি নিজের ভালো লাগা খুঁজে পেয়েছেন শিশুদের শেখানোর মধ্যে, তাদের বেড়ে ওঠার সঙ্গী হওয়ার মধ্যে।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে তিনি বুঝেছেন, বড় ডিগ্রি থাকলেই একজন ভালো শিক্ষক হওয়া যায় না। শিশুদের বোঝার ক্ষমতা, তাদের উৎসাহিত করা এবং শেখার আনন্দ তৈরি করাই শিক্ষকতার বড় শক্তি।

বাংলাদেশে যত দিন থাকবেন, শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি।

লিজার গল্প তাই শুধু পেশা বদলের গল্প নয়; এটি নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দেওয়ার গল্প। যে মানুষটি একসময় প্রকৌশলবিদ্যা শিখেছিলেন, তিনি এখন শিশুদের স্বপ্ন দেখতে শেখান। তাঁর কাছে সাফল্য বড় কোনো পদ বা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; বরং ছোট ছোট শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ।

আর সেই কাজটিই নীরবে করে চলেছেন নেত্রকোনার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘লিজা আপা’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%