ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ত্রিশালে সুতিয়া নদী খননে ৪৫ লাখ ঘনমিটার মাটি কাটা হবে, কমবে জলাবদ্ধতা


ত্রিশালে সুতিয়া নদী খননে ৪৫ লাখ ঘনমিটার মাটি কাটা হবে, কমবে জলাবদ্ধতা

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সুতিয়া নদী পুনরুদ্ধারের জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট, জলাবদ্ধতা এবং পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান করবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা কমানো, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে ৪৪ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সুতিয়া নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৮ কিলোমিটার নদীপথে ৪৫ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা খননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সুতিয়া নদী ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও গফরগাঁও উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৬১ মিটার। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে বের হয়ে গফরগাঁও এলাকায় বানার নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। নদীটি মৌসুমি হওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময় পানিপ্রবাহ কম থাকে এবং পলি জমে নাব্যতা হ্রাসের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন অংশ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে এবং কোথাও কোথাও দখলের ফলে সুতিয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে কৃষি, মৎস্য এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অতীতে ত্রিশালে সুতিয়া নদীর দখল ও ভরাটের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। সুতিয়া নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার হলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে নদীসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার ক্ষতি থেকে কৃষকরা সুরক্ষা পেতে পারেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর স্ত্রীর মামলা, আসামি ৮ জনই অজ্ঞাত

অন্যদিকে, নদীতে পানির ধারণক্ষমতা ও প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের সম্ভাবনাও বাড়বে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সুতিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত এলাকায় ইতোমধ্যে কৃষিকাজে নদীর পানি ব্যবহারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। নদী ফিরে পেলে ফিরতে পারে প্রাণ-প্রকৃতিও। একসময় সুতিয়া নদী ত্রিশালের জনজীবন ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। নদীপথে পণ্য পরিবহন, মাছ ধরা এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে নদীর ওপর নির্ভরতা ছিল স্থানীয় মানুষের। তবে সময়ের সঙ্গে নাব্যতা কমে যাওয়ায় সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র খনন করলেই হবে না। খননের পর নদীর সীমানা সংরক্ষণ, দখল ও দূষণ বন্ধ, খননকৃত মাটি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি। এতে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

সুতিয়া নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ত্রিশালের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জনজীবনে বহুমাত্রিক প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ীসহ নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবর রহমান লিটন বলেন, "নদী বাঁচলে, ত্রিশাল বাঁচবে।" ত্রিশালের দীর্ঘদিনের নদী রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সুতিয়া নদীর ক্যাপিটাল ও সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি ডিও লেটার প্রদান করেছিলেন। তা অনুমোদন হওয়ায় সুতিয়া নদী ফিরে পাবে তার নব্যতা। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জনজীবনে এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে এনে জলাবদ্ধতামুক্ত, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব ত্রিশাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ৪ দিন পর ১১ বছরের শিশু ফাহিমকে উদ্ধার করলো পুলিশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীবরদী সরকারি কলেজে প্রশাসনিক পদ শূন্য, উদ্বেগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০০ এম


শ্রীবরদী সরকারি কলেজে প্রশাসনিক পদ শূন্য, উদ্বেগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

শেরপুরের শ্রীবরদী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদ প্রায় নয় মাস ধরে শূন্য রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশাসনিক পদ দীর্ঘ সময় ধরে খালি থাকার ফলে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফরহাদ আলী ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) চলে যান। এরপর থেকে অধ্যক্ষের পদটি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক কাজী হাসানুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আক্রাম হোসাইন ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বদলি হয়ে শেরপুর সরকারি কলেজে চলে যান। উপাধ্যক্ষের পদটিও এরপর থেকে শূন্য রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উপাধ্যক্ষের পদটি প্রায় ৯ মাস ৮ দিন এবং অধ্যক্ষের পদটি প্রায় ৯ মাস ধরে খালি রয়েছে।

বর্তমানে শ্রীবরদী সরকারি কলেজে ২৯ জন শিক্ষক এবং ২৪ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি এবং ডিগ্রি পর্যায় মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কলেজের শীর্ষ দুটি প্রশাসনিক পদ দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণ হয়নি। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাকিব বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, পরীক্ষা ও বিভিন্ন কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দ্রুত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ প্রয়োজন।" অন্য শিক্ষার্থী সুমি বলেন, "কলেজে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ শূন্য রয়েছে। এতে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।"

এক অভিভাবক জানান, "দীর্ঘদিন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ক্লাসে উপস্থিতি, পরীক্ষা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পড়ছে বলে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ নয়, দ্রুত যোগ্য অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "প্রশাসনিক সংকটের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক কাজী হাসানুজ্জামান বলেন, "কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদ দুটি অনেক দিন ধরে শূন্য আছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দুটি পদের দায়িত্ব যুগপৎ পালন করা কষ্টসাধ্য বটে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করেছি এবং শূন্য পদে পদায়নের অনুরোধ করেছি। সচিব স্যার আশ্বস্ত করেছেন। আমরা দ্রুতই দুটি পদে পদায়ন প্রত্যাশা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কার্যালয়ে বসেই ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০১ এম


ময়মনসিংহে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কার্যালয়ে বসেই ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ

ময়মনসিংহের এক প্রকৌশলী অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নিজ কার্যালয়ে বসে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে ঘুষ দাবি করেছেন। অভিযুক্ত প্রকৌশলীর নাম আতিকুর রহমান। তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী -২ (সিভিল) হিসেবে কর্মরত আছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা বারোটার দিকে এ ঘটনা ঘটে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ে।

অভিযোগকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম এসটি এইচই (জেবি)। এ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম ও সুপারভাইজার শরাফত আলী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসটি এইচই ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার চার তলা ভবন নির্মাণের কাজ পায়। ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার এ কাজটি সম্পন্ন করার মেয়াদ ছিল তিন বছর। যথাসময়ে কাজটি শেষ করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ছায়ীদুল হক যথাসময়ে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি নবনির্মিত ভবনটি বুঝে পেয়েছেন উল্লেখ করে প্রত্যায়ন দেন। মোহাম্মদ ছায়ীদুল হক বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মোবাইল ফোনে জানান, কাজটি যথাসময়ে শেষ হয়েছে এবং ভবনটি আমরা বুঝে পেয়েছি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ চলাকালীন সময়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ বিল জমানত হিসেবে জমা থাকে। কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সে ১০ শতাংশ বিল পরিশোধ করে। সে হিসেবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা ছিল ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে। বৃহস্পতিবার বেলা বারোটার দিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মফিজুল ও সুপারভাইজার শরাফত ময়মনসিংহের শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের কাছে যান জমানতের ওই টাকা আনতে। ওই সময় আতিকুর রহমান জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার আগে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে আতিকুর রহমান ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও তিনি এ টাকা না নিয়ে ৫ লাখ টাকাই দিতে বলেন। পরবর্তীতে মফিজুল ও শরাফত টাকার চেক না নিয়েই ফিরে যান।

এ বিষয়ে মফিজুল আরও বলেন, ৫ লাখ টাকা দাবি করলে আমি প্রতিষ্ঠানের মালিক হাফেজ মোহাম্মদ আজিজুল হককে জানাই। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন। পরে আমি ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলে প্রকৌশলী আতিকুর সে টাকা নেননি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসটি এইচই’র সত্বাধিকারী হাফেজ মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, প্রায় ৩০ লাখ আটকে ছিল। যে কারণে অবৈধভাবে ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হই। কিন্তু প্রকৌশলী আতিকুর রহমান সেটা নেননি। পরে আমি সরকারি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করেছি।

প্রকৌশলী আতিকুর রহমান নিজের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বলেন, কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদরাসার চার তলা ভবনটি আমরা প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিলেও এখানে কাজের ত্রুটি পাওয়া গেছে। যে কারণে জমা থাকা ১০ শতাংশ বিল দেওয়া হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীবরদীর হারিয়াকোনা: গারো পাহাড়ের নিঝুম অরণ্য ও উপজাতিদের জীবনধারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০২ এম


শ্রীবরদীর হারিয়াকোনা: গারো পাহাড়ের নিঝুম অরণ্য ও উপজাতিদের জীবনধারা

শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে অবস্থিত একটি অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি রয়েছে। এই স্থানটি দেখলে মনে হয় যেন হারিয়ে যাই এর অপরূপ সৌন্দর্যে। যেখানে ঝর্ণার বুকে জেগে ওঠা চরের বালু চকচক করছে। এর পাশেই উঁচু টিলা রয়েছে। টিলার কোল ঘেঁষে সাজানো রয়েছে নানা কারুকার্য। এই গ্রামের নাম ‘হারিয়াকোনা’।

হারিয়াকোনা, গারো পাহাড়ের নিঝুম অরণ্য গ্রাম। উপজাতিদের বসবাসের কারণে এই গ্রামে সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখানে পা রাখলে যে কারোরই মন চাইবে হারিয়ে যেতে। ঝর্ণার দুই পাশে সবুজ বৃক্ষ আচ্ছাদিত অসংখ্য উচুনিচু পাহাড় রয়েছে। গভীর মমতা ও ভালোবাসায় গড়া উপজাতিদের বর্ণিল জীবনধারা এখানে বিদ্যমান। গারো পাহাড়ের শেষ গ্রাম হিসেবে হারিয়াকোনা আজও আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে মুক্ত। এখানে ঘরবাড়িগুলো পাহাড়ি টিলার ওপর অবস্থিত। দূর থেকে দেখা গেলে মনে হবে যেন আকাশছোঁয়া কুটির। তাদের জীবনযাত্রা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় প্রকৃতির সঙ্গে তাদের লেনদেন যেন বহুদিনের। ভারত থেকে নেমে আসা বন্য হাতির তাণ্ডবে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তাদের জীবন-জীবিকা। প্রকৃতির নিয়মে গারো পাহাড়ের এই গ্রামটি প্রাকৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময়।

শ্রীবরদী শহর থেকে হারিয়াকোনার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা এবং পাঁচ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। এর মধ্যে আড়াই কিলোমিটার দুই পায়ের পাহাড়ি পথ রয়েছে। এখানে কোনো যানবাহন চলে না। প্রচলিত আছে যে, গ্রামটিতে কেউ একবার যে পথে এসেছে, সে পথে আর ফিরে যেতে পারেনি। এ কারণে এ গ্রামের নাম হয়েছে হারিয়াকোনা।

এই গ্রামের উত্তর ও পূর্বে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পোড়াকাশিয়া অবস্থিত। দুই দেশের সীমানা পিলার নম্বর ১০৯৩-১০৯৪। পশ্চিমে দিঘলাকোনা এবং দক্ষিণে বাবেলাকোনা রয়েছে। আড়াই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গ্রামটিতে প্রায় অর্ধশত টিলাভূমি রয়েছে। টিলার ওপর বসতবাড়ি রয়েছে ১৫০টি উপজাতি পরিবারের। এদের মধ্যে বেশির ভাগ গারো, কোচ, হাজংসহ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। গ্রামের মাঝখানে একটি গির্জা, একটি জিবিসি পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ফুটবল খেলার মাঠ ও কয়েকটি মুদি দোকানসহ রয়েছে চায়ের দোকান। প্রতি রবিবার এখানে একত্রিত হন গ্রামবাসীরা। উপাসনা ও ধর্মীয় কাজ সেরে তারা নানা আলোচনায় মেতে ওঠেন। এদিন যেন উপজাতিদের মিলনমেলা। পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত গ্রামের মাঝে সড়কটির দুই পাশে প্রাকৃতিকভাবেই গাছের লতাপাতায় ছাওয়া। গ্রামে প্রবেশ করতেই মনে হয় প্রকৃতি যেন ভ্রমণপিপাসুদের স্বাগত জানাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গংয়ের হাত থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৩ এম


ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গংয়ের হাত থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন

ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গংদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং ফলবান কলাগাছ কাটার ন্যায্য বিচার দাবি করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর ) দুপুরে শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকার নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকুর বড় ভাই মো. সারওয়ার জাহান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকু, তার স্ত্রী তাওহীদা লীম, বড় বোন সেহেলী পারভীন, শাহনেওয়াজ পারভীন, বোন জামাই মাসুদ আহমদ লেনিন, স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদআলমসহ আরো অনেকে।

লিখিত বক্তব্যে মো. সারওয়ার জাহান উল্লেখ করেন, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী এবং ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চুরি-ডাকাতির নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সোলায়মান মোল্লা গংদের ভয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। যারা প্রতিবাদ করতে যান, তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন সোলায়মান মোল্লা গংরা।

সারওয়ার জাহান আরও বলেন, আসামীরা জামিনে বের হয়ে রিংকু, তার নয় বছরের শিশু সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অপহরণ, খুন ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। বাড়ির মালামাল এবং প্রায় তিন লক্ষ টাকা মূল্যের নীরিহ অবলা প্রাণী ষাড় গরু লুট করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রিংকু ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বৃদ্ধা মা একাই ওই বাড়ি পাহাড়া দিচ্ছেন। আসামীপক্ষ ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গংরা প্রতিনিয়ত অপহরণ, হত্যা, গুম, মালামাল লুটপাট ও জমি দখলের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক একটি প্রভাবশালী মহল আসামীদের পক্ষ নিয়ে গুরুতর এ ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, প্রথমে অভিযোগ দায়েরের জন্য শ্রীবরদী থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করলে তাঁর নির্দেশে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি গ্রহণ করেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই প্রধান আসামী সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেফতার করেন।

কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে ওই দুইজন জামিন পেয়ে যান। পরবর্তীতে প্রধান আসামী সোলায়মান মোল্লা ও অন্যান্য আসামী ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া আদালতে হাজির হলে তাঁদেরকেও জামিন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম বিলভরট এলাকায় অবস্থিত রিংকুর বাড়ি থেকে ১৫০ ফিট পশ্চিম পার্শ্বে তার ৩০ শতাংশ জমির উপর রোপিত প্রায় ৪ শত কলাগাছ অনৈতিক চাঁদা দাবীর টাকা দিতে না পারায় কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফলবান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী মো. সোলায়মান মোল্লা ও তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স গংরা গভীর রাতে রাম দা, কিরিচ, রড, লোহার পাইপ, বর্শাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলাবাগানে হামলা চালিয়ে ফলবানসহ সকল কলাগাছ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। ওই কলাবাগানে সাথী ফসল হিসেবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন গাছের চারাও নষ্ট করা হয়। পাহারারত অবস্থায় রিংকু, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করা হয়। এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে সোলায়মান গংরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%