০৩:৩৭ পি.এম
বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধির গতি টেকসই করার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত 'ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবোরেশন' প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, অর্থনীতিকে একটি নতুন ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে শুধুমাত্র প্রবৃদ্ধির সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের ম্যান্ডেটকে ভিত্তি করে এই পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সরকার অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে রিকভার, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেটর এই 3R কৌশল অবলম্বন করছে।
আরও পড়ুন: ‘স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ার করেছেন শেখ মুজিব’
অধ্যাপক তিতুমীর একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে কর্মসংস্থানকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপ তৈরির ওপর জোর দেন। এ লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে না রেখে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ড. ইদ্রিস আলী এবং স্বাগত বক্তা রেজিস্ট্রার ড. আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট প্রায় ২৭টি শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, আনোয়ার গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, গ্রামীণফোন, বিকাশ, বিআরবি কুষ্টিয়া, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও ব্র্যাক, রাজবাড়ী জুট মিলস লিমিটেড, বেনকিউ ইন্ডাস্ট্রি, টেকনোডেরা ইন্ডাস্ট্রি, নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি, শাহজালাল ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি, ম্যাটাডর ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, এনসিঙ্গা ইন্ডাস্ট্রি-সহ প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: ‘২৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করেও কেন পাওয়া যায়নি, তার জবাব দিতে হবে’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন