মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৬ পি.এম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মো. ইয়াসিন খানকে (কালা ইয়াসিন) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি -৮, বরিশাল। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইয়াসিন খান তুষখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ ওরফে সোমেদ খানের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত ইয়াসিন খাকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে সোপর্দ করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ইয়াসিনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় ডাকাতির অভিযোগে একাধিক মামলা (জিআর মামলা নং- ১৪/২৬ ও ২৪৭/২৬, ধারা- ৩৯৫/৩৯৭) রয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে নিজ বাড়ির এলাকা থেকেই তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মঠবাড়িয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইয়াসিনের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার নারকীয় তাণ্ডবের সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বারবার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করার পরও কেন তার সাড়া পাওয়া যায়নি, সেই প্রশ্ন জাতির সামনে তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। তিনি অভিযোগ করেন, যখন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর বর্বর হামলা চালাচ্ছিল, তখন তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
মাওলানা আবদুল হালিম তার বক্তব্যে বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ছিল চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন। পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চারদলীয় জোটের একটি যৌথ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল এবং সেখান থেকেই বঙ্গভবনে গিয়ে পরবর্তী কেয়ারটেকার সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দুটি পৃথক সমাবেশ ডাকা হলো—জামায়াত করল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে, আর বিএনপি নয়াপল্টনে। কেন এই বিভাজন তৈরি করা হলো, তার পেছনে কী রহস্য ছিল—তা জাতি জানতে চায়।’
সেদিনের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উত্তর গেটের মঞ্চ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। আমাদের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বারবার ফোন করার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। পল্টনে একের পর এক লাশ পড়ল, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী রক্তাক্ত হলেন, অথচ সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ কেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল?’
তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জোট সরকারের শেষ সময়ে এসে বিএনপির ৪০ জনের মতো মন্ত্রী-এমপি দল ভেঙে আলাদা দল গঠন করেছিলেন। তাদের অনেকেই সে সময় এক-এগারোর প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। অথচ আজ জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছে। জামায়াতকে নিঃশেষ করার কোনো ষড়যন্ত্রই অতীতে সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।’
তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নাজরানে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শহর দুটি এবং সেখানে অবস্থানরত সকল প্রবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জাতীয় জরুরি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা থাকায় সাইরেন বাজানো হয় এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। একই সাথে, স্থানীয় বাসিন্দাদের এবং প্রবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, প্রাথমিক সতর্কবার্তায় কী ধরনের হুমকি সৃষ্টি হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। এছাড়া, কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
তবে, আভা ও নাজরানে মঙ্গলবার জারি করা সতর্কতার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘এআইনির্ভর পর্যটন, টেকসই গন্তব্য’, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এ পর্যটন মেলার ১৪তম আসরটি ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) এর আয়োজক।
আজ ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ। তিনি জানান, ‘পর্যটনসেবায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন, পরিবেশবান্ধব ভ্রমণে উৎসাহ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এ মেলার লক্ষ্য।’
এ বছর ২০টিরও বেশি দেশের পর্যটন সংস্থা, এয়ারলাইনস, আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান।
মোহাম্মদ হানিফ আরও জানান, মেলায় ২০০টিরও বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক, ২৫০ জনেরও বেশি উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ক্রেতা এবং প্রায় আড়াই হাজার দর্শনার্থী অংশ নেবেন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চারটি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনীতে ২০০টিরও বেশি এয়ারলাইনস, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশগ্রহণ করবে।
আয়োজকরা জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজেদের সেবা ও পণ্য তুলে ধরা, বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ, বানিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ (বিটুবি) প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হতে যাচ্ছে এ আয়োজনটি।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, আগের ১৩টি আসর সফলভাবে আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মেলা ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পর্যটন খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগের ১৩টি আসরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।’
এ মেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যটন ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মেলার মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটনশিল্পে ডিজিটাল রূপান্তরের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
মেলার আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন, পর্যটন গন্তব্যের প্রচার এবং ভ্রমণকারীদের সঙ্গে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে সহায়তা করতে সক্ষম।
এছাড়া, টেকসই পর্যটন গন্তব্যের ওপর গুরুত্বারোপের উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব পর্যটনচর্চায় উৎসাহ দেওয়া এবং বাংলাদেশের পর্যটনসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এ মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটরদের আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইনস এবং আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং এয়ারলাইন পার্টনার হিসেবে অংশ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সার্বিক সহযোগিতায় এ মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।
টোয়াব জানায়, স্থানীয় পর্যটন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক অংশীজনদের সংযোগ স্থাপন এবং দেশের বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এ মেলা দারুণ ভূমিকা রাখবে।
এ আয়োজন নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি, উদ্ভাবনে উৎসাহ এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করে টোয়াব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের ইতিহাস শুরু হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সিরাজ শিকদারকে হত্যার মাধ্যমে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল এবং শেখ মুজিবুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে দম্ভ প্রকাশ করেছিলেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের পুরো ইতিহাসই হত্যা, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়নের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন এবং মাত্র চারটি বাদে দেশের সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ারের সংস্কৃতিও চালু করেছিলেন তিনি। সিরাজ শিকদারকে হত্যার পর সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভভরে বলা হয়েছিল—‘কোথায় সিরাজ শিকদার?’ অর্থাৎ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ক্রসফায়ারের যে রক্তমাখা ইতিহাস, তা আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই এ দেশে শুরু হয়েছে।’
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেদিন লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, লাশের ওপর উঠে নৃত্য করেছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত ও পৈশাচিক ঘটনা বিরল। আওয়ামী লীগ মূলত কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সন্ত্রাসী ও রক্তপিপাসু সংগঠন।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করতে শীর্ষ নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা করা হয়েছে, শত শত নেতাকর্মীকে গুম ও খুন করা হয়েছে এবং দল নিষিদ্ধ করে নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতকে এ দেশের মাটি ও মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যায়নি।
বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে এটিএম আজহার বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর যারা আবার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায় কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদের স্বপ্ন দেখে, এ দেশের সচেতন জনগণ তাদের সেই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না। তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরসহ বিগত ১৫ বছরের সব গণহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ