০৫:৩১ পি.এম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত নতুন বাংলাদেশের অর্জনকে অর্থবহ করার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি অতীতের স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) ঢাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের উদ্যোগে আর সি মজুমদার আর্টস অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, যেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উল্লেখ করেন যে, কোনো ব্যক্তি একা একটি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানকে পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে পারে না। বরং, উপরে থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একটি সহযোগী কাঠামো তৈরি না হলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে।
বিগত ১৭ বছরে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত দমন এবং গণরুম-গেস্টরুমের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সেই সময়ে শিক্ষকদের হয়রানি, চাকরিচ্যুতি ও মামলা-মোকদ্দমার শিকার হতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আবারও বলেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয়, দায়িত্বই মুখ্য। ‘আমি’ নয়, ‘দেশ’—এই চিন্তাভাবনাকে সামনে আনতে হবে। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি সকলকে ধৈর্য ধারণ ও নিয়ম এবং ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানান।
প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরোধিতা করে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, আমরা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন চাই। অপরাধের বিচার হতে হবে, তবে তা প্রতিহিংসার ভিত্তিতে নয়, আইনের ভিত্তিতে।’
তিনি দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থান কিংবা সামাজিক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড কাম্য নয় বিধায় মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কী প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল, তা বুঝতে হবে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে রক্ত দিচ্ছিল, শিক্ষক হিসেবে তাদের পাশে থাকার নৈতিক দায়িত্ব ছিল বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এ কাউসার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন। কোরআন তিলাওয়াত ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শুরু হওয়া এই আয়োজনের সময় শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণা করেন। এ সময় কালের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন