ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির


ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তরুণদের ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এই তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা দ্রুত গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, "চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।" একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে ব্যাংক সুদের হার কমানোর ওপর তিনি জোর দেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, "এতে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের মতো পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল।" নতুন কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, যা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত আসন্ন বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

এ সময় তারা সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যাগুলো সমাধান করে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "দেশে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে।" কিন্তু গণতন্ত্র অর্জিত হওয়ার পর তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা ব্যর্থ হই। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের সুবিধার অপব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট

তিনি আরো বলেন, "বিগত সময়ে লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণে দেশ পিছিয়ে পড়েছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল।" ব্যক্তিগত লোভ ও লালসার কারণে ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী: আমানউল্লাহ আমান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শান্তের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে যাচ্ছেন তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


শান্তের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে যাচ্ছেন তিনি

জ্বরের কারণে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে এখন শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন।

ম্যাচটি সামনে রেখে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক সোমবার সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দেবেন। এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশ দুবাইয়ে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে। শান্তর অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

শান্তকে নিয়ে আশাবাদী প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে শান্তর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বরের পর শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।

জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে জাপানে হোটেলে থাকতে হয়েছিল শান্তকে। অসুস্থতার কারণে বাইরে যেতে না পারায় খাবারের সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে শান্ত অনেকটাই সুস্থ এবং সামগ্রিকভাবে ভালো অবস্থায় আছেন।

আগামী ৯ অক্টোবর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্ট শুরু হবে। ম্যাচটি ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে, যেখানে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সঙ্গে অংশ নেবে জিম্বাবুয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরকে সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


বঙ্গোপসাগরকে সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সোমবার (৫ অক্টোবর) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) কর্তৃক আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর তৃতীয় দিনের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বও ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সুযোগে পরিণত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্ত করেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার, সমুদ্রপথ ও দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির মধ্যে সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ চায়, বঙ্গোপসাগর যেন শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে থাকে এবং এটি সংঘাতের মঞ্চে পরিণত না হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্য অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করাও এর লক্ষ্য। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের মধ্যে কোন একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখে না। যেখানে স্বার্থের মিল রয়েছে, সেখানে সহযোগিতা করা হবে। মতপার্থক্য থাকলে তা সংলাপের মাধ্যমে মোকাবেলা করা হবে।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো কূটনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের পণ্যের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা, খাদ্য, জ্বালানি, পানি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তদেশীয় সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটকেও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, অভিযোজন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে শুধুমাত্র মানবিক সহায়তা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

হুমায়ুন কবির বলেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াবে না, বরং তা গঠনে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশকে শান্তির অংশীদার, আঞ্চলিক সংযোগের কেন্দ্র, বিনিয়োগের গন্তব্য এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দায়িত্বশীল কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবিপ্রবিতে ইউজিসির নির্দেশনা প্রত্যাখ্যানের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


পাবিপ্রবিতে ইউজিসির নির্দেশনা প্রত্যাখ্যানের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রণীত ‘গবেষণা অর্থায়ন পরিচালনা নির্দেশনা-২০২৬’ প্রত্যাখ্যান ও পুনর্বিবেচনার দাবিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষকরা।

মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে। মানববন্ধনের পর শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বক্তারা মানববন্ধনে বলেন, গবেষণা অনুদান এবং গবেষণার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইউজিসির উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান। তবে তাঁরা উল্লেখ করেন যে, গবেষণা প্রকল্পে প্রধান গবেষক (প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর-পিআই) হিসেবে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের আবেদনের সুযোগ না রাখা এবং পিএইচডিবিহীন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সুযোগ সীমিত বা বাতিল করার বিধান পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পাবিপ্রবির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আশিকুর রহমান অভি বলেন, ‘শুধু পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট ডিগ্রির ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি না করে গবেষণার সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণা প্রস্তাবনার মানের ভিত্তিতে যোগ্য গবেষকদের পিআই হিসেবে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকের পদমর্যাদা তাঁর একাডেমিক অবস্থান নির্দেশ করলেও গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ধারণ করে না। গবেষণার প্রকাশনা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, গবেষণাপদ্ধতির জ্ঞান, পূর্ববর্তী প্রকল্পে অংশগ্রহণ, দল পরিচালনা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষকরা জানান, পাবিপ্রবির প্রায় ২১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশের পিএইচডি ডিগ্রি নেই। পিআই হিসেবে আবেদনের জন্য পিএইচডি বাধ্যতামূলক করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক যোগ্য শিক্ষক স্বাধীনভাবে গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এতে পাবিপ্রবিসহ বিকাশমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ গবেষণা নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, পিআই হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষক হওয়া, প্রাসঙ্গিক একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা অভিজ্ঞতা, মানসম্পন্ন প্রকাশনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে পিএইচডি, উচ্চমানের আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, সাইটেশন, পূর্ববর্তী অনুদান ও প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পেটেন্ট, উদ্ভাবন এবং গবেষণার সামাজিক বা নীতিগত প্রভাব বিবেচনা করা যেতে পারে।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা পিআই হিসেবে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ সব শিক্ষকের জন্য সমান আবেদনের সুযোগ, পিএইচডিবিহীন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য না করা এবং পদমর্যাদার পরিবর্তে গবেষণার যোগ্যতা ও প্রস্তাবনার মানকে প্রাধান্য দিয়ে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামো তৈরির দাবি জানান।

এ ছাড়া নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন, নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে শিক্ষক-গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ইউজিসির সঙ্গে শিক্ষক-গবেষকদের মতবিনিময়সভা আয়োজনের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, প্রথমবার পিআই হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যোগ্য তরুণ গবেষকের প্রকল্পে অভিজ্ঞ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপককে কো-পিআই হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে তরুণ গবেষকদের নেতৃত্বের সুযোগের পাশাপাশি গবেষণার মান ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আশিকুর রহমান অভি, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস. এম. শাহেদুল আলম, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. ফাতেমা বেগম এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন।

এ ছাড়া ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুজ্জামান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. খাইরুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


মাভাবিপ্রবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইল, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নত করার লক্ষ্যে কৌশলগত পরিকল্পনা ও করণীয় বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) কনফারেন্স রুমে আইকিউএসি’র উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নত করা শুধুমাত্র একটি সূচকে ভালো করার বিষয় নয়, বরং এটি শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রভাব ও আন্তর্জাতিকীকরণ, শিল্প ও সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য-উপাত্তের যথাযথ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ফল।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মানোন্নয়নের সঙ্গে র‌্যাঙ্কিং কার্যক্রমকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অগ্রগতি ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে, তা ধরে রেখে আরও এগিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিতভাবে কাজ করা উচিত।

র‌্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও উপস্থাপনায় নির্ভুলতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার Taylor’s University -এর অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সূচক, র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নের কৌশল, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা, তথ্যের মান ও নির্ভরযোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির বলেন, মাভাবিপ্রবির র‌্যাঙ্কিংয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে আরও সুদৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

এ ধরনের সেমিনার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সূচক সম্পর্কে ধারণা তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%