ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শজিমেকে দ্বিতীয় দিনের মতো ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, বহিঃবিভাগের সেবাও বন্ধ


শজিমেকে দ্বিতীয় দিনের মতো ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, বহিঃবিভাগের সেবাও বন্ধ

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে দ্বিতীয় দিনের মতো। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বহিঃবিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

 

এ কারণে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের নতুন সুপার নিশাত এঞ্জেলা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা বহিঃবিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাউন্টার পুনরায় চালুর চেষ্টা করলেও চিকিৎসকদের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।

 

গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তার স্বজনদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই রাত ১২টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতির ডাক দেন প্রতিবাদস্বরূপ।

পরদিন ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তারা অভিযোগ করেন, হামলায় অন্তত ১৫ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে অর্থ আদায়ের চেষ্টা, আটক ৪

 

আন্দোলনকারীরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং চার দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বহির্বিভাগের সেবা বন্ধসহ কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। মারামারির ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

 

আরও পড়ুন: বেনাপোলে মুরগিভর্তি ভ্যানে উদ্ধার হলো পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানিয়েছেন, "বহির্বিভাগে কিছুটা সমস্যা হলেও মূল চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে না। মিড-লেভেল চিকিৎসক, সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা সেবা চালু রেখেছেন।"

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় যুবলীগ নেতা আলম গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় যুবলীগ নেতা আলম গ্রেপ্তার

পুলিশ যুবলীগ নেতা আলমকে গ্রেপ্তার করেছে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায়।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার অন্যতম আসামি কাজী নুর আলমকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ছাগলনাইয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং নিষিদ্ধ যুবলীগের ছাগলনাইয়া শাখার সভাপতি।

 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার সময় পৌর এলাকার হিছাছড়া রাস্তার মাথা থেকে ছাগলনাইয়া থানা-পুলিশ তাকে আটক করে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কাজী নুর আলম হিছাছড়া এলাকার আমির হোসেনের পুত্র।

২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় ফেনীর ছাগলনাইয়ার মুহুরীগঞ্জ এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা জানা যায়।

 

এই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ সিকান্দার ভুট্টো বাদী হয়ে ২৫১ জনের নাম উল্লেখ করে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এই মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপালে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা ও একটি বিস্ফোরক মামলারও তিনি এজাহারনামীয় আসামি।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাজী নুর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রে সংবাদ মাধ্যমের ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


গণতন্ত্রে সংবাদ মাধ্যমের ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, গণতন্ত্রে সংবাদ মাধ্যমের ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, "নীতিমালা করে মানুষকে ভালো করা যায় না।" তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নীতিমালা তৈরি করে হয়তো আইনের মধ্যে বিষয়গুলো আনা সম্ভব হবে।

তবে তিনি নৈতিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষ করে একটি হাফ-ট্রুথ (আংশিক সত্য) সংবাদের জন্য যাতে কারো ক্ষতি না হয়। একইভাবে, কারো অতিরিক্ত প্রশংসাও যাতে না হয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সকালে ভোলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে মিডিয়া একদম ফ্রি।" তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা আপনাদের মতো করে কাজ করবেন।" তিনি মনে করেন, মিডিয়া গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা দেখবেন, তাদের কাজগুলো ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ। একই সময়ে, তাদের কলমের লিখনিতে যেন কারো জীবন, ক্যারিয়ার, মান-সম্মান নষ্ট না হয়, সেটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব।

আন্দালিভ রহমান পার্থ আরও বলেন, "আমি সংবাদ মাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করি নাই।" তিনি বলেন, "২০টি টিভি চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা আপনার পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চায় আপনি থাকতে পারবেন না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দুই বছর আগে দেখা গেছে, সব কিছু আপনার পক্ষে থাকলেও যখন সময় আসে, তখন কেউ আপনার পক্ষে থাকে না। আল্লাহ যখন চাইবেন না, তখন মানুষের মনে আপনার প্রতি ঘৃণা জন্মাবে।

তিনি আরও বলেন, "আমার কখনো আগ্রহ ছিল না যে, আমার পক্ষে ১০ জন সাংবাদিক লিখবে বা না লিখলে আমি ফোন করে তাদের চাকরি নষ্ট করব।" তিনি এই চর্চা থেকে বের হতে চান।

সাইবার বুলিং নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "সাইবার বুলিং একটা বড় ইস্যু।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সাইবারে এ ধরনের নিউজের জন্য সংবাদের সৃজনশীলতা অনেক কমে গেছে। মানুষ এখন ফেইক নিউজ (ভুয়া সংবাদ) বলেই সন্দেহ প্রকাশ করেন।

পার্থ বলেন, "আজকে পরিস্থিতি আলাদা, জেনারেশন আলাদা এবং মিডিয়াসহ সব কিছুই আলাদা।" তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "যখন কলম নিবেন, লিখবেন আমাদের সমালোচনা করবেন।" তিনি তাদের জানান, "আমাদের কাজগুলো কোথায় কোথায় ঠিকমতো হচ্ছে সেগুলো দেখবেন।" তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের নিয়ে সংবাদ করবেন আমাদের সাহায্য করার জন্য, যাতে করে আমরা সঠিকভাবে কাজটা করতে পারি।" তিনি সতর্ক করেন যে, সংবাদে যেন দূষিত কিছু না থাকে এবং ব্যক্তিগত রাগ ও ক্ষোভ থেকে সংবাদ না হয়।

ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন লিটনের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর জেলার পলিটিক্যাল সেক্রেটারি জিয়া উল মোরশেদ চৌধুরী, দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মু. শওকাত হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক এম এ তাহের প্রমুখ।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুকসুদপুরে ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


মুকসুদপুরে ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-৬। এ সময় একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে, যা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের কামারবাড়ী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে অংশগ্রহণকারী র‌্যাব-৬-এর একটি দল ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের অধীনে কাজ করছিল।

আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন, মুকসুদপুর উপজেলার আইকদিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়া শেখের ছেলে হাসমত আলী শেখ (৭১)। অপরজন হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কসবা গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান (২৫)।

র‌্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালানো হয়। মাইক্রোবাস থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে গাঁজা ও মাইক্রোবাসসহ আটক দুজনকে মুকসুদপুর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তাদের গোপালগঞ্জের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের মোহ, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের মোহ, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ভারত

ভারত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগে নাম লেখানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। সামরিক কৌশলগত দৃষ্টিতে এটি যৌক্তিক মনে হলেও বাস্তবে নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। একটি আধুনিক ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেবল একটি সাধারণ যুদ্ধবিমান নয়, বরং এটি স্বয়ংক্রিয় বা আংশিক স্বয়ংক্রিয় ড্রোন বা ‘লোয়াল উইংম্যান’, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বমানের স্টিলথ প্রযুক্তি, সেন্সর এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি উড়ন্ত কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তিগুলোর এই দৌড়ে ভারতের আগ্রহ স্বাভাবিক, তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষার বাজেট, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শিল্প কাঠামোর সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এই পরিকল্পনা একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো একসঙ্গে বহুসংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন মেগা প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়া। ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স বা ভারতীয় বিমানবাহিনী বর্তমানে নিজস্ব প্রযুক্তির তেজস মার্ক-টু, নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা আমকা প্রকল্প এবং ১১৪টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য বহুল আলোচিত মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (এমআরএফএ) প্রকল্পের কাজ একযোগে চালিয়ে যাচ্ছে। যদি ইউরোপীয় কোনো দেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হতে হয়, তবে প্রতিটি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ এবং প্রযুক্তিগত বরাদ্দ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যায়।

চীনের জে-টুয়েন্টি কিংবা তুরস্কের কানের মতো পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেটের উন্নয়ন ব্যয় যেখানে ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে আমকা প্রকল্পের গবেষণা ও উন্নয়নের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ১.৮ বিলিয়ন ডলার। এই বাজেট ভবিষ্যতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, তা সহজেই অনুমেয়। তার ওপর সর্বাধুনিক ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমানে বিপুল বিনিয়োগ করতে গেলে দেশের অন্যান্য প্রতিরক্ষা কেনাকাটা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের বাজেট সংকটে পড়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য পথটি খুব একটা মসৃণ নয়। যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং জাপানের গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম (জিস্যাপ) ইতোমধ্যে বহু বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভারত এখন এই জোটভুক্ত হতে চাইলে কতটুকু প্রযুক্তিগত সুবিধা পাবে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ওপর কতটা স্বত্বাধিকার থাকবে বা তাদের বিমান খাতের শিল্পগুলো কেবল যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী না হয়ে মূল অংশীদার হতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্পেনের যৌথ ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম বা এফসিএএস প্রকল্প থেকে কাজের দায়িত্ব ও প্রযুক্তির ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে প্রধান অংশীদাররা সরে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় শক্তিগুলোর এই ব্যর্থতা ভারতের জন্য একটি বড় সতর্কতা বার্তা যে, যৌথ উদ্যোগ মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযুক্তি হস্তান্তর নয়।

সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমানের ইঞ্জিন তৈরির জটিলতা। ষষ্ঠ প্রজন্মের মতো উচ্চমানের ফাইটার জেট তৈরি করার পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিন তৈরি করা, যা করতে হলে উন্নত মেটালার্জি, থার্মাল ম্যানেজমেন্ট ও নির্ভুল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বহু বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। ভারত এখনও আমকা প্রকল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জিই এফফোরওয়ানফোর ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল এবং পরবর্তীতে ইঞ্জিন তৈরির জন্য ফরাসি কোম্পানি সাফরান বা ব্রিটিশ রোলস-রয়েসের সঙ্গে যৌথ সমঝোতার চেষ্টা করছে। নিজস্ব ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে পুরোপুরি স্বাবলম্বী হওয়ার আগেই ষষ্ঠ প্রজন্মের সার্বভৌম ফাইটার জেটের দাবি বাস্তবে রূপ দেওয়া বেশ কঠিন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%