০৩:১১ পি.এম
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে জাতিসংঘ। কিন্তু সরকার জানিয়েছে, জাতিসংঘের এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবর্তে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (১৯ জুন) মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকটের সূচনা স্থান মিয়ানমার। কাজেই, এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে।
আরও পড়ুন: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের মানিকগঞ্জে ১২ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, মানবিকতার কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। যদিও এই দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংকটের কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের ওপর ও দেশের সম্পদের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করেছে। সেজন্য, সংকটের দ্রুত এবং টেকসই সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।
সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য করার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী সমর্থন ও অবিরত মনোযোগ কামনা করেন রাষ্ট্রদূত।
আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেদের মিয়ানমারে ফিরতে চায়। প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০১৭ সালের আগেই অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সেনাচৌকিতে জঙ্গি হামলার অজুহাতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর থেকে পরের কয়েক মাসে বাংলাদেশে এসেছে আরও সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন