ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মানুষ চাইলেই নবী হতে পারে না: আল্লাহর বিশেষ দান নবুয়ত


মানুষ চাইলেই নবী হতে পারে না: আল্লাহর বিশেষ দান নবুয়ত

পার্থিব জীবনে নবুয়ত মানবজাতির প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় দান। আল্লাহ এই দান ও অনুগ্রহের জন্য যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। নবী ও রাসুল হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার কোনো ভূমিকা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এরাই তারা, নবীদের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, আদমের বংশ থেকে ও যাদেরকে আমি নুহের সঙ্গে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম এবং ইবরাহিম ও ইসমাইলের বংশোদ্ভূত ও যাদেরকে আমি পথনির্দেশ করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৫৮)

আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা সাদি বলেন, নবুয়ত ও রিসালাত আল্লাহর এমন দান যার সমতুল্য কোনো দান গত হয়নি, এমন অনুগ্রহ যার সমতুল্য কোনো অনুগ্রহ আগামীতেও আসবে না। আল্লাহ সুরা ফাতিহায় আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমরা যেন এসব অনুগ্রহপ্রাপ্তদের পথের দিশা প্রার্থনা করি। (তাফসিরে সাদি, পৃষ্ঠা-৪৯৬)

নবী ও রাসুলরা মহান আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত। তাঁরা জন্মের সময় থেকেই মনোনীত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৬)

আরও পড়ুন: জীবনে সুখী হতে ৪টি বিষয় জরুরি: মহানবী (সা.)-এর দিকনির্দেশনা

শৈশবে ইউসুফ (আ.) যখন স্বপ্নে দেখেছিলেন, চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্ররাজি তাঁকে সিজদা করছে, তখন ইয়াকুব (আ.) তাঁর স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলেছিলেন তুমি নবী হবে, তোমাকে মানুষের জন্য মনোনীত করা হবে। (তাফসিরে শাওকানি : ৩/৭)

আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে নবুয়ত দানের সময় বলেছিলেন, ‘তিনি বলেন, হে মুসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা মানুষের জন্য মনোনীত করেছিল। সুতরাং আমি যা দিলাম তা গ্রহণ কোরো এবং কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৪৪)

আল্লামা শাওকানি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, আয়াতে ব্যবহৃত ইসতিফা শব্দটি যাচাই করা ও মনোনীত করার অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ আমার রিসালাতের জন্য আমি সমকালীন মানুষের ভেতর তোমাকে মনোনীত করলাম। আয়াতে বাক্য দ্বারা বাক্যালাপ উদ্দেশ্য। আল্লাহ মুসা (আ.)-কে রিসালাত ও কোনো মাধ্যম ছাড়া কথা বলার মাধ্যমে সম্মানিত করেছিলেন। (তাফসিরে শাওকানি : ২/২৭৮)

সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো, আল্লাহ যাকে নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন তার আনুগত্য করা। নবী-রাসুলের আনুগত্য না করে অন্তরে নবুয়ত লাভের আকাঙ্ক্ষা অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। পবিত্র কোরআনে কুরাইশ নেতাদের এমন আকাঙ্ক্ষার নিন্দা করে বলা হয়েছে, ‘এবং তারা বলে, এই কোরআন কেন অবতীর্ণ করা হলো না দুই জনপদের কোনো প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির ওপর? তারা কি তোমার প্রতিপালকের করুণা বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি পার্থিব জীবনে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩১-৩২)

আরও পড়ুন: মদিনায় ২৫০ অত্যাধুনিক ছাতার নিচে ছায়া পাবেন দুই লাখের বেশি মুসল্লি

ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, আয়াতে তোমার প্রতিপালকের করুণা দ্বারা উদ্দেশ্য নবুয়ত। অর্থাৎ তারা নবুয়ত বণ্টন করে যে, যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেবে? আমিই পৃথিবীতে একজনকে ধনী অন্যজনকে দরিদ্র্য করি। যখন তারা পার্থিব জীবনের বিষয়গুলোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন তাদের ওপর নবুয়ত প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা সম্ভব কিভাবে? (তাফসিরে কুরতুবি : ১৬/৮৩)

আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ বা দীর্ঘ সাধনার মাধ্যমে নবুয়ত লাভ করা সম্ভব নয়। আল্লামা সাফফারিনি (রহ.) বলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশ্বাস হলো, চেষ্টা, সাধনা, ইবাদত, কঠোর আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি, চারিত্রিক মাধুর্য ইত্যাদির মাধ্যমে নবুয়ত লাভ করা সম্ভব নয়। নবুয়ত ও রিসালাত মহান আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন তাঁর চিরন্তন জ্ঞান ও ইচ্ছার মাফিক। (লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাতি : ২/২৬৭)

এটাও মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ কখনো কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে নবী বা রাসুল মনোনীত করেননি। এই মহান ঐশী দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যার আছে তিনি নবী বা রাসুল হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। শায়খ আবদুর রাজ্জাক আফিফি (রহ.) বলেন, এটা যুক্তি ও বুদ্ধির আলোকে অসম্ভব নয় যে অনুগ্রহকারী ও কল্যাণকারী আল্লাহ তাঁর কতিপয় বান্দাকে দান ও অনুগ্রহের জন্য বিশেষায়িত করবেন; তিনি তা করবেন সেই বান্দার চিন্তার প্রশস্ততা, দুনিয়াবিমুখতা, পূর্ণ ধৈর্য, উত্তম নেতৃত্ব, চারিত্রিক পূতঃপবিত্রতার কারণে।

যেন বান্দা নবুয়তের বিপদ সহ্য করতে পারেন, যেন তিনি অদৃশ্য বিষয়গুলো তাদের সামনে স্পষ্ট করতে পারেন, তাদের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের বিষয়গুলো বর্ণনা করেন, মানবজাতি ও পৃথিবীর কল্যাণগুলো তুলে ধরতে পারেন। মহান আল্লাহ নবী-রাসুলদের মনোনীত করেছেন জগত্গুলোর জন্য অনুগ্রহস্বরূপ, অবিশ্বাসীদের অক্ষমতাস্বরূপ এবং সমগ্র মানবের জন্য দলিলস্বরূপ। (মুজাক্কিরাতুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা ৪৪)

আরও পড়ুন: ইলহান ওমরের অভিনন্দন, ইনশাআল্লাহকে আলহামদুলিল্লাহতে পরিণত করেছেন আল-সাইয়েদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনা করতে কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনা করতে কমিটি গঠন

সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতনগ্রেড এবং বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

এছাড়া, কমিটির কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বা সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, অর্থ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সচিব বলতে সিনিয়র সচিবকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, কমিটি বিভিন্ন সময়ে বেতন কাঠামোর অসংগতি নিয়ে আসা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করবে। পাশাপাশি, প্রচলিত বেতনস্কেল পর্যালোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় সুপারিশ উপস্থাপন করবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান বেতনগ্রেড ভবিষ্যতে বাড়ানো বা কমানোর বিষয়টিও কমিটির বিবেচনায় থাকবে। বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার বিষয়টিও আলোচনা করা হবে।

ঝুঁকিভাতাসহ নতুন কোনো ভাতা চালু করা, বিদ্যমান ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি অথবা কমানোর বিষয়েও মতামত প্রদান করবে এই কমিটি। বেতন ও ভাতা-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলোও পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হবে। কমিটির দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সচিবালয়সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করবে অর্থ বিভাগ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালের নাশতায় যেসব ভুল করেন অনেকেই, অজান্তেই ক্ষতি হচ্ছে শরীরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


সকালের নাশতায় যেসব ভুল করেন অনেকেই, অজান্তেই ক্ষতি হচ্ছে শরীরের

সুস্থ থাকার জন্য দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সকালের নাশতা গ্রহণের সময় অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কিছু মানুষ নাশতা না খেয়েই কাজে বেরিয়ে যান, আবার কেউ কেবল চা-বিস্কুট খেয়ে সকাল পার করেন। এছাড়া অনেকে নাশতায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি ও পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার রাখেন।

এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চলতে থাকলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সকালের নাশতায় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত, তা জানা প্রয়োজন।

সকালের নাশতায় যে ৭টি ভুল এড়িয়ে চলবেন

১. নাশতা না খেয়েই দিন শুরু করা

অনেকেই ওজন কমানোর জন্য অথবা ব্যস্ততার কারণে সকালের নাশতা বাদ দেন। এতে দিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের সুযোগ নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সকালে ক্ষুধা অনুভব করেন, তাঁদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে শুধু ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে নাস্তা বাদ দিলে যে ওজন কমবে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

২. শুধু চা-বিস্কুট খেয়ে থাকা

বাংলাদেশে অনেকের সকালের নাশতায় চা ও বিস্কুট প্রধান খাবার হিসেবে থাকে। কিন্তু এই খাবারগুলি থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও আঁশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এটি যথেষ্ট নয়। এর পরিবর্তে ডিম, আটার রুটি, দুধ অথবা ফল রাখা যেতে পারে।

৩. নাশতায় প্রোটিন না রাখা

সকালের খাবারে প্রোটিনের অভাব আরেকটি সাধারণ ভুল। অনেকেই শুধু রুটি, পাউরুটি বা সিরিয়াল খেয়ে নাশতা শেষ করেন। অথচ ডিম, দুধ, টক দই, ডাল এবং বাদামের মতো খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস। এগুলো খাবারের পুষ্টিমান বাড়াতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।

৪. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া

সকালে মিষ্টি চা, মিষ্টি বিস্কুট, কেক, ডোনাট অথবা চিনিযুক্ত সিরিয়াল খাওয়ার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় আঁশ ও প্রোটিন কম থাকে। ফলে দ্রুত ক্ষুধা লাগতে পারে। হার্ভার্ড হেলথের পরামর্শ অনুযায়ী, সিরিয়াল কেনার সময় উপাদান ও পুষ্টিগুণের তালিকা দেখে কম চিনিযুক্ত এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া উচিত।

৫. আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাদ দেওয়া

অনেকের নাশতায় শাকসবজি ও ফলমূলের উপস্থিতি থাকে না। অথচ ফল, সবজি, ওটস এবং গোটা শস্যজাতীয় খাবার আঁশের ভালো উৎস। এসব খাবার হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি অনুভব করতে সাহায্য করে। তাই সকালের নাস্তায় একটি ফল অথবা সবজি রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে।

৬. একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া

সকালের নাশতা বাদ দিয়ে দীর্ঘ সময় পর একসঙ্গে অনেক খাবার খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। আবার কেউ কেউ দিনের শুরুতেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাজাপোড়া, পরোটা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খান। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। তাই নিজের ক্ষুধা ও দৈনন্দিন কাজের চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি।

৭. পানি পান করতে ভুলে যাওয়া

রাতের দীর্ঘ বিরতির পর সকালে অনেকেই পানি পান করার কথা ভুলে যান। দিনের শুরুতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের অভ্যাস রাখা ভালো। নাশতার পাশাপাশি এক গ্লাস পানি পান করা যেতে পারে। তবে চা বা কফিকে পানির বিকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

তাহলে সকালের নাশতায় কী খাবেন?

সকালের নাশতায় খুব দামি অথবা বিশেষ কোনো খাবার রাখার প্রয়োজন নেই। পরিচিত খাবার দিয়েই পুষ্টিকর নাস্তা তৈরি করা সম্ভব। যেমন—

একটি বা দুটি সেদ্ধ ডিম, আটার রুটি ও সবজি।

দুধ দিয়ে ওটস এবং সঙ্গে একটি কলা।

টক দই, মৌসুমি ফল ও অল্প কিছু বাদাম।

সবজি দিয়ে তৈরি ডিমের অমলেট ও আটার পাউরুটি।

ডাল, রুটি ও মৌসুমি সবজি।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রকাশিত হেলদি ব্রেকফাস্ট আইডিয়াস টু সাপোর্ট এনার্জি অ্যান্ড মেটাবলিজম শীর্ষক প্রতিবেদনে সকালের নাশতায় প্রোটিন, আঁশসমৃদ্ধ শর্করা এবং ফলমূল ও সবজি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) পরামর্শেও কম চিনি ও বেশি আঁশযুক্ত খাবার বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতা মানেই বেশি খাবার খাওয়া নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে সুষম খাবার বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন কাজ ও পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী নাস্তায় খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মদিনায় ২৫০ অত্যাধুনিক ছাতার নিচে ছায়া পাবেন দুই লাখের বেশি মুসল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


মদিনায় ২৫০ অত্যাধুনিক ছাতার নিচে ছায়া পাবেন দুই লাখের বেশি মুসল্লি

মদিনার মসজিদে নববীর স্থাপত্য ও আধুনিক প্রকৌশল ব্যবস্থার একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে বিশাল আকারের ভাঁজযোগ্য ছাতাগুলো। এই ছাতাগুলো নান্দনিক নকশা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত, যা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের তীব্র রোদ, বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করছে। একই সঙ্গে, মসজিদের চারপাশের প্রাঙ্গণে ইবাদত ও চলাচলের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, মসজিদে নববীর চারপাশে মোট ২৫০টি ভাঁজযোগ্য ছাতা স্থাপন করা হয়েছে। এই ছাতাগুলোর সম্মিলিত আচ্ছাদিত এলাকা এক লাখ ৪৩ হাজার বর্গমিটারের বেশি। প্রতিটি ছাতার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ২৫.৫ মিটার, উচ্চতা প্রায় ২২ মিটার এবং ওজন প্রায় ৪০ টন। এসব ছাতার নিচে একসঙ্গে দুই লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি মুসল্লির স্থান সংকুলান সম্ভব।

ছাতাগুলো শুধু রোদ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই নয়, বরং বৃষ্টির সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ প্রকৌশলগত নকশায় তৈরি হওয়ায় এগুলো মুসল্লিদের সরাসরি বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি, বাতাস, বৃষ্টি ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে পুরো ব্যবস্থা।

ছাতার সঙ্গে সমন্বিত রয়েছে আধুনিক পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, যা মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকা এবং মেঝে পিচ্ছিল হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ছাতাগুলো বেশ আধুনিক। বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের মাধ্যমে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। সূর্যোদয়ের সময় ছাতাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং সূর্যাস্তের আগে বন্ধ করা হয়।

মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ছাতাগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত শীতলীকরণব্যবস্থাও। ছাতার পাশ বরাবর স্থাপন করা হয়েছে ৪৩৬টি মিস্ট ফ্যান। প্রতিটি ফ্যানে রয়েছে পরিশোধিত পানি ছিটানোর জন্য ১৬টি করে নজল। পাশাপাশি, পুরো ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছে এক হাজারেরও বেশি আলোক ইউনিট। এসব প্রযুক্তি প্রাঙ্গণের পরিবেশকে তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক রাখতে সহায়তা করে।

ছাতাগুলোর নির্মাণশৈলীতেও আধুনিক প্রকৌশল ও ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। এগুলোর কাঠামোতে ফাইবারগ্লাস ও কার্বন ফাইবার দিয়ে শক্তিশালী করা ধাতব সাপোর্ট এবং হাতল ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু অংশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মোজাইক অলংকরণ। এ ছাড়া আলংকারিক উপাদানে ব্যবহার করা হয়েছে স্বর্ণের প্রলেপযুক্ত তামা। ফলে স্থাপনার নান্দনিক সৌন্দর্য বজায় রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো ছাতা ব্যবস্থাটি পরিচালিত হয় একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পাওয়ার হাউসে’ গতি ফেরাতে প্রশাসনে আসছে বড় পদোন্নতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


‘পাওয়ার হাউসে’ গতি ফেরাতে প্রশাসনে আসছে বড় পদোন্নতি

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতির সঙ্গে আমলাতন্ত্রের সক্ষমতা মিলছে না। দক্ষতা ও গতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে কিছু কর্মকর্তা সমস্যায় পড়ছেন। পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ‘পাওয়ার হাউস’ খ্যাত অতিরিক্ত সচিব পদে দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় কাজে গতি আনতে অতিরিক্ত সচিব পদে বড় ধরনের পদোন্নতি আসছে।

এই স্তরে পদোন্নতির জন্য ৩ শতাধিক যুগ্মসচিবের নথি বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি তথা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) কাছে জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে এসএসবি কর্মকর্তারা অতীত পোস্টিং রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে শর্ট লিস্ট করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতই এই পদোন্নতি প্রদান করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অন্যান্য বিষয় যেন দক্ষতা ও যোগ্যতাকে ছাপিয়ে না যায়। যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। অতীতের মতো উপযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত হলে সরকারের কাজে প্রত্যাশিত গতি ফিরবে না।

তারেক রহমান, নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে যে ঘোষণা করেছিলেন, ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’; প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচিবালয়ে অফিস করছেন তিনি। এসএসবি প্রধান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নাসিমুল গনি ইতোমধ্যে কয়েকটি সভা করে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির তথ্য যাচাই-বাছাই করেছেন। আরো কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জিও জারি করবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই পদোন্নতির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এসএসবি মাধ্যমে সুপারিশ আসবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, মেধাবী ও যোগ্যরা পদোন্নতি পাবেন।

জানা গেছে, প্রশাসনে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ২১ বিসিএস ব্যাচকে সামনে রেখে এ পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। ২০০৩ সালের ৩১ মে যোগদান করা এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রশাসন ক্যাডারে ২ শতাধিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। বর্তমানে ২১ ব্যাচ থেকে ১৭০ জনের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ ব্যাচসহ অন্যান্য লেফট আউট হিসেবে আরো দেড় শতাধিক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ২০ ব্যাচের কর্মকর্তাদের সংখ্যা বেশি। সর্বশেষ গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ বছরের জানুয়ারি মাসে নির্বাচনের আগে অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এতে ২০ ব্যাচ থেকে প্রায় ১৮০ কর্মকর্তা বঞ্চিত হন।

বিগত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক থাকার কারণে অনেক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যেই বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ২০ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতির আশায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩ শতাধিক কর্মকর্তার চাকরির অতীত ও বর্তমান তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এসএসবি। কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের সার্বিক তথ্য-উপাত্ত বা ‘ডসিয়ার’ বিশ্লেষণ করছে সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিব পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’ অনুযায়ী অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য যুগ্মসচিব হিসেবে অন্তত দুই বছরসহ মোট চাকরির মেয়াদ ২২ বছর হতে হবে। ২০২২ সালে যুগ্মসচিব পদোন্নতি পান ২১ ব্যাচের কর্মকর্তারা।

এদিকে পদোন্নতির আশায় গত কয়েকদিন ধরে পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তারা এসএসবি সদস্যদের কাছে গিয়ে সালাম বিনিময় করে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। বিশেষ করে জনপ্রশাসনে এ ভিড় একটু বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, সচিবের কাছে যাচ্ছেন, দোয়া চাচ্ছেন। কিছু কর্মকর্তা অতীত জীবনের সরকারের দলের জন্য রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরছেন। বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকর্তারও দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রয়েছে, তারাও ঘুরছেন। কারো কারো বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি থেকে নাকচ হলেও পদোন্নতির জন্য সিনিয়র কর্মকর্তার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে দেখা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত সচিবের বর্তমান পদ ৪১৮টি। সর্বশেষ পদোন্নতির পর অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ শতাধিক। এর মধ্যে অনেকেই অবসরে যাচ্ছেন এবং পদের সংখ্যা কমে আসছে। অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের চেয়ে প্রশাসনে কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি রাখা হয়, কিন্তু বর্তমানে সংখ্যা কম রয়েছে। এজন্য সচিবালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উইংয়ে শূন্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া মন্তব্য করেছেন, যাচাই-বাছাইয়ের নামে দলীয় বিবেচনা যেন না করা হয়। প্রশাসনে মেধার ঘাটতি হলে দেশ সংকটে পড়বে। প্রশাসনে পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে নিরপেক্ষ আচরণ শুরু করতে হবে। কে ডিসি ছিল, কার পিএস ছিল এসব না দেখে ওই ব্যক্তি কতটা প্রফেশনাল, কতটা দক্ষ, এসবই দেখা উচিত। পদোন্নতি না পেলে কষ্টটা কেমন হয়, নিশ্চয়ই এসএসবি বোর্ডের অনেকেই জানেন। কোনো ব্যাচমেটের কথা শুনে বা কারও ব্যক্তিগত আক্রোশ যেন কোনো প্রার্থীর ওপর না আসে।

বিনা কারণে কাউকে যেন বঞ্চিত করা না হয়। সৎ, কর্মদক্ষ, যোগ্য ও মেধাবীরা যাতে কোনোভাবে বঞ্চিত না হন, সেই নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে। পদোন্নতিতে কর্মকর্তারা আরো উৎসাহিত হবেন কাজে, বলেন তিনি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%