মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৫০ পি.এম
ন্যাশনাল ব্যাংক, যা বেসরকারি খাতের আর্থিক সংকটে ভুগছে, সোনালী ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে এই অর্থ তিন মাসের জন্য প্রদান করা হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান মন্তব্য করেন, "ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোনালী ব্যাংক শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়েছে। মেয়াদ শেষে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে। ফলে এ অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের কোনো ঝুঁকি নেই। এর আগেও ইসলামী ব্যাংকগুলোকে একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।"
ন্যাশনাল ব্যাংক একসময় বেসরকারি খাতের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন ঘটে। পরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ সিকদার পরিবারের হাতে চলে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির পর্ষদে আবার পরিবর্তন আসে। তবে সিকদার পরিবারের সময়কার অনিয়ম ও লুটপাটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকটি সক্ষম হয়নি। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক সূচকগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। টানা লোকসানের পাশাপাশি আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকটি।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও ধারাবাহিক লোকসানে থাকা ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রাখতে বড় অঙ্কের তারল্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবুও ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেন পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী তাঁদের জমা টাকা তুলতে না পেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয় তাঁদের সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা উত্তোলন নিশ্চিত করতে।
এমন পরিস্থিতিতে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক। সাক্ষাৎকালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গভর্নর ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান। তিনি আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির সব আমানতকারী যাতে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ওই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে সেই দায় মেটাতে হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ হিসেবে ওই অর্থ দায় তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থের পুরোটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা সৃষ্টি করে দিয়েছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ধরনের সহায়তা তাৎক্ষণিক অর্থসংকট মেটাতে ভূমিকা রাখলেও ঋণ আদায় ও আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হলে দীর্ঘমেয়াদে সংকট কাটানো কঠিন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সৈকত হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এই অবিচ্ছিন্ন ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত, যেখানে প্রতিটি ঢেউ নতুন গল্প, আনন্দ এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেন, তবে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা খুবই কম।
পর্যটকরা জানান, কক্সবাজারে সমুদ্র উপভোগের বাইরে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এই কারণে তারা ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’ আয়োজন করছে পর্যটন কর্পোরেশন।
কক্সবাজার শহরের হোটেল শৈবালের সমুদ্র সৈকত ও ঝাউবনের বিস্তৃত প্রান্তরে ৩৫ একর জায়গাজুড়ে এই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে। ১ নভেম্বর শুরু হয়ে এই আয়োজন চলবে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য দিনে ও রাতে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন থাকবে।
কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল উদযাপনের লক্ষ্যে গতকাল সোমবার (১৩ অক্টোবর) পর্যটন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পর্যটন কর্পোরেশন।
এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, পর্যটন কর্পোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. গনী উল আজম, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আব্দুর রউফ মিয়া, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান।
এ সময় পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুন ও ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপন এবং বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের এই কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। বিগত বছরগুলোতে এখানে বছরজুড়ে পর্যটকের আগমন বেড়েছে, কিন্তু বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তেমন বৃদ্ধি পায়নি। তাই হলিডে সিজনে লাখো পর্যটকের প্রাণচাঞ্চল্যে এবার কক্সবাজারে নতুন অভিজ্ঞতার আয়োজন থাকবে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় এই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।
পর্যটন কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কার্নিভালের মূল আকর্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে: ফুড জোন, যেখানে দেশি-বিদেশি খাবার, লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম পার্লার ও জুস কর্নার থাকবে; মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্য এবং স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি শিল্প থাকবে- যেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। সৃষ্টির অভিজ্ঞতায়; ওয়েলনেস জোনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন; কিডস জোনে আর্ট, নিরাপদ রাইড ও বিভিন্ন মজার কার্যক্রম; ক্যাম্পিং জোনে নাইট-স্টে ক্যাম্পিং, ওপেন-স্কাই লাইব্রেরি, সেলফ-বারবিকিউ, হ্যামক, ক্যাম্পফায়ার এবং টেলিস্কোপে তারাভরা আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা থাকবে।
এছাড়াও লাইভ আর্ট ও ফটো গ্যালারি, ওপেন-স্কাই মুভি থিয়েটার, ভিআর জোন, সার্কাস টেন্ট, কায়াকিং, লাইভ-বাঞ্জিং, গো-কার্ট, বিচ ফুটবল, বিচ হ্যান্ডবল, বিচ ভলিবল, বিচ কাবাডি, ব্যাডমিন্টন এবং স্যান্ড স্কাল্পচার থাকবে।
বিশেষ দিনের উদযাপনে বিজয় দিবস উদযাপন, হ্যাপি নিউ ইয়ার, হলি ক্রিসমাস অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আরও থাকছে বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটার; যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে সমুদ্রে সূর্যাস্তের সোনালি আলো আর বাঁশির সুরে হারিয়ে যাওয়ার নতুন অভিজ্ঞতা হবে।
পর্যটন কর্পোরেশনের মালিকানাধীন হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ বাসসকে জানান, তারা কেবল একটি কার্নিভাল আয়োজন করতে চান না, বরং কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করতে চান। সমুদ্র, সূর্যাস্ত, ঝাউবন থাকবে- এর সঙ্গে যুক্ত হবে খাবার, সংগীত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, অ্যাডভেঞ্চার এবং পারিবারিক বিনোদন।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুর বাসসকে বলেন, থাইল্যান্ডের ফুকেট-পাতায়া, মালয়েশিয়ার লংকাউই, ভারতের গোয়া, ইন্দোনেশিয়ার বালি, নেপাল ও ভুটানসহ বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোতে রাতের বিনোদন ও লাইভ মিউজিক থাকে। বিদেশি পর্যটক টানতে কক্সবাজারেও রাত্রিকালীন বিনোদন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বাসসকে বলেন, কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ্বময় করার প্রক্রিয়া নির্ধারণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যেতে সবার সমন্বিত পরামর্শ নিয়ে কাজ করা হবে। এভাবেই কক্সবাজার অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ফেসবুক পেজ, ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট ক্রয় করলে প্রতারণা বা আর্থিক ক্ষতির শিকার হলে সংস্থাটি এর দায় নেবে না। যাত্রীদের সতর্ক করে বাংলাদেশ রেলওয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত মাধ্যম থেকে টিকিট কেনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি, বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রেনের টিকিট ক্রয় করতে হবে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট (https://eticket.railway.gov.bd), ‘রেল সেবা’ অ্যাপ অথবা অনুমোদিত টিকিট কাউন্টার থেকে। এসব মাধ্যমের বাইরে টিকিট কেনা বা কেনার চেষ্টা করতে গিয়ে যদি কোনো আর্থিক ক্ষতি, প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার কিংবা অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়, তাহলে এর দায়ভার বাংলাদেশ রেলওয়ে বহন করবে না।
এছাড়া, যাত্রীদের পাসওয়ার্ড, ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যসহ অন্যান্য গোপনীয় তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
নিরাপদে ট্রেনের টিকিট ক্রয় এবং প্রতারণা এড়াতে যাত্রীদের সব সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের বিরোধী দলগুলোর নেতাদের চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি মঙ্গলবার নিজের বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সংসদ সদস্য, ছাত্র সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান।
রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘আজ আমি আমার বাড়িতে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের, ছাত্র সংগঠনগুলোকে এবং সুশীল সমাজের বন্ধুদের চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
পোস্টে রাহুল আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র রক্ষার এই গণআন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন এবং আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। চা পানের এই আয়োজন শেষে নেতারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলোর নেতারা। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এ দাবি উঠেছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) অভিযান চলাকালে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার এসব সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।
প্রতিবেদনটি সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
রাহুল গান্ধীর চা-আড্ডার আয়োজনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর নেতাদের পাশাপাশি ছাত্র সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন, দেশের মৎস্য ও কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে শিক্ষার্থীদের প্রচলিত জ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণায় মনোনিবেশ করা উচিত।
আজ বিকেলে চাঁদপুরের মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটে মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেছেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে আজকের শিক্ষার্থীরা। তাদের হাত ধরেই দেশ আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। তাই বর্তমান প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পূর্ববর্তী প্রজন্মের অর্জন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর দেশ গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একসময় পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা শিক্ষক হওয়ার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেত। তবে বর্তমানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব খাতে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা সম্ভব। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মৎস্য ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণালব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে প্রয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যপণ্য রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য শুধু প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল থাকলে চলবে না। পরিকল্পিত উৎপাদন, উন্নত জাত উদ্ভাবন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
কৃষি ও মৎস্য খাতে কীটনাশকসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। এসব খাতে মেধাবী ও আগ্রহী তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী মৎস্য ও কৃষি খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা সম্ভব।
এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বাবুল কৃষ্ণা ওঝা, মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বি. এম. মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদী কেন্দ্র চাঁদপুর পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ