১১:১২ এম
বরিশালে বয়োবৃদ্ধদের জন্য নির্মিত ‘শান্তি নিবাস’ কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটির জনবল মঞ্জুরির বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তবে ৮টি বিভাগীয় সদরে নির্মিত এসব শান্তি নিবাস এখনো রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত না হওয়ায় পরিচালন ব্যয় নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে বরিশালসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় সদরে বৃদ্ধাশ্রমের আদলে নির্মিত ‘শান্তি নিবাস’গুলোতে অসহায় বয়োবৃদ্ধদের আবাসন সুবিধা চালু করা সম্ভব হবে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় থাকার কারণে এ শান্তিনিবাসের অবকাঠামোর অনেক কিছু বিনষ্ট হয়েছে এবং কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। নির্মাণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব মেরামত না করে প্রতিষ্ঠান চালু করতে গেলে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তর বা সমাজসেবা অধিদপ্তর সরাসরি কোনো মেরামত ও পুনর্বাসন কাজ করতে পারছে না, কারণ এ খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই।
সরকারের নিজস্ব অর্থে বরিশালসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় সদরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শান্তি নিবাস’র অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু ৫ বছর আগে নির্মিত এসব শান্তি নিবাসগুলো চালু না হওয়ায় সেখানে কেউ ঠাঁই পায়নি। সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে নির্মিত এসব শান্তি নিবাসে ৫ তলা ভিতের ওপর নির্মিত ৩ তলা ভবনগুলোতে ২৫ জন করে অসহায় দুস্থ বয়োবৃদ্ধের আবাসন সুবিধা তৈরি হয়েছে। সরকারি এসব বৃদ্ধাশ্রমের নাম দেয়া হয়েছে ‘শান্তি নিবাস’। প্রতিটি শান্তি নিবাসে নিবাসীদের জন্য তিন বেলা আহার এবং আবাসন সুবিধা ছাড়াও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি এসব শান্তি নিবাসে প্রার্থনা কক্ষ ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর আশা করছে, একজন বয়োবৃদ্ধ যেন জীবনের শেষ সময়ে এসে এসব শান্তি নিবাসে কিছুটা সাচ্ছন্দে ও সুস্থ অবস্থায় দিন কাটাতে পারেন।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে খাস জমিতে ১৮ দোকান, ইজারা না হওয়ায় বন্ধ রাজস্ব আদায়
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মতে, জীবনের শেষ সময়ে অনেক পিতামাতাকেই সন্তানের বোঝা মনে করে তাদের প্রতি অবহেলা করা হয়। আবার অনেক পরিবারে সন্তান-সন্ততিও নেই। ফলে অসহায় মা-বাবার ভরণপোষণের জন্য কেউ থাকে না। অনেক পিতা-মাতা সন্তানের লেখাপড়ায় সব সহায়-সম্পদ বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যান। অথচ সেই সব সন্তানেরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অসহায় পিতা-মাতার খোঁজ নেয় না। দক্ষিণাঞ্চলের নদীভাঙনী অনেক অসহায় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হন। বরিশালসহ দেশের ৮টি বিভাগীয় সদরে ‘শান্তিনিবাস’ নির্মিত হলেও বিগত ৫ বছর তা অবহেলায় পড়েছিল।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার পর জনবল মঞ্জুরি প্রদানের জন্য সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব শান্তি নিবাসে ২৫ জন করে পুরুষ নিবাসীর নিরাপদ আবাসনসহ চিকিৎসা ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি শান্তি নিবাসে একজন উপ-তত্ত্বাবধায়কসহ ১০ জনের জনবল মঞ্জুরি প্রদান করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালক জানান, বরিশালসহ ৮টি শান্তিনিবাসের জনবল মঞ্জুরির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু হবে। তবে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে পরিচালন ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হলেও সমাজসেবা অধিদপ্তর অদূর ভবিষ্যতে তার সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে। চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই বরিশাল শান্তি নিবাস নিবাসীদের জন্য খুলে দেয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন