মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:০৪ পি.এম
হানি ট্র্যাপ প্রতারণার ঘটনায় জড়িত তিন নারীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনে থাকা একাধিক রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই সংঘবদ্ধ চক্রটির সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ এবং বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের বেশ কয়েকজন অনুসারী ও নেতার নাম এই চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।কুমুদিনী কলেজ,ফজিলাতুন্নেছা কলেজের বেশ কিছু নারী এবং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষকদের এই চক্রে জড়িত হবার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো তাদের গ্রেফতার করতে বা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, অপরাধ চক্রটিকে আড়াল করতে এবং তদন্তের মুখ ঘুরিয়ে দিতে আড়ালে সক্রিয় রয়েছে একাধিক প্রভাবশালী বলয়। বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সাধারণ সদস্যদের গ্রেফতার দেখানো হলেও চক্রটির মূল পৃষ্ঠপোষকদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
তবে এসব অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা তথ্য প্রদান করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের উর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে এই হানি ট্র্যাপ চক্রের সাথে জড়িত আরও অনেক হেভিওয়েট ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্কো সফরে যেতে পারেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সোমবার জানিয়েছে, সফরটির প্রস্তুতি চলছে। তবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শাহবাজ শরিফের রাশিয়া সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত মার্চে তার মস্কো সফরের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইসলামাবাদ সেই সফর স্থগিত করে। পরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে সফরের নতুন তারিখ নির্ধারণের কথা ছিল।
পাকিস্তান দুইটি বড় নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হওয়ায় সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান পুরো অঞ্চলে সংকট সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং ইরান থেকে পাকিস্তানি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য মস্কো সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আফগানিস্তান নিয়েও পুতিন ও শাহবাজ শরিফের আলোচনা হতে পারে।
সম্প্রতি পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ দেখা গেছে। গত ১২ অক্টোবর রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ ইসলামাবাদ সফর করেন এবং পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের ‘ইতিবাচক অগ্রগতিতে’ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও রাশিয়া জ্বালানি, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি এবং বাণিজ্য খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে কিছু বাধা রয়েছে।
বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অর্থ পরিশোধের কার্যকর পদ্ধতি এবং সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় শাহবাজ শরিফের সম্ভাব্য মস্কো সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে পারস্পরিক অবস্থান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সফরের সময়সূচি ও আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার হওয়া ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, যা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম এবং সদস্য সচিব বায়েজীদ আল আমিন স্বাক্ষরিত, জানানো হয় যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার অধীনস্থ ১নং ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ও একটি ১৫০ সিসি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ উদয় এবং মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে রোববার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মাদক মামলার মতো একটি স্পর্শকাতর অপরাধে দলের নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমন দাবি করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।
তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে ‘কোটা আন্দোলনের’ পক্ষে ছিলেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার একটি আদালতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলার শুনানি শেষে গণমাধ্যমের সামনে এই দাবি করেন তিনি।
পলকের আইনজীবী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম ছিল না। তার দাবি, পলক এ মামলায় নির্দোষ এবং জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘কোটা’ বিরোধী আন্দোলনে তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন।
আদালতে শুনানি শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আইনজীবী এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।
তবে আইনজীবীর এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মামলার অভিযোগ, আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীন তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীর পানিপ্রবাহের বৃদ্ধি ঘটতে পারে, যা চলতি শতাব্দীতে ভারত ও বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে চীনা গবেষকরা সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তসীমান্ত নদীর পানি নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের সোমবারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চীনের বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী চায়না সায়েন্স বুলেটিন-এ গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক গবেষণায় নদীটির অতীত পানিপ্রবাহ এবং ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষক দলটি, যা চীনের বিজ্ঞান একাডেমি ও ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের নিয়ে গঠিত, দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত মালভূমির গাছের বর্ষবলয়ের তথ্য ব্যবহার করে ১৩২৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নদীপ্রবাহের পুনর্গঠন করেছে। জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে এসব উপাত্ত মিলিয়ে ভবিষ্যতের বিভিন্ন জলবায়ু পরিস্থিতিতে নদীটির পানিপ্রবাহ কেমন হতে পারে, তা মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভবিষ্যতে নদীটির পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের ঘটনা, যেমন বন্যা, আরো ঘন ঘন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকদের মতে, নদীটির পানিপ্রবাহের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন সম্পর্কে এ বিশ্লেষণ ভবিষ্যতের পানিসম্পদসংক্রান্ত ঝুঁকি মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করবে।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতের পানিপ্রবাহের সম্ভাব্য পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে পানিসম্পদ উন্নয়ন ও পানি সংরক্ষণের অবকাঠামো পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে একাধিক দেশের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে সৃষ্ট ঝুঁকিও মূল্যায়ন করতে হবে।
তিব্বত মালভূমিতে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে চীনা গবেষকরা উল্লেখ করেছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলের বরফের আচ্ছাদন এবং পানিচক্রে পরিবর্তন ঘটছে। তাদের ভাষ্য, ইয়ারলুং সাংপো নদীর অববাহিকায় জলবায়ু উষ্ণায়নের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পানিপ্রবাহের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তিব্বতে নদীটি ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত। ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর এটি প্রথমে অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নামে এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটি ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে এর পানিপ্রবাহের পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার বন্যা ও খরার পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
১৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের প্রকল্প
ব্রহ্মপুত্রের ওপর চীনের নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ১৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। প্রকল্পটি তিব্বতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্তের কাছাকাছি মেডোগ বা চীনা নামের মোটুও জেলায় নির্মাণ করা হচ্ছে।
হিমালয় অঞ্চলে নদীটি একটি গভীর গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তীক্ষ্ণ ইউ-আকৃতির বাঁক নিয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের দিকে এগিয়েছে। এই ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়েই বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এর স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৬০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে হিসাবে এটি চীনের থ্রি গর্জেস বাঁধের প্রায় তিন গুণ সক্ষমতার হতে পারে। বর্তমানে স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতার বিচারে থ্রি গর্জেস বাঁধ বিশ্বের বৃহত্তম চালু জলবিদ্যুৎকেন্দ্র।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে পরিবেশগত ও ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকির উদ্বেগ রয়েছে। গত জুলাইয়ে চীনা ভূতত্ত্ববিদেরা সতর্ক করেছিলেন, প্রস্তাবিত বাঁধের ঠিক নিচ দিয়ে একটি সক্রিয় ভূ-চ্যুতি রেখা চলে গেছে, যা প্রকল্পটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ভূতত্ত্ববিদেরা বাঁধ নির্মাণে ভূমির ঢালের স্থিতিশীলতা জোরদার এবং ভূমিধস ও ধসের ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি
হিমালয় অঞ্চলের ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও প্রকল্পটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। বরফ ও পাথরের ধসের কারণে অস্থায়ীভাবে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার পর সেই বাধা ভেঙে বন্যা সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দুর্যোগে নেপাল ও চীনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ ভূত্বকীয় পাতের সংযোগস্থলের কাছে প্রকল্পটির অবস্থান হওয়ায় নির্মাণকাজে বড় ধরনের প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা সত্ত্বেও চীন প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগের জবাবে বলেছে, এর ফলে ভাটির দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কয়েক দশকের গবেষণা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ মোকাবিলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বেইজিং।
তবে নতুন গবেষণায় ব্রহ্মপুত্রের ভবিষ্যৎ পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং বন্যার ঝুঁকি নিয়ে যে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, তা নদীটির ওপর নির্ভরশীল ভারত ও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন, বাঁধ নির্মাণ এবং আন্তসীমান্ত পানিব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো এ অঞ্চলে ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ