০৩:০৭ পি.এম
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও যদি হিজবুল্লাহ ইসরাইলি জনপদে হামলা করে, তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আঘাত হানবে। তিনি এ মন্তব্যটি তখন করেন যখন ইসরাইল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
কাৎজ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, এই মুহূর্তে সেনাবাহিনী গুলিবর্ষণ এবং স্থল অভিযান চালিয়ে যাবে এবং দক্ষিণ লেবাননে 'ইয়েলো লাইন' বরাবর (যেমন বিউফোর্ট এলাকা) অবস্থান অব্যাহত রাখবে। সেখানে লেবাননের বেসামরিক জনগণের ফিরে আসা নিষিদ্ধ থাকবে। তাঁর মতে, স্থলভাগে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করাও অব্যাহত থাকবে।
উনি আরও বলেছেন, যদি ইসরাইলি জনপদ ও ভূখণ্ডে গুলি চালানো হয়, তবে আমেরিকার সমর্থনসহ বৈরুতে আঘাত হানার ব্যাপারে ইসরাইলি বাহিনীর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।
আরও পড়ুন: ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি জানাল ৫০০ জনের মানববন্ধন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে উভয় দেশ তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি চুক্তি'তে পৌঁছেছে। এক যৌথ বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়া হিজবুল্লাহর হামলা সমাপ্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার জন্য হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে।
বিবৃতিতে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২২ জুনের পর দুই পক্ষ আবারও পরবর্তী দফার আলোচনায় বসবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। লেবানন জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের প্রতি কোনো বৈরী উদ্দেশ্য রাখে না এবং হিজবুল্লাহকে 'লেবানন রাষ্ট্রের শত্রু' বলে মনে করে।
এছাড়া, দুই দেশ কিছু 'পাইলট জোন' প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এই এলাকাগুলি লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানবে না।
আরও পড়ুন: ধুনটে পাঁচ কোটি টাকার সড়ক কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
হিজবুল্লাহ আগেও জানিয়েছে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা মতামত প্রকাশ করছেন, খুব সম্ভবত ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইল-লেবানন সমঝোতার দিনও সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল। হিজবুল্লাহ জানায়, তারা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন