ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা, নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্য গ্রেপ্তার


পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা, নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্য গ্রেপ্তার

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতাকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের ৩৩ জন সদস্য গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য প্রকাশ করেন।

পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, পাশাপাশি মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দল ছাড়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

২ নভেম্বর, রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তারের নেতৃত্বে এশিয়া কাপের দল ঘোষণা বিসিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৭ পি.এম


নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তারের নেতৃত্বে এশিয়া কাপের দল ঘোষণা বিসিবির

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে আইসিসি উইমেন্স ইমার্জিং নেশনস ট্রফিতে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ নারী দলের স্কোয়াড। এই টুর্নামেন্টটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আগামী ১০ নভেম্বর দেশ ত্যাগ করবে।

তবে, আসরের শুরু হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশ দলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে; অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে নতুন দলনেতা হিসেবে স্পিনার নাহিদা আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও জ্যোতি নেতৃত্ব ছাড়ছেন, তবুও তাকে এবারের ইমার্জিং ট্রফির দলে রাখা হয়েছে।

বিসিবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশন এবং টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। ঘোষিত দলে নাহিদার সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সোবহানা মোস্তারী।

বাংলাদেশ স্কোয়াড :

নাহিদা আক্তার (অধিনায়ক), সোবহানা মোস্তারী (সহ-অধিনায়ক), নিগার সুলতানা জ্যোতি, শারমিন আক্তার সুপ্তা, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, দিলারা আক্তার, রাবেয়া খান, দিশা বিশ্বাস, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, ফাহিমা খাতুন, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, সানজিদা আক্তার মেঘলা এবং সাথী রানী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউসুফ (আ.)-এর মাজারে ই-স-রা-ই-লি সেনাবাহিনীর অভিযানে নতুন সংকটের সৃষ্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


ইউসুফ (আ.)-এর মাজারে ই-স-রা-ই-লি সেনাবাহিনীর অভিযানে নতুন সংকটের সৃষ্টি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর মাজার হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সম্প্রতি শহরের পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে সেনারা মাজারটিতে অভিযান চালায়। একই সময়ে আশপাশের বাড়িঘরেও তল্লাশি কার্যক্রম চলে।

নাবলুসের পূর্বাঞ্চলে সেনারা ইউসুফের মাজার এবং আসকার আল-বালাদ এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালায়। একই দিনে শহরের দক্ষিণে অবস্থিত বুরিন গ্রামে টানা চতুর্থ দিনের মতো সামরিক অভিযান অব্যাহত ছিল। সেখানে কয়েকটি বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বাড়ির জিনিসপত্র তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে। নাবলুসের বাইরেও বেথলেহেমের কয়েকটি এলাকায় ইসরাইলি সেনারা অভিযান চালিয়েছে। তুলকারেম অঞ্চলের কাফর আবুশ ও কাফর সুর থেকে চার ফিলিস্তিনিকে আটক করার খবরও ওয়াফা প্রকাশ করেছে। তবে ইউসুফের মাজারে অভিযানের সময় কাউকে আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাজারটি এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে। ফলে সেখানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রবেশ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনায় অভিযান নয়; এটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

নাবলুসের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত স্থাপনাটি মুসলমানদের কাছে মাকাম ইউসুফ বা হজরত ইউসুফ (আ.)-এর মাজার হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, ইহুদি ধর্মীয় ঐতিহ্যে এটি বাইবেলীয় নবী জোসেফ বা ইউসুফের সমাধিস্থল হিসেবে বিবেচিত। ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মিসর থেকে তার দেহাবশেষ এনে এখানে সমাহিত করা হয়েছিল।

মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও সামারিটান—বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাছে স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে এর প্রকৃত সমাধিস্থলগত পরিচয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইহুদি ঐতিহ্যে এটি পিতৃপুরুষ ইউসুফের সমাধি হিসেবে পরিচিত হলেও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় বর্তমান স্থাপনাটিকে মূলত কয়েক শতাব্দী পুরোনো ইসলামি মাজার স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০১৯ সালে প্রকাশিত গবেষণায় লোয়াই আবু আলসাউদ ও আমের আল-কুব্বাজ দেখিয়েছেন, স্থাপনাটি দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এর বর্তমান স্থাপত্য মূলত উসমানীয় আমলের ইসলামি মাজার নির্মাণশৈলীর বৈশিষ্ট্য বহন করে। গবেষকদের মতে, এখানে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর দেহাবশেষ থাকার প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অতএব, স্থানটির ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সম্মান করা এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক পরিচয় সম্পর্কে প্রমাণনির্ভর থাকা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

ইউসুফের মাজারকে ঘিরে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সূচনালগ্নে ২০০০ সালের অক্টোবর মাসে স্থাপনাটি বড় ধরনের সংঘর্ষের কেন্দ্রে পরিণত হয়। তখন মাজারটিতে ইসরাইলি নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। সংঘর্ষের মধ্যে ইসরাইলি পক্ষের নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া এবং স্থাপনাটির নিরাপত্তা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জাতিসংঘে ইসরাইলের স্থায়ী প্রতিনিধির ৭ অক্টোবর ২০০০ তারিখের একটি চিঠিতে সে সময়কার ঘটনা ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সে সময় মাজারটির নিরাপত্তা নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল, তার ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে স্থাপনাটি সংস্কার করা হয়। ২০০৫ সালের সংঘর্ষের পরও মাজারটির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের কাজ হয়েছে বলে ২০১৯ সালের গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।

১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তিতে পশ্চিম তীরকে এ, বি ও সি—তিন ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এ অঞ্চলে কোথায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকবে, কোথায় ইসরাইলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং কোথায় দুই পক্ষের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ হবে, তা নির্ধারণ করা হয়।

ইউসুফের মাজারের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে ১৯৯৫ সালের অন্তর্বর্তী চুক্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। ২০০০ সালে সংঘর্ষের পর মাজার থেকে ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জাতিসংঘের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পশ্চিম তীরে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে প্রবেশ এবং সামরিক নিরাপত্তার নামে সেনা মোতায়েনের ঘটনা প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

২০২৬ সালের ১ অক্টোবর নাবলুসের একই ইউসুফের মাজারে শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেন। সে সময় আশপাশের বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া, বাড়ির ছাদে স্নাইপার মোতায়েন এবং সামরিক যান দিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখার অভিযোগও ওঠে।

১৩ মে ২০২৬ তারিখেও একই স্থানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশের খবর প্রকাশ করে আনাদোলু এজেন্সি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তায় বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে ধর্মীয় আচার পালন করেন। অভিযানের কারণে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরুর সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এসব ঘটনার সঙ্গে ৩০ অক্টোবরের সামরিক অভিযানের পার্থক্য রয়েছে। অক্টোবরের প্রথম দিনের ঘটনায় মূলত বসতি স্থাপনকারীদের ধর্মীয় আচার পালনের জন্য সেনা নিরাপত্তা দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে ৩০ অক্টোবরের ঘটনায় সেনাবাহিনী নিজেই মাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। দুটি ঘটনাকে এক করে দেখলে বাস্তব পরিস্থিতি অস্পষ্ট হয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে বিষয়টি

১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলাধীন ভূখণ্ড হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে বিবেচিত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ২৭ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং ৫৩ অনুচ্ছেদে দখলদার শক্তির দ্বারা ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংসের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা, আনুপাতিকতা ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

একই সঙ্গে ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন এবং এর প্রোটোকলে সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোনো ধর্মীয় স্থাপনায় সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ধর্মীয় অধিকার, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বৃহত্তর পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি

নাবলুসের ঘটনাটি বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেনি। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়মিত অভিযান, বাড়িঘরে তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

৩০ অক্টোবরের ওয়াফার প্রতিবেদনেই নাবলুসের পাশাপাশি বুরিন, বেথলেহেম ও তুলকারেম অঞ্চলে অভিযান পরিচালনার তথ্য রয়েছে। অর্থাৎ সেদিনের ঘটনাটি শুধু একটি মাজারকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ ছিল না; পশ্চিম তীরের একাধিক অঞ্চলে সমান্তরাল সামরিক তৎপরতা চলছিল।

এখানে ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অধিকার পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। সামরিক অভিযান যদি স্থানীয় মানুষের চলাচল, শিক্ষা, বাড়িঘরের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তার প্রভাব একটি স্থাপনার সীমানা ছাড়িয়ে পুরো সমাজে বিস্তৃত হয়।

ঐতিহ্য সংরক্ষণই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার

ইউসুফের মাজারের ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে: কোনো স্থানের ধর্মীয় ইতিহাস নিয়ে একাধিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও দাবি থাকলে সেটি কীভাবে সংরক্ষিত হবে?

ইতিহাসের গবেষণা, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য—প্রতিটি ক্ষেত্রের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অস্বীকার করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ঐতিহাসিক প্রমাণ ছাড়া কোনো স্থাপনার পরিচয়কে এককভাবে প্রতিষ্ঠা করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ধরনের স্থাপনা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, নিরপেক্ষ প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর প্রবেশাধিকার এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সামরিক শক্তির মাধ্যমে ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায় না।

নাবলুসের ইউসুফের মাজার তাই কেবল মুসলমান ও ইহুদিদের ধর্মীয় বিশ্বাসের একটি বিরোধপূর্ণ স্থান নয়; এটি ফিলিস্তিনের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, দখলদারত্ব এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার জটিল বাস্তবতারও প্রতীক। ৩০ অক্টোবরের অভিযান সেই দীর্ঘদিনের সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

তথ্যসূত্র: ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা, আলজাজিরা, আল-কুদস, নিয়ার ইস্টার্ন আর্কিওলজি, মিডল ইস্ট আই, জার্নাল অব হলি ল্যান্ড অ্যান্ড প্যালেস্টাইন স্টাডিজ, জাতিসংঘের নথি ও আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওহাইওতে শিক্ষা তহবিল ব্যবহারে নতুন স্বাধীনতা পেল রাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


ওহাইওতে শিক্ষা তহবিল ব্যবহারে নতুন স্বাধীনতা পেল রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্য শিক্ষা খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে বাড়তি স্বাধীনতা লাভ করেছে। ৩০ অক্টোবর, দেশটির শিক্ষা বিভাগের অধীনে ‘শিক্ষা অঙ্গরাজ্যের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া’ কর্মসূচির আওতায় ওহাইওর বিশেষ অব্যাহতির আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও অঙ্গরাজ্যের অগ্রাধিকার অনুযায়ী শিক্ষা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নতুন অনুমোদনের মাধ্যমে ওহাইও ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় তহবিল একত্র করে ব্যয় করার সুযোগ পাবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম অঙ্গরাজ্য হিসেবে এ ধরনের অনুমোদন অর্জন করল। এর আগে আইওয়া, লুইজিয়ানা, ইন্ডিয়ানা, ভারমন্ট, আরকানসাস, সাউথ ডাকোটা ও মিসিসিপি একই সুবিধা পেয়েছিল। আটটি অঙ্গরাজ্যের জন্য মোট অনুমোদিত তহবিলের পরিমাণ ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি।

ওহাইওর শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অর্থ শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা বৃদ্ধি, দ্রুত শেখার সুযোগ তৈরি, কর্মজীবনের প্রস্তুতি এবং শিক্ষার্থীদের সুস্থতা নিশ্চিত করার কাজে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সরাসরি সহায়তার ক্ষেত্রেও অর্থ ব্যবহারের নিয়ম সহজতর হবে।

আগে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ তিনটি নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করতে হতো—শিক্ষাদান কার্যক্রম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী এসব খাতের এক বা একাধিকটিতে অর্থ ব্যয় করার সুযোগ পাবে। তবে তিন ধরনের সেবাই শিক্ষার্থীদের প্রদান করতে হবে।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পাঠদানের জন্য অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা কমানো হয়েছে। ফলে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তালিকা তৈরির কাজে সময় ব্যয় না করে বিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করতে পারবে অঙ্গরাজ্যটি।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমোহন মন্তব্য করেছেন, "পড়ার দক্ষতা উন্নয়নে প্রমাণভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে ওহাইও ইতিমধ্যে অগ্রগতি দেখিয়েছে।" নতুন সুবিধার ফলে অঙ্গরাজ্যটি নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী কেন্দ্রীয় তহবিল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে সহায়তা করতে সক্ষম হবে।

ওহাইওর শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিভাগের পরিচালক স্টিফেন ডি ড্যাকিন বলেছেন, নতুন সুবিধার ফলে বিদ্যালয় ও স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা, সুস্থতা এবং চাহিদাসম্পন্ন পেশায় কাজের প্রস্তুতির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারবে।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা জয় করে মৌমি পেলেন এইচএসসিতে জিপিএ-৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা জয় করে মৌমি পেলেন এইচএসসিতে জিপিএ-৫

সিলেট, ৩ নভেম্বর ২০২৬ : দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা মৌমির স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর অধ্যবসায় ও মনোবলের জোরে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সিলেটের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার মৌমি।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আহাদ ও আমিনা আক্তার পুষ্পের কন্যা মৌমি। তিনি সিলেটের গ্রিন ডিজ্যাবলড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ)-এর আবাসিক শিক্ষার্থী। শিশু শ্রেণি থেকে এ প্রতিষ্ঠানে তার শিক্ষাজীবনের শুরু।

তবে মৌমির শিক্ষা জীবনের এই যাত্রা ছিল নানা প্রতিবন্ধকতায় ভরা। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে শ্রুতি লেখক নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে মৌমির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

মন্ত্রী এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে, হাজী আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী পল্লব দেবকে মৌমির শ্রুতি লেখক হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফলে মৌমির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা দূর হয়।

পরীক্ষা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে মৌমি জিপিএ-৫ অর্জন করে নিজের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন। তার এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করে যে, যথাযথ সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও নিজেদের যোগ্যতা ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে সক্ষম।

মৌমির এই অসাধারণ অর্জনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিলেট জেলা বিএনপি।

মৌমির পরীক্ষার ফলাফল শুনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৌমি ও জিডিএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মৌমির ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠানটির জন্য সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

তার এই সাফল্যে শুভেচ্ছা জানাতে গত ১ নভেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর নেতৃত্বে জেলা বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল জিডিএফে যায়। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মৌমিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

জিডিএফের মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক বায়জিদ খানসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা মৌমির এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সচেতন নাগরিকদের মতে, মৌমির এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, সমান সুযোগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সংকট নিরসনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সহযোগিতা মানবিক দায়িত্ববোধেরও পরিচয় বহন করে। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মৌমির এই সাফল্য নতুন স্বপ্ন দেখাবে অন্য অনেক শিক্ষার্থীকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%