০৩:৩৫ পি.এম
২০৩০ সালে এক বিরল মহাজাগতিক বিন্যাসের কারণে একই বছরে দুইবার রমজান মাস অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে মুসল্লিরা একই বছরে দুইবার রোজা পালনের সুযোগ পাবেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামী ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মধ্যে হিসাবের পার্থক্যের জন্য এই বিরল ঘটনা ঘটবে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট, ফলে প্রতি বছর রমজান শুরুর সময়টি এগিয়ে আসে।
২০৩০ সালে এই পরিবর্তনের ফলে প্রথম রমজান শুরু হবে ৫ জানুয়ারি (ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৪৫১ হিজরি সনে) এবং দ্বিতীয় রমজান শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর (১৪৫২ হিজরি সনের শুরুতে)।
আরও পড়ুন: মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামে নামাজ ও কাবা শরিফের তাওয়াফ অব্যাহত
এই কারণে মুসলমানরা এক বছরে দুইবার রোজা রাখবেন। অর্থাৎ ওই বছর মোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে হবে; জানুয়ারি মাসে ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের শেষে আরও ৬ দিন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে চলে, তবে ইসলামী বর্ষপঞ্জি মূলত চান্দ্র চক্রের ওপর নির্ভরশীল।
একটি চান্দ্র বছর ৩৫৪ দিনের হয়ে থাকে, যা সৌর বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম। সময়ের সাথে সাথে এই পার্থক্যের কারণে ইসলামী মাসগুলো চারটি ঋতুর মধ্যে আবর্তিত হয়; এই চক্রটি প্রায় প্রতি ৩৩ বছরে একবার পুনরাবৃত্তি হয়।
সর্বশেষ এই ঘটনা ১৯৯৭ সালে ঘটেছিল এবং ২০৩০ সালের পর এটি আবার ঘটবে ২০৬৩ সালে।
আরও পড়ুন: আমিরাতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব
মুসলমানদের জন্য ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা একটি ধর্মীয় আবশ্যিকতা এবং আত্মিক শুদ্ধির একটি মাধ্যম। তবে রমজান কোন সময়ে পড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে রোজার অভিজ্ঞতায় ব্যাপক তারতম্য হয়। শীতকালে রোজা পড়লে দিনের দৈর্ঘ্য বা রোজার সময়কাল তুলনামূলকভাবে কম হয়; অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে কিছু অঞ্চলে তা ১৭ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।
যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে রমজান শুরুর সম্ভাব্য সময় জানা সম্ভব, তবুও চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই এর আনুষ্ঠানিক শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সৌদি আরবসহ অনেক ইসলামী দেশ চাঁদ দেখার প্রথাগত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে, আবার অন্য অনেক দেশ তারিখ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন