১২:২৬ পি.এম
ঢাকার পরিবেশগত এবং জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কম-কার্বন অবকাঠামো, বিশেষ করে সড়ক ও সেতু নির্মাণে অবকাঠামোর পুরো জীবনচক্রের কার্বন নিঃসরণ বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রাকৃতিকভাবে সমাধান-এর গুরুত্ব এবং নগর এলাকায় বৃষ্টির পানি ব্যবহার-এর প্রয়োজনীয়তা মেনে চলতে তরুণদের ভূমিকা এবং ক্ষমতায়নের প্রভাব অপরিহার্য। তরুণদের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করা জরুরি।
রবিবার বিকেলে রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিসিইএসের উদ্যোগে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ক্লাব এবং ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্ট সাইন্স এন্ড ম্যানেজমেন্টের সহযোগিতায় "সহনশীল ঢাকা: তরুণ-নেতৃত্বাধীন জলবায়ু কার্যক্রম উদ্যোগ" শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটির শুরুতেই আইসিসিএসের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিনের “সচেতনতা থেকে পদক্ষেপ: শহুরে জলবায়ু মোকাবিলায় তরুণদের ক্ষমতায়ন” শীর্ষক প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় একাডেমিয়া, পেশাজীবী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং যুবকেন্দ্রিক সামাজিক উদ্যোগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় ঢাকার পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলো মোকাবিলায় তরুণদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস (SHLS) এর ডিন অধ্যাপক ড. দীপক কুমার মিত্র, ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এ কে এম সোহেল, ড. আনোয়ার জাহিদ - জ্যেষ্ঠ গবেষক ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM), ড. আদিল মোহাম্মদ খান - অধ্যাপক ইউআরপি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (BIP), মো. হাফিজুর রহমান পিএইচডি - অধ্যাপক ও প্রধান, ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ, শাহ রাফায়াত চৌধুরী - সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ফুটস্টেপস বাংলাদেশ, রাফিদ মাহমুদ খান - প্রভাষক, ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ মো. আশিক উল্লাহ, পিএইচডি - সহযোগী অধ্যাপক, ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।
বক্তাদের আলোচনা অনুযায়ী, ঢাকার ভূতত্ত্ব, ভূগর্ভস্থ পানি এবং পরিবেশগত চাপের পারস্পরিক সম্পর্ককে তুলে ধরেন। তারা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, পানির টেকসই ব্যবহার, বিদ্যমান নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন। নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ (groundwater recharge) উল্লেখ করার পাশাপাশি এসব সমস্যা মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
বসতি এবং অবকাঠামোর সঙ্গে সঙ্গে জলাশয়, পার্ক, সবুজায়ন এবং nature-based solutions সমন্বিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বক্তারা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অবকাঠামো এবং ভবনের জীবনচক্রজুড়ে কার্বন নিঃসরণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।
ক্লাইমেট ফাইন্যান্স এবং অভিযোজনসহ জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। অভিযোজনভিত্তিক বিনিয়োগকে আরও শক্তিশালী করার এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রকল্প ও বাজেটকে জাতীয় অগ্রাধিকার এবং সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন ব্যবস্থার সংগে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গুরুত্ব পয়েন্টগুলো তুলে ধরেন। ভবিষ্যতের পেশাজীবী ও তরুণদের জলবায়ু অর্থায়ন, বাজেট এবং জলবায়ু কার্যক্রমের জন্য বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোকপাত করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন