মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪২ পি.এম
ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় দলের আমিরের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে রুহুল কবির রিজভী দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজশাহীর রেলওয়ে স্টেশনে যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে একটি লং মার্চের আয়োজন করুন। আর আমরা নিশ্চুপ বসে থাকব-এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত কি দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী? বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজকে মধ্যবাড্ডা, কাফরুল, মিরপুরে বাসে আগুন লাগাচ্ছে কে? হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজি করছে কে? এর উত্তর কে দেবে?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শুধু পলাতক ফ্যাসিস্টরাই নয়, তাদের নতুন কিছু সহযোগীও তৈরি হয়েছে যারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে একত্রে কাজ করছে। সম্প্রতি ট্রেনে নাশকতার পর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জামায়াতের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করার খবর আসায় রিজভী জামায়াতের আমিরের কাছে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য স্পষ্ট জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে দূরপাল্লা ও রাজধানীসহ শহরের বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সোমবার, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া বৃদ্ধির জন্য কিলোমিটারে দূরপাল্লায় ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল।
গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যার ফলে বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। নতুন এই বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া ছিল কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা। মিনিবাসের ভাড়া ছিল ২ টাকা ৪২ পয়সা।
অন্যদিকে, দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা বৃদ্ধি পাবে। তবে দূরাল্লার পথে অনেক নন–এসি বাসের আসন সংখ্যা কমিয়ে ৪০ বা তার নিচে নামিয়ে আরামদায়ক করা হয়েছে। এসব বাসে ভাড়া আরও বেশি নেওয়া হয়। এছাড়া, সেতু ও সড়কের টোলও যুক্ত হবে। নতুন করে ১৭ পয়সা বৃদ্ধির ফলে বাস ভাড়া নতুনভাবে নির্ধারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সাক্ষাৎটি আজ স্পিকার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে দেশের উন্নয়নে সর্বদা সহায়তা প্রদান করে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
স্পিকার আরও বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার, গুম ও খুনের রাজনীতি দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
স্পিকার বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনের মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে দেশে আরও মাঝারি ও ছোট প্রকল্পের বিনিয়োগ বিদ্যমান রয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশকে এই অঞ্চলে পণ্য উৎপাদন ভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। আইসিটিসহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
সাক্ষাৎকালে তারা উভয়েই দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি ইস্যু নিয়ে মত বিনিময় করেন।
স্পিকার জানান, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’কে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস উৎপাদনে চীনের বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান এবং ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীকে সমর্থনে চীন সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার কারণে জাতিসংঘ তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও মানুষের আস্থা হারিয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি দাবি করেছেন, সংস্থাটির প্রতি আস্থা এখন অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি ক্ষয় হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে তিনি এসব কথা বলেন।
আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলীর মধ্যে তাঁর এবারের নিউইয়র্ক সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, বাস্তবে এখনো যুদ্ধাবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে ইরানি জনগণের বৈধতা, অধিকার ও স্বার্থের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরা তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
আরাগচির মতে, এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার’ হওয়া জাতিসংঘের ওপর আস্থার সংকট সৃষ্টি হওয়ার প্রমাণ। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা কার্যকরভাবে বজায় রাখতে ব্যর্থতার কারণে সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশ নিজেদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবতার সম্মিলিত বিবেকের ঊর্ধ্বে মনে করে এবং নিজেদের ও মিত্রদের জন্য দায়মুক্তি দাবি করে।
আরাগচি আরও জানান, এর ফলে ইসরাইলকে ইচ্ছামতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও মানবিক আইনের রক্ষক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরা পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলো এসব ঘটনায় নীরব রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানও অধিবেশনের শুরুতে সংস্থাটির প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, প্রেস টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় পদ্মা অয়েল পিএলসির গোদনাইল ডিপোর কর্মীদের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সালকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চাঁদাবাজির মামলায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিস্তারিত জানানো হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, পদ্মা অয়েল পিএলসির গোদনাইল ডিপোর জেট-এ-১ পয়েন্টে চেকার হিসেবে কর্মরত মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে গত ১ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন ফয়সাল। এ সময় অভিযোগ করা হয়েছে যে, জেট-এ-১ পয়েন্টে কর্মরত কর্মচারীদের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফয়সাল ভয়ভীতি প্রদর্শন ও খুন-জখমের হুমকি দেন। মামলায় উল্লেখ রয়েছে যে, বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে ফোন করেও একইভাবে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট সকাল আনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে ফয়সাল অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে গোদনাইল ডিপোর জেট-এ-১ পয়েন্টে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। সেখানে কর্মীদের কাছে পুনরায় এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
কর্মীরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে চাঁদার টাকা না দিলে ডিপোতে চাকরি করতে দেওয়া হবে না এবং থানায় অভিযোগ বা মামলা করলে তাদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ