বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫৩ পি.এম
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী দিনের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রতিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জনমুখী করতে নিয়মিত নির্বাচনের বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
মতবিনিময় সভায় দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বা রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ভবন বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হবে। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ছাদ সোলার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পিতভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় বিরোধী দলের এমপি সেসব এলাকায় কৃত্রিমভাবে সার সংকট দেখানো হয়েছে। সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করার চক্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি তার।
এর আগে গাইবান্ধায় পৌঁছালে সার্কিট হাউসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"মাটি ও মানুষের জন্য পথচলা—সেবা, স্বচ্ছতা, উন্নয়ন"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার ৫নং শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও নির্বাচন ঘোষণা করেছেন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল মোর্শেদ সাদ্দাম।
এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, তিনি কখনো শাসক হতে চান না, বরং জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে তাদের পাশে থাকতে চান। একটি আধুনিক, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গড়ার লক্ষে তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার জাতির সামনে তুলে ধরেন।
স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নাগরিক সেবা: ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবা ডিজিটাল ও জনবান্ধব করা হবে। শতভাগ অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ নিশ্চিত করা হবে। প্রতি বছর জনগণের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা এবং আয়-ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে দৃশ্যমান 'সিটিজেন চার্টার' টাঙিয়ে সেবা পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ও সরকারি ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
স্বচ্ছতার সাথে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বণ্টন: বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং টিসিবি কার্ডের তালিকা তৈরিতে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করা হবে। কোনো প্রকার ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা ছাড়াই প্রকৃত ও অসহায় মানুষ যাতে এসব সুবিধা পান তা নিশ্চিত করা হবে।
যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: ইউনিয়নের অবহেলিত কাঁচা রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকাকরণ ও দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। হাট-বাজার ও প্রধান গ্রামগুলোতে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করে রাতের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন: যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন যুবসমাজকে সাথে নিয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাম পুলিশের টহল বাড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে।
যুবসমাজ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী পদক্ষেপ: যুবসমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও খেলার মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বেকার তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্রি কম্পিউটার ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা সহায়তা তহবিল গঠন করা হবে।
কৃষক ও ব্যবসায়ী কল্যাণ: কৃষিপ্রধান এই ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য সঠিক সময়ে বীজ, সার ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় হাট-বাজারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ করে ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
ইনসাফভিত্তিক গ্রাম আদালত: গ্রাম আদালতকে সম্পূর্ণ সক্রিয় ও দলনিরপেক্ষ রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো হয়রানি ছাড়াই ক্ষুদ্র পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই মীমাংসা করতে পারেন।
একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং জনকল্যাণমুখী শৌলজালিয়া ইউনিয়ন গড়ে তুলতে আগামী দিনে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ ও ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, সুপরামর্শ এবং মূল্যবান রায় প্রত্যাশা করেছেন মোঃ জিয়াউল মোর্শেদ সাদ্দাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক সংগঠন এভরিটাউন ফর গান সেফটি ( everytown.org ) নতুন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সহিংসতার পরিকল্পনা ও আত্মহত্যায় উৎসাহ পাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার মধ্যে হামলাকারীরা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থার সাহায্য গ্রহণ করেছে। এসব ঘটনায় তথ্য ও আদালতের নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফিনিক্স ইকনারের মামলার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত গুলির ঘটনায় দুজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনায় হত্যার অভিযোগে ইকনারের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে।
আদালতের নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পূর্বে ইকনার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকেন্দ্রে কখন বেশি মানুষ থাকে, কোন ধরনের গুলি বেশি ক্ষতি করতে পারে এবং আগ্নেয়াস্ত্র কিভাবে ব্যবহার করতে হয়—এ ধরনের তথ্য জানতে চেয়েছিলেন।
ইকনারের শিকার হওয়া তিরু চাব্বার পরিবারের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা তাকে কিছু ব্যবহারিক তথ্য প্রদান করেছে। পরিবারের আইনজীবীদের দাবি, এসব কথোপকথন ইকনারের বিভ্রান্ত ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাকে উৎসাহিত করেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, ওই কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা সহিংসতার নিন্দা করেছে এবং ইকনারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত না হয়ে এমন তথ্য দিয়েছে, যা অন্যান্য প্রকাশ্য উৎস থেকেও পাওয়া সম্ভব।
এভরিটাউনের প্রতিবেদনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত গুলির ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জেসি ভ্যান রুটসেলার আটজনকে হত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগের একটি হিসাব বন্ধ করে দেওয়ার পর নতুন হিসাব খুলে তিনি আবারও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। অন্তত পাঁচটি মামলায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আত্মহত্যার চিন্তায় থাকা ব্যক্তিদের সেই চিন্তাকে আরও উসকে দিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আটটির মধ্যে প্রায় ছয়টি ব্যবস্থাই কিশোর সেজে সহিংস হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা চাওয়া গবেষকদের সহায়তা করতে রাজি হয়েছিল। তবে সব ব্যবস্থা একইভাবে সাড়া দেয়নি। কিছু ব্যবস্থা সহিংস হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করতে ধারাবাহিকভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এভরিটাউন বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, পরিবর্তন বা সংগ্রহের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান বন্ধ করা, কেউ নিজের বা অন্যের ক্ষতি করার ইঙ্গিত দিলে সংশ্লিষ্ট কথোপকথন মানব কর্মীদের দ্বারা পর্যালোচনা করা এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলে প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাস্টিন ওয়াগনার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা বর্তমানে মানুষের তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তার দাবি, বিশেষ করে সংকটময় পরিস্থিতিতে এসব ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুনে প্রকাশিত পিউ গবেষণা কেন্দ্রের এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথোপকথনভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেন এবং প্রতি ১০ জন ব্যবহারকারীর একজন মানসিক সহায়তার জন্যও এসব ব্যবস্থার কাছে যান।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি একইসঙ্গে রাষ্ট্রের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
আজ তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে।’
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যে সব দাবি দাওয়া আছে এগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে পূরণ করবো। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল পরিকল্পিত জায়গায় একটা সদর দপ্তর স্থাপিত হবে। সেটি আজ পূরণ হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রায় ১১ বিঘার মতো জায়গা বরাদ্দ পেয়েছি এ সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য।’
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন আছে। তাদের সম্পর্কে আমাদের গর্ব করার মত অনেক জায়গা আছে। অথচ এ বাহিনীর বর্তমান সদরদপ্তরে স্থান সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।
অপর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করা হচ্ছে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পরে ট্রাফিক সিস্টেমে যে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে তা প্রশংসিত হয়েছে। আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখবো।’
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি মন্তব্য করেছেন যে, ধর্ম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ম একটি বিষয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনা একটি ভিন্ন বিষয়। তিনি বলেন, "ধর্ম ব্যবসা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না।"
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল-পিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "যদি ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হতো, তাহলে পাকিস্তানই টিকে থাকত।" তিনি উল্লেখ করেন, "পৃথিবীর কোনো দেশে শুধু ধর্ম দিয়ে দেশ টিকে থাকে না।" তিনি বলেন, একটি দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরি হয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ভৌগোলিক সীমানাসহ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে।
তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি বা নেতার হাত শক্তিশালী করলেই দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট থাকে না।" তিনি জনগণের হাত শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গয়েশ্বর বলেন, "জনগণ যত শক্তিশালী হবে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা তত সহজ হবে।"
তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও সবসময় জনগণকে মাঠে নামাতে পারেনি। তবে জনগণ মাঠে নামার পর আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের শক্তিশালী করা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "জামায়াতকেও সে সময়ের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়নি।"
তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট ভেঙে যায়নি, বরং কৌশলগত কারণে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব অবস্থান থাকলেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্রে তারা অভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল।
এ সময় গয়েশ্বর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, "তিনি ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করলে তা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।"
গয়েশ্বর বলেন, "আমরা চাই, শেখ হাসিনা দেশে আসুক, এসে বিচারের মুখোমুখি হোক।" তিনি বলেন, "বিচারের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুক।" তিনি আরও বলেন, "আর যদি নির্দোষ প্রমাণিত না হন, আদালত যে রায় দেবে তা মেনে নিতে হবে।"
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে তিনি সতর্ক করেন, "বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।"
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, দেশের জনগণও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসবে।"
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "রাজনীতি কোনো লাভ-লোকসানের হিসাব নয়।" তিনি বলেন, "রাজনীতি সর্বোচ্চ ত্যাগের জায়গা।" তিনি বলেন, "নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব করে রাজনীতি করা উচিত নয়।"
দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, "তাদের আদর্শ ধারণ করতে হলে কৃত্রিমতা নয়, আন্তরিকতা প্রয়োজন।" তিনি বলেন, জনগণ যেন আস্থা রাখতে পারে যে, তাদের দেখানো পথেই পরবর্তী নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করছে।
দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। গয়েশ্বর বলেন, "দেশের অর্থনীতির অবস্থা সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, "অর্থপাচারের কারণে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়েছে।"
তিনি বলেন, "ব্যাংকের টাকা সরকারের নয়, জনগণের।" তিনি বলেন, "অথচ অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।" তিনি বলেন, "জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।"
পিএনপি চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ফিরোজ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদিন ফারুক এমপি, পিএনপির মহাসচিব আহমেদুর রহমান, ইসলামী ঐক্য ফোরামের আবদুল করিমসহ দল প ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ