ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নতুন উদ্দীপনায় কাজের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর


আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নতুন উদ্দীপনায় কাজের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি একইসঙ্গে রাষ্ট্রের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

আজ তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে।’

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যে সব দাবি দাওয়া আছে এগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে পূরণ করবো। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল পরিকল্পিত জায়গায় একটা সদর দপ্তর স্থাপিত হবে। সেটি আজ পূরণ হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রায় ১১ বিঘার মতো জায়গা বরাদ্দ পেয়েছি এ সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য।’

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স।

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন আছে। তাদের সম্পর্কে আমাদের গর্ব করার মত অনেক জায়গা আছে। অথচ এ বাহিনীর বর্তমান সদরদপ্তরে স্থান সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।

অপর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করা হচ্ছে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পরে ট্রাফিক সিস্টেমে যে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে তা প্রশংসিত হয়েছে। আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখবো।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৯৯

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ম ব্যবসা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না: গয়েশ্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


ধর্ম ব্যবসা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না: গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি মন্তব্য করেছেন যে, ধর্ম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ম একটি বিষয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনা একটি ভিন্ন বিষয়। তিনি বলেন, "ধর্ম ব্যবসা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না।"

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল-পিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "যদি ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হতো, তাহলে পাকিস্তানই টিকে থাকত।" তিনি উল্লেখ করেন, "পৃথিবীর কোনো দেশে শুধু ধর্ম দিয়ে দেশ টিকে থাকে না।" তিনি বলেন, একটি দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরি হয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ভৌগোলিক সীমানাসহ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে।

তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি বা নেতার হাত শক্তিশালী করলেই দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট থাকে না।" তিনি জনগণের হাত শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গয়েশ্বর বলেন, "জনগণ যত শক্তিশালী হবে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা তত সহজ হবে।"

তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও সবসময় জনগণকে মাঠে নামাতে পারেনি। তবে জনগণ মাঠে নামার পর আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের শক্তিশালী করা।

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "জামায়াতকেও সে সময়ের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়নি।"

তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট ভেঙে যায়নি, বরং কৌশলগত কারণে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব অবস্থান থাকলেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্রে তারা অভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল।

এ সময় গয়েশ্বর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, "তিনি ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করলে তা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।"

গয়েশ্বর বলেন, "আমরা চাই, শেখ হাসিনা দেশে আসুক, এসে বিচারের মুখোমুখি হোক।" তিনি বলেন, "বিচারের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুক।" তিনি আরও বলেন, "আর যদি নির্দোষ প্রমাণিত না হন, আদালত যে রায় দেবে তা মেনে নিতে হবে।"

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে তিনি সতর্ক করেন, "বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।"

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, দেশের জনগণও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসবে।"

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "রাজনীতি কোনো লাভ-লোকসানের হিসাব নয়।" তিনি বলেন, "রাজনীতি সর্বোচ্চ ত্যাগের জায়গা।" তিনি বলেন, "নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব করে রাজনীতি করা উচিত নয়।"

দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, "তাদের আদর্শ ধারণ করতে হলে কৃত্রিমতা নয়, আন্তরিকতা প্রয়োজন।" তিনি বলেন, জনগণ যেন আস্থা রাখতে পারে যে, তাদের দেখানো পথেই পরবর্তী নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করছে।

দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। গয়েশ্বর বলেন, "দেশের অর্থনীতির অবস্থা সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, "অর্থপাচারের কারণে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়েছে।"

তিনি বলেন, "ব্যাংকের টাকা সরকারের নয়, জনগণের।" তিনি বলেন, "অথচ অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।" তিনি বলেন, "জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।"

পিএনপি চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ফিরোজ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদিন ফারুক এমপি, পিএনপির মহাসচিব আহমেদুর রহমান, ইসলামী ঐক্য ফোরামের আবদুল করিমসহ দল প ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনার সাঁথিয়ায় ভিমরুলের কামড়ে দুই শিশুর মৃত্যু, আহত এক নারী চিকিৎসাধীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


পাবনার সাঁথিয়ায় ভিমরুলের কামড়ে দুই শিশুর মৃত্যু, আহত এক নারী চিকিৎসাধীন

পাবনার সাঁথিয়া এলাকায় ভিমরুলের কামড়ে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে উপজেলার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গয়েশবাড়ি গ্রামের নয়ন হোসেনের ছেলে রোহান হোসেন (৩) এবং একই এলাকার সুজন হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন (৪)।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রোহান ও আরাফাত বাড়ির পাশে অবস্থিত বাগানে খেলছিল। এ সময় তারা ভিমরুলের মাটির বাসায় পাট কাঠি দিয়ে আঘাত করে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ ভিমরুল তাদের ওপর আক্রমণ করে। ভিমরুলের আক্রমণে তাদের চিৎকার শুনে পাশের আরেক শিশুর মা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু তাকেও ভিমরুল আক্রমণ করে। পরে কোনোমতে শিশুদুটিকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান ওই নারী। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী দিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিশুদুটির মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় আহত ওই নারী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিসিএসের গেজেট আটকে রাজনৈতিক পরিচয়কে মানদণ্ড বানানো যাবে না: এবি পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


বিসিএসের গেজেট আটকে রাজনৈতিক পরিচয়কে মানদণ্ড বানানো যাবে না: এবি পার্টি

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তবে গেজেট থেকে বাদ পড়েছে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারীসহ ৫৭ জনের নাম। বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

তারা মন্তব্য করেছেন, বিসিএসের মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পরও কারও নিয়োগ আটকে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি চাকরি শুধুমাত্র একজন তরুণের কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি একটি পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এই কারণে সরকারের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত আচরণ এবং মানবিকতা নিশ্চিত করা উচিত।

তারা আরও বলেন, যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী বা আইনত নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন, তাহলে শুধুমাত্র তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে চাকরি আটকে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। একজন প্রার্থীর মূল্যায়ন হতে হবে তাঁর নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা, সততা এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের ভিত্তিতে, তাঁর বাবা, চাচা বা মামা কোন রাজনৈতিক দল করেন, তার ভিত্তিতে নয়।

নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেছেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে মেধাবীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছিল। যারা তখন এর প্রতিবাদ করেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তাঁদের আমলে একই ধরনের অভিযোগ তৈরি হলে তা গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের অর্থ কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের আচরণ ও বঞ্চনার সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হতে হবে।

এবি পার্টির নেতৃদ্বয় ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৭ জনকে (ফৌজদারী অপরাধ জড়িত না থাকলে) গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। তাঁরা একই সঙ্গে অস্বচ্ছ ও হয়রানিমূলক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, মজলুমের কাতার থেকে ক্ষমতায় এসে যদি একই বঞ্চনার সংস্কৃতি চালু করা হয়, জনগণ তা মেনে নেবে না। ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের আচরণের পরিবর্তনই জনগণের প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিনে বদলাচ্ছে পর্যটন নীতিমালা, থাকছে না রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


সেন্টমার্টিনে বদলাচ্ছে পর্যটন নীতিমালা, থাকছে না রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন ব্যবসার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে নতুন নীতিমালায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পর্যটন ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটরসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তী ব্যবস্থায় নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দিনের বেলায় ভ্রমণের সুযোগ রাখা হলেও রাত্রিযাপনের অনুমতি ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিতসংখ্যক পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারতেন। সরকারি পর্যটন তথ্যেও সেন্টমার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের এই সময়ভিত্তিক ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে।

তবে এ বিধিনিষেধের কারণে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসা ও স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেছেন সেখানকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, পর্যটক কমে যাওয়ায় হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, নৌযান, পর্যটন পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জীবিকার সংকটে কিছু বাসিন্দার মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদীর তথ্যমতে, দ্বীপে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব আবাসন প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে দ্বীপের অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর হয়ে উঠেছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্টমার্টিনে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ এবং সেখান থেকে নৌপথে দ্বীপে যেতে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য দ্বীপে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা পর্যটকদের নির উৎসাহিত করছে। সরকারি পর্যটন তথ্যেও টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের নৌযাত্রায় প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগার কথা উল্লেখ রয়েছে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে একজন পর্যটক সেন্টমার্টিনে গিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা বাস্তবসম্মত নয়। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামানও রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পর্যটকদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে করে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও কক্সবাজার-টেকনাফের পর্যটনসংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের অনেকে আগের বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণের নামে নেওয়া সিদ্ধান্তে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পর্যটন ব্যবসার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তারা আগের নীতিমালার কারণে সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, তার সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রবালপ্রাচীর রক্ষা করতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সরকারি নথিতেও দ্বীপটিকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা ও মাস্টার প্ল্যানের উদ্যোগের কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নীতিমালায় একদিকে পর্যটকের সংখ্যা ও পরিবেশগত চাপ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক ব্যবহার রোধ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে দ্বীপের প্রায় ৮-১০ হাজার বাসিন্দার জীবন-জীবিকা এবং পর্যটননির্ভর অর্থনীতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সরকারের নতুন নীতিমালায় এই দুই দিকের মধ্যে সমন্বয় কতটা করা যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%