বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০১ পি.এম
আমতলীতে মাদক বিরোধী অভিযানে মঙ্গলবার রাতে সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী গ্রামে আলিশার মোড়ে অবস্থিত মিরাজ টেলিকম দোকানে এসআই মো: শাহরিয়ার নাঈম রোমানের এর নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে মো: মিরাজ মোল্লা(২০)কে ০৫ (পাচ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতর বিরুদ্ধে আমতলীতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে নতুন যাত্রা শুরু করেছে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), যা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে হয়েছে।
বাহিনী প্রধান আহসান হাবীব পলাশ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নতুন নামের যাত্রা শুরু করার কথা জানান। তিনি বলেন, "এসআরবি নামে গেজেট হয়েছে। আমরা র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি নাম দিয়ে সকল কাজ আজ থেকে শুরু করেছি।"
সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে বাহিনীটি যে লোগো ব্যবহার করেছে, তাতে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা রয়েছে, যেখানে র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে, লোগোর নকশা অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন লোগো বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও দেখা গেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির পর তা আইনে রূপ নেয়। পরদিনই নতুন নামে যাত্রা শুরু করল বাহিনীটি।
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গঠিত হয়েছিল র্যাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সফলতার পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাহিনীটিকে বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার উপর যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায় বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার বিষয়ক কমিটি।
এ ধারাবাহিকতায় এবার কাঠামোগত ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যস্ত করে সরকার বাহিনীটিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে মাঠে রাখল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জে কথিত ভুয়া ডাক্তার হিসেবে পরিচিত নাজমুল ইসলাম মিঠুকে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ মাসের কারাদ-ের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ দ-াদেশ প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে জানা গেছে, মামলার নম্বর ৯৬/২০২৬। মামলায় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তাসলিমা জান্নাত। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২২ ধারায় নাজমুল ইসলাম মিঠুকে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদ- এবং পাঁচ মাসের কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়।
নাজমুল ইসলাম মিঠু সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘মিঠু ডাক্তার’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের স্বীকৃত ডিগ্রি বা বৈধতা ছাড়াই তিনি রোগী দেখছেন এবং চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করছেন।
এর আগে চলতি বছরের ৯ মার্চ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসান আহমেদ খান কথিত ভুয়া ডাক্তার নাজমুল ইসলাম মিঠুকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিঠু প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী দেখতেন এবং রোগীপ্রতি ফি নিতেন। স্থানীয়দের দাবি, এতে প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। এছাড়া, তার নিজস্ব ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ কিনতে রোগীদের বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ফার্মেসি থেকে মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করতেন মিঠু।
রোগী রহিমা বেগম বলেন, "ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়।"
আরেক রোগী আলতাফ অভিযোগ করে বলেন, "বুকের ব্যথা নিয়ে মিঠুর কাছে গেলে তার ফার্মেসি থেকে জ্বর ও মাথাব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। এতে ওই ব্যক্তির চিকিৎসক পরিচয় নিয়ে তার সন্দেহ হয়।"
এদিকে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে কয়েকজন রোগীর প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করা হলে জানা যায়, মিঠুর কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি নেই এবং তার প্রেসক্রিপশন দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পুলিশের বিশেষ চেকপোস্টে দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ দুইজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলারোয়া বাজারের গরুর হাট মোড় সংলগ্ন ব্রিজের ওপর পুলিশের বিশেষ চেকপোস্টে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় মো. বেলাল হোসেন ও মো. সাজু সানাকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন। ১৭ বছর পর তিনি আবারও মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিতে যাচ্ছেন। সম্প্রতি কানাডার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি এই নতুন জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
মাহিরা প্রথমবার মা হন ২৪ বছর বয়সে। তার প্রথম স্বামী আলি আসকারির সঙ্গে তাদের ছেলে আজলানের জন্ম হয়। তারা ২০০৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পরে ২০১৫ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০২৩ সালে ব্যবসায়ী সেলিম করিমকে বিয়ে করেন মাহিরা। দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় তিন বছর পর এবার তাদের ঘরে নতুন অতিথি আসতে চলেছে।
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মাহিরা শুধুমাত্র চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করেননি, বরং সেখানে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টিও সবার সামনে আসে। উৎসবের একটি আলোচনায় তিনি দক্ষিণ এশিয়ার গল্প ও শিল্পীদের বিশ্ব চলচ্চিত্রে আরও বেশি জায়গা পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন।
তবে ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত তার জন্য সহজ ছিল না। মাহিরা জানান, তিনি সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না। তাই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনা নিয়ে তার কিছুটা অস্বস্তি ছিল।
এছাড়া পোশাক নিয়েও চিন্তায় ছিলেন তিনি। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় লালগালিচায় হাঁটার অভিজ্ঞতা তার জন্য একেবারেই নতুন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের পরিবর্তিত শরীরকে লুকিয়ে রাখার পরিবর্তে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
উৎসবে মাহিরা গাঢ় রঙের শাড়ি পরেছিলেন, যার নকশায় ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ। সঙ্গে ছিল কাজ করা ওড়না, বড় কানের দুল, সাজসজ্জা এবং খোলা বেণি।
নিজের দুইবারের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার তুলনা করে মাহিরা বলেন, এবারের অভিজ্ঞতা অনেকটাই ভিন্ন। ২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা হওয়ার সময় তার মধ্যে এক ধরনের সরলতা ছিল। স্বাস্থ্যও ভালো ছিল এবং ভবিষ্যতে কী হতে পারে, তা নিয়ে তিনি খুব বেশি ভাবতেন না।
কিন্তু এবার বয়স ৪১। ফলে শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই বিষয়টি তার কাছে বেশি কঠিন মনে হচ্ছে। মাহিরার ভাষায়, এখন এমন অনেক দিন আসে যখন তার শরীর সেভাবে সাড়া দেয় না, যেভাবে তার মন কাজ করতে চায়। অথচ তিনি নিয়মিত কাজ, ভ্রমণ ও ব্যস্ত জীবনে অভ্যস্ত।
শুধু শারীরিক পরিবর্তন নয়, মানসিকভাবেও এবারের অভিজ্ঞতা আলাদা বলে জানান তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের মূল্য ও ভঙ্গুরতা সম্পর্কে তার সচেতনতা বেড়েছে। ফলে আনন্দের পাশাপাশি ভয়, ক্লান্তি ও দুর্বলতার অনুভূতিও কাজ করছে।
মাহিরা বলেন, দ্বিতীয়বার মা হওয়ার এই সময়টিতে তার জীবন আগে থেকেই অনেকটা গুছানো ছিল। বড় হয়ে যাওয়া ছেলে, নিজের কাজ, দৈনন্দিন জীবন ও স্বাধীনতা—সবকিছুর সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। জীবনের এই পর্যায়টি কেমন হবে, সে সম্পর্কে তার নিজের একটি ধারণাও ছিল।
কিন্তু এত বছর পর আবার মাতৃত্বের পথে হাঁটবেন—এটি তিনি আগে থেকে ভাবেননি। তবে এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনকে এখন জীবনের একটি শিক্ষা হিসেবে দেখছেন মাহিরা। তার উপলব্ধি, জীবনের সবকিছু আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখা সম্ভব নয়। অনেক সময় মানুষ একভাবে পরিকল্পনা করে, কিন্তু জীবন অন্যভাবে এগিয়ে যায়।
নিজের এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মাহিরা বলেন, সবকিছু নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই—জীবন যেদিকে নিয়ে যায়, সেটিও গ্রহণ করতে হয়।
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মাহিরার উপস্থিতি তাই একই সঙ্গে তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়ে উঠেছে—একদিকে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানি ও দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব, অন্যদিকে ১৭ বছর পর আবার মাতৃত্বের পথে যাত্রা।
সূত্র: ডাউন নিউজ, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ