ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার : বিদ্যুৎ মন্ত্রী


বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার : বিদ্যুৎ মন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ বিষয়ক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির ভাষণে বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখেছে। পাশাপাশি নতুন দায়ও সরকারকে বহন করতে হচ্ছে, ফলে বাবদ প্রতি মাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ বিষয়ক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন

অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।

মন্ত্রী বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে গৃহীত বেশিরভাগ প্রকল্পে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর বর্তেছে।

তিনি বলেন, আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান সরকারকে অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির ফলে সরকারকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি আমদানি ব্যয়ও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের বক্তব্যে মানুষ হাসি-তামাশা করছে: রাশেদ খান

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরো দক্ষ, টেকসই ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে, কোনোভাবেই উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় বা উৎপাদনের অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

তিনি রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে পতিত জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত সংরক্ষণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল শক্তি জনগণ। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বিপুল ঋণের বোঝা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি নাগরিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: সোনাতলা গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ ঘিরে আতঙ্ক, সতর্ক করতে মাইকিং

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলাউড়া পৌরসভার ৯৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


কুলাউড়া পৌরসভার ৯৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

কুলাউড়া পৌরসভার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার কুলাউড়া পৌরসভা মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার। বাজেট ঘোষণার পর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শরদিন্দু রায়ের সঞ্চালনায় পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হীরেন্দ্র চন্দ্র পাল বাজেটের বিভিন্ন খাত উপস্থাপন করেন। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে কোন প্রকার নতুন কর আরোপ না করে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৪২ টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। সরকারি অনুদান হিসেবে ২ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। রাজস্ব উদ্ধৃত্ত উন্নয়ন তহবিলে স্থানান্তরিত হবে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৪২ টাকা। কুলাউড়া পৌরসভা এ গ্রেডের হলেও গত ৫ বছরে কোনও নতুন কর আরোপ করা হয়নি। গৃহকর ও ভূমি করের ওপর জোর দেওয়া হলেও কর আদায়ের পরিমাণ খুবই নগন্য। ফলে বাজেটে পৌরবাসীর জন্য কোন চমক নেই এবং পৌরবাসী গতানুগতিকতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পৌরসভায় বাস্তবায়নাধীন আইইউজিআইপি প্রকল্পের কাজসমূহে স্বচ্ছতা নিয়ে উপস্থিত নাগরিকবৃন্দ প্রশ্ন তুলেন। তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। এর ফলে পৌরবাসীর ভোগান্তি ও যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাজেট অধিবেশনে পৌর প্রশাসক সানজিদা আক্তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, এটি একটি জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবসম্মত বাজেট। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পৌরসভা গড়ে তোলা এবং জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে পৌরবাসী উপকার ভোগ করবেন। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, প্রভাষক সিপার উদ্দিন, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসান, হিসাব রক্ষক তাজুল ইসলামসহ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারিকেল গাছের চূড়াতেই যেন আহালুর রুটিরুজি কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ান জেলা থেকে জেলায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


নারিকেল গাছের চূড়াতেই যেন আহালুর রুটিরুজি কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ান জেলা থেকে জেলায়

ভোরের আলো ফুটতেই হাতে দা, কোমরে দড়ি আর কাঁধে প্রয়োজনীয় কয়েকটি সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আহালু। দিনের গন্তব্য কখনো নকলার কোনো গ্রাম, কখনো পাশের উপজেলা, আবার কখনো জেলার সীমানা পেরিয়ে দূরের কোনো জনপদ। গন্তব্যে পৌঁছে মুহূর্তেই উঠে যান উঁচু নারিকেল গাছের মাথায়। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কাছে যা রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য, আহালুর কাছে সেটিই প্রতিদিনের কর্মজীবন। নারিকেল গাছের চূড়াই যেন তার রুটিরুজির ঠিকানা।

শেরপুরের নকলা উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের বাড়ইকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে ৪৭ বছর বয়সী আহালু। প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি পেশাদার গাছি হিসেবে নারিকেল গাছ পরিষ্কার, শুকনো ডাল অপসারণ ও পরিচর্যার কাজ করে আসছেন। জীবনের ঝুঁকি নেওয়া এই পেশাই তার পরিবারের প্রধান অবলম্বন।

আহালুর সংসারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে। দারিদ্রতার কারনে ছেলেরা কেউ লেখাপড়ায় বেশি দূর যেতে পারেনি। বড় ছেলে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। মেজ ছেলে কোরআনে হাফেজ। মেজ ও ছোট ছেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সবার ছোট মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি প্রয়োজন মেটানোর পেছনে রয়েছে আহালুর ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশার ঘাম।

আহালু জানান, প্রায় দেড়যুগ ধরে বোরো ও আমন মৌসুমে ধান রোপণ ও কাটার কাজ করেন। আর বছরের বাকি সময় নারিকেল গাছ পরিষ্কার, শুকনো ডাল অপসারণ ও পরিচর্যার কাজ করেন। তিনি বলেন ‘আগের মতো প্রতিদিন এত গাছে উঠতে পারি না। তবু মাসে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। আগে যখন শরীরে বেশি শক্তি ও সাহস ছিল, তখন মাসে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেছি। শক্তি, সাহস ও সামর্থ কমে যাওয়ায় আয় দিন দিন কমছে।’

তার ভাষ্য, নকলা উপজেলার পূর্বাঞ্চলে নারিকেল গাছের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ওইসব এলাকায় কাজও বেশি মেলে। তবে এখন আর তিনি শুধু নকলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহালুর ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ছবি ও তার মোবাইল নম্বর প্রকাশ করার পরথেকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকেও কাজের ডাক পান। বছরে অন্তত দুই থেকে তিন মাস জেলার বাইরে অবস্থান করে নারিকেল গাছ পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, নিজ জেলার বাহিরে কোনো এলাকায় গেলে সেখানে টানা ১০ থেকে ১২ দিন অবস্থান করে কাজ শেষ করেন। একটি গাছ পরিষ্কার করতে সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেন। তবে শহরাঞ্চলে বৈদ্যুতিক লাইনের পাশের কিংবা ময়লা-আবর্জনার মধ্যে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছে কাজ করলে গাছের মালিকরা স্বেচ্ছায় গাছপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন।

আহালুর দেয়া তথ্য মতে, নকলা উপজেলায় অন্তত ১২ থেকে ১৪ জন পেশাদার গাছি রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাড়ইকান্দি গ্রামের কডা মিয়া, গফুর মিয়া ও ছাইফুল; গনপদ্দী ইউনিয়নের কিংকরপুর এলাকার ছাইদুল ইসলাম এবং মেদীরপাড়ার এলাকার হাকিম মিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের সবার জীবিকার প্রধান উৎস ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশা।

স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম রেজা বলেন, ‘আহালুর সংসার ও সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য আয় সহজে আসে না। প্রতিটি গাছে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তবু সংসারের প্রয়োজনে সেই ঝুঁকিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনেকে। যদিও অনেকে এই পেশার পাশাপাশি অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছেন।”

অন্য এক সাংবাদিক নূর হোসেন জানান, আগে নারিকেল গাছ ছিলো বেশি পক্ষান্তরে গাছির সংখ্যা ছিলো কম। স্বাভাবিক কারনেই সেসময় তাদের চাহিদা বেশি ও মজুরি বেশি ছিলো। এখন গাছ কমেছে, বেড়েছে গাছির সংখ্যা। তাই চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমেছে, কমেছে তাদের আয়।’

গ্রামবাংলার এই গাছিদের জীবন খুব কমই আলোচনায় আসে। অথচ বাড়ির আঙিনার উঁচু নারিকেল গাছ নিরাপদ রাখা, শুকনো ডাল অপসারণ এবং ফলন ধরে রাখতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা আর কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করেই তারা প্রতিদিন গাছের চূড়ায় ওঠেন। নিচে অপেক্ষা করে থাকে পরিবার, আর ওপরে থাকে জীবিকার সন্ধান।

ভূরদী কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্জ মো. ছায়েদুল হক জানান, আহালুর মতো নিম্ন আয়ের মানুষের এই গল্প শুধু একজন গাছির গল্প নয়; এটি গ্রামীণ বাংলাদেশের অসংখ্য নীরব শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, সাহস ও আত্মমর্যাদার গল্প। প্রতিটি গাছে ওঠার সঙ্গে তিনি যেন নতুন করে প্রমাণ করেন, জীবিকার জন্য মানুষের সাহস কতটা উঁচুতে পৌঁছাতে পারে। জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তারা প্রতিদিন গাছের চূড়ায় ওঠেন। সেই ঝুঁকির বিনিময়েই চলে সংসার, এগিয়ে যায় সন্তানের পড়াশোনা, টিকে থাকে একেকটি পরিবার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান জানান, আহালুর মতো গাছিরা আছেন বলেই এখনো নারিকেল গাছ পরিষ্কার করা নিয়ে কৃষকরা চিন্তা করেন না। তানাহলে সময়মত গাছ পরিষ্কারের অভাবে ফলন কমে যেত। ফলশ্রুতিতে কৃষকরা নারিকেল গাছ রোপনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেতন। গাছিদের নিখুঁত হাতের স্পর্শে সময়মত নারিকেল গাছ যথাযথভাবে পরিষ্কারের কারনেই ফলন বাড়ছে এবং নিজেদের উৎপাদিত নারকেলে স্থানীয় চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্কের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নযোগ্য রূপ দিতে হবে: শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


সার্কের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নযোগ্য রূপ দিতে হবে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ বিআইআইএসএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ছবিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এখনো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির আওতায় দেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় সার্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

আজ রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘রিবিল্ডিং ট্রাস্ট, রিনিউইং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেশন: পাথওয়েজ ফর রিভাইটালাইজিং সার্ক’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এটিই সেই জায়গা, যেখানে ইতিহাস ও ভবিষ্যতের মিলন ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সার্ককে শুধু একটি আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে এমন একটি মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করে, যেখানে দেশের কূটনৈতিক ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার সমন্বয় ঘটেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ক বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক উত্তরাধিকার, যার দূরদর্শী উদ্যোগ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাকে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় স্থান করে দেয়।

তিনি বলেন, ‘তবে এ উত্তরাধিকার শুধু অতীতের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।’

সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ব্যাখ্যা করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কেবল একটি স্লোগান নয়। বরং এটি আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে এর অর্থ হলো এমন একটি প্রতিবেশ গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিভক্তি ও দুর্বল অর্থনৈতিক সংযোগের কারণে এটি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে কম সমন্বিত অঞ্চলগুলোর একটি।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক অবিশ্বাস, অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিরোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার ফলে গত কয়েক দশকে এই অঞ্চল বহু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়েছে এবং সার্কও তার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি।

তিনি বলেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সার্ক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। শীর্ষ সম্মেলন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে, রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি রয়েছে এবং আঞ্চলিক সংহতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।’

তবে তিনি বলেছেন, সার্ক এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রাসঙ্গिक। কারণ, এর সনদ এখনো কার্যকর রয়েছে এবং এর সচিবালয়, বিশেষায়িত সংস্থা, আঞ্চলিক কেন্দ্র, আইনি কাঠামো, কারিগরি নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা এখনো সক্রিয় রয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার যে কোনো অর্থবহ উদ্যোগ শুরু করতে হবে সংস্থাটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর সৎ মূল্যায়নের মাধ্যমে।

কথার সঙ্গেসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি সার্কের বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আরও কার্যকর বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়ন ও অনুসরণ সংস্কৃতি জোরদার করাও প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বাস্তবধর্মী ও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার কৌশলের মাধ্যমে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে রয়েছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবেশ শীর্ষ পর্যায়ের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটিকে ‘সর্বোত্তম কার্যকর পর্যায়ে’ পরিচালিত রাখার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘সর্বোত্তম কার্যকর সার্ক’ বলতে নিয়মিত কর্মকর্তা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের বৈঠক, পূর্বনির্ধারিত কার্যক্রমের ক্যালেন্ডার, শক্তিশালী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, বিতর্কহীন খাতে অধিক সহযোগিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল নিশ্চিত করাকে বোঝানো হয়েছে।

তিনি আগ্রহী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রকল্পভিত্তিক নমনীয় সহযোগিতার উপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, যেসব দেশ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, তাদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত এবং পরবর্তীতে অন্য দেশগুলোর যোগদানের পথও উন্মুক্ত রাখতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত প্রায় চার মাসে তিনি সার্কের প্রতিটি সদস্য দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে সবাই অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন আমার মনে হয়, আমাদের ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। সদিচ্ছাকে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপে পরিণত করতে হবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ডকে (এসডিএফ) আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু অভিযোজন, পল্লী উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা এবং সামাজিক উন্নয়ন খাতে কার্যকর আঞ্চলিক প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এ তহবিলের সুশাসন, নেতৃত্ব ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সার্ককে অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সার্ক সনদে বিতর্কিত দ্বিপক্ষীয় বিষয় সংস্থার অভ্যন্তরে আলোচনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং এ নীতিই ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয় যে সার্কের মাধ্যমে কোনো দুটি দেশকে রাজনৈতিক সংলাপে বাধ্য করা হবে। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিটি ক্ষেত্রকে অচল করে দিতে না পারে।’

আঞ্চলিক কাঠামোর বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সার্ক ও বিমসটেককে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা হিসেবে দেখে না।

তিনি বলেন, বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়াকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে, আর সার্ক সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকে প্রতিনিধিত্বকারী সবচেয়ে বিস্তৃত আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম।

তিনি বলেন, ‘এ দুটি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং পরিপূরক সম্পর্ক থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগগুলো বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত কর্মপ্যাকেজ বিবেচনা করছে।

এর মধ্যে ঢাকায় অবস্থানরত সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা, কাঠমান্ডুর সার্ক সচিবালয়ের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে পরামর্শ, মন্ত্রী পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের সম্ভাবনা যাচাই এবং সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে বিস্তৃত কূটনৈতিক যোগাযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সার্ক এখন প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব, বাস্তবধর্মী সহযোগিতা এবং নবায়িত আস্থার অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ সেই আস্থা গড়ে তুলতে অবদান রাখতে প্রস্তুত।’

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উপদেষ্টা এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়া স্টাডিজের বিশিষ্ট ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো রাষ্ট্রদূত তারিক এ. করিম।

আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. শামসুল হক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেটে ছাড় ও সরকারের নীতিতে প্লাস্টিক শিল্পে স্বস্তি : বিপিজিএমইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


বাজেটে ছাড় ও সরকারের নীতিতে প্লাস্টিক শিল্পে স্বস্তি : বিপিজিএমইএ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্ভূত অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি ফলে দেশটির এই উদীয়মান শিল্প খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

তবে, এই সংকটের মাঝে চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর দাবির প্রেক্ষিতে কিছু শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ার ফলে এ খাতে শিল্পে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

আজ সোমবার সকাল ১২টায় বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি সামিম আহমেদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাজধানীতে এলাকাভেদে প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এই স্থবিরতা আরও প্রকট, দৈনিক ১ থেকে ৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই অনিশ্চয়তা প্লাস্টিক কারখানাগুলোতে উৎপাদন ১০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাস্টিকের মূল উপাদানসমূহের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টনে ৮০০-৯০০ ডলার ছিল, বর্তমান সময়ে হরমোজ প্রণালী বন্ধের ফলে তা বেড়ে ১৫০০-১৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্লাস্টিক শিল্পকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে টেনে তুলতে সরকারের তরফে কিছু কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে পিভিসি রেজিন, জিপিএস রেজিন এবং পিইটি রেজিনের ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের ফলে তা প্রত্যাহার করে পূর্বের ন্যায় ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে, যা দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেবে। ফার্মাসিউটিক্যালস মেডিসিন প্যাকেজিং মেটেরিয়ালের জন্য অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের আমদানি শুল্কও ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি বজায় রাখা হয়েছে এবং ওয়েস্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।

এছাড়াও, রপ্তানি প্রণোদনার আওতায় উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, নতুন বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও শিল্পোন্নয়ন সহায়ক হিসেবে আমরা দেখছি। প্লাস্টিক কাঁচামালের মূল সোর্স হলো মিডল ইস্ট যেমন ওমান, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, ইরান। যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টনে ৮০০-৯০০ ডলার ছিল, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে তা বেড়ে ১৫০০-১৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কাঁচামালের দাম ও জাহাজ ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় তৈরি পণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে, যার ফলশ্রুতিতে প্লাস্টিক শিল্প বর্তমানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পিভিসি, পিপিসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যে প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়ালের ২৫ কেজির প্রতি ব্যাগের দাম আগে ছিল ৩২০০ টাকা, তা বর্তমানে ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেজিংয়ের খরচ ৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৩০ পয়সায় ঠেকেছে।

তিনি আরো বলেন, প্লাস্টিক খাতের সংযোজনের জন্য মোট ২৪টি আইটেমের ওপর ডিউটি বা শুল্ক ছাড়ের দাবি করা হয়েছিল। সরকারি তরফে মাত্র ১২টি আইটেমে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পলিসি মেকারদের প্রতি আহ্বান, প্লাস্টিক সেক্টর শুধুমাত্র নিজের জন্য ব্যবসা করে না, বরং অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির জন্যও ব্যবসা করে, তারা সাপ্লাই দেয়, প্যাকেজিং, কম্পোনেন্টে সহায়তা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%