০৬:৫০ পি.এম
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি রবিবার সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং এর নেতা অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলি মুসলিমদের কেবল ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে, কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নিজস্ব নেতৃত্ব গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রামপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, তরুণ মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা হওয়ার মতো মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে, তবে রাজনীতিতে প্রবেশের জন্য তাদের কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেওয়া হয় না।
এএনআই-এর সূত্র অনুযায়ী, ওয়াইসি মন্তব্য করেন, “আমরা আর কোনো নেহেরু, গান্ধী বা যাদবকে আমাদের নেতা বানাব না। এই তরুণ ছেলে-মেয়েরাই আমাদের সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেবে।” তিনি জানান, এআইএমআইএম প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের তরুণদের রাজনীতিতে আসার, দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার এবং শোষিতদের জন্য ন্যায়বিচার আদায় করার সুযোগ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইতালি বিক্ষোভ ও দাঙ্গা দমনে নতুন আইন জারি করেছে
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের মধ্যেও মেধা রয়েছে, কিন্তু আপনাদের কোনো সুযোগ বা প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হচ্ছে না।” ওয়াইসি সমাজবাদী পার্টির অতীত ভূমিকার ওপর প্রশ্ন তুলে যুক্তি দেন যে, মুসলিম সম্প্রদায় কোনো প্রতিদান ছাড়াই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দলকে সমর্থন দিয়ে এসেছে, কিন্তু বিনিময়ে কোনো পর্যাপ্ত উন্নয়নমূলক সুযোগ পায়নি।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আজমগড় জেলার উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলেন—কেন শিবলি কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়নি? তিনি যাদব পরিবারের নির্বাচনী এলাকা সাফাই-তে গড়ে ওঠা উন্নত শিক্ষা ও ক্রীড়া পরিকাঠামোর তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।
আজমগড়ে সমাজবাদী পার্টির দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, “আপনারা আজম গড়কে আসলে কী দিয়েছেন?” ওয়াইসির অভিযোগ, মুসলিম ভোটাররা বারবার সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন করলেও শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পার্টি তাঁদের কোনো নজর দেয়নি।
এআইএমআইএম প্রধান জোর দিয়ে বলেন, মুসলিমদের এখন পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থক হয়ে থাকার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নিজস্ব ভূমিকা দাবি করা উচিত। তিনি বলেন, “এখন এক নতুন চিন্তাভাবনার জন্ম হয়েছে—মুসলিমরা আর অন্যের জন্য নেতা বানানো বন্ধ করে নিজেরাই নেতা হতে চায়। আমরা আর অন্যের সভার কার্পেট পাততে চাই না; আমরা নিজেদের প্রাপ্য অধিকার ও ভাগ নিয়ে কথা বলতে চাই।”
আরও পড়ুন: মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৪
ওয়াইসি আরও বলেন যে, তরুণ মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কেবল বড় নেতাদের স্লোগান দেওয়া বা প্রচার চালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাঁর এই বক্তব্য ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে এআইএমআইএম-এর রাজনৈতিক ভিত্তি প্রসারিত করার একটি অংশ।
ওয়াইসি দলের কর্মী-সমর্থকদের তৃণমূল স্তরে এআইএমআইএম-এর সংগঠনকে শক্তিশালী করার এবং প্রতিটি পোলিং বুথে সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি রামপুরের অর্থনৈতিক সংকট ও শিক্ষাগত চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়গুলির জন্য সমান অধিকার ও সঠিক প্রতিনিধিত্বের দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন