শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৬ পি.এম
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে শুরু হওয়া এ সভা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি মোসা. আছিয়া আক্তার। সংস্থার মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মহাসচিব আলমগীর গনি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নীতিনির্ধারণী পরিষদের সদস্য সচিব মুহাম্মদ মনজুর হোসেন।
সভায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাংগঠনিক কার্যক্রম, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন নীতিনির্ধারণী পরিষদের সভাপতি জামাল হোসেন, সংস্থার নির্বাহী সভাপতি শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফর রশিদ রানা, নির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি ও বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি এম আর প্রিন্স, সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম, আতিকুর রহমান আজাদ, শিহাব উদ্দিন টিপু ও অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল হক।
সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল জেলা সভাপতি মোঃ মামুন-অর-রশিদ, আঃ মজিদ, আরিফুল আলম টিটো, ঢাকা জেলা সভাপতি মহসীন উদ্দিন, পিরোজপুর জেলা সভাপতি হাসান মামুন, ঝালকাঠি জেলা সভাপতি এমদাদুল হক স্বপন, পটুয়াখালী জেলা সভাপতি ফিরোজ আহমেদসহ দেশের ৬৪ জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালদ্বীপে ভারতীয় সেনা থাকবে না, সাদা পোশাকেও নয়: মুইজ্জু মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১০ মে’র পর দেশটিতে কোনো ভারতীয় সামরিক সদস্যের উপস্থিতি থাকবে না। তিনি এমনকি ভারতীয় সেনারা বেসামরিক নাগরিকের পরিচয়ে পোশাক পরিবর্তন করে মালদ্বীপে অবস্থান করবেন—এমন গুজবকেও অস্বীকার করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের সূত্রে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম এডিশন টিভি।
মুইজ্জু এক বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় সামরিক সদস্যরা দেশ ত্যাগ করছেন না কিংবা পোশাক পরিবর্তন করে ফিরে আসছেন—এ ধরনের গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ১০ মে’র পর মালদ্বীপে কোনো ভারতীয় সেনা থাকবে না। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায়ও নয়, বেসামরিক পোশাকেও নয়। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, কোনো ধরনের পোশাকেই ভারতীয় সামরিক সদস্যরা এ দেশে অবস্থান করবেন না।
মুইজ্জুর এই বক্তব্য এমন একটি দিনে এসেছে, যখন মালদ্বীপ চীনের সঙ্গে বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। চীনঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মুইজ্জু গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতীয় সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
মালদ্বীপে বর্তমানে তিনটি বিমান পরিচালনা প্ল্যাটফর্মে মোট ৮৮ জন ভারতীয় সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দুটি হেলিকপ্টার ও একটি ডর্নিয়ার উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশটির জনগণকে মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিবহনসেবা প্রদান করে আসছেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ মে’র মধ্যে তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতীয় সামরিক সদস্যদের সরিয়ে তাদের জায়গায় বেসামরিক কর্মী মোতায়েন করা হবে। এর প্রথম ধাপ ১০ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
এদিকে, গত সপ্তাহে একটি ভারতীয় বেসামরিক দল মালদ্বীপে পৌঁছে তিনটি বিমান প্ল্যাটফর্মের একটির দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
‘সামরিক সদস্যরাই বেসামরিক পোশাকে এসেছেন’—বিরোধীদের অভিযোগ
তবে মুইজ্জু সরকারের বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, ভারত থেকে মালদ্বীপে আসা বেসামরিক কর্মীদের মধ্যে অনেকেই আসলে সামরিক কর্মকর্তা, যারা ইউনিফর্ম খুলে বেসামরিক পোশাক পরিধান করেছেন। বিরোধী দলগুলো সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মালদ্বীপের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসাজনিত জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য দেশটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বিকল্প বিমানসেবা পরিচালনার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এতে ভারতীয়দের পরিবর্তে অন্য দেশের সহায়তায় এ ধরনের সেবা চালানোর মালদ্বীপ সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ক্ষমতায় এসেই ভারতকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি
গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মুইজ্জু শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সামরিক সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তার নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান বক্তব্য ছিল ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতি।
৫ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণেও তিনি ভারতীয় সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়ে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মুইজ্জু আরও বলেন, মালদ্বীপের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে তার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের ‘বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমা’ পুনরুদ্ধারের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মালদ্বীপ
ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মালদ্বীপ ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপ থেকে দেশটির দূরত্ব প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল এবং ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ নটিক্যাল মাইল।
ভারতের কাছে মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রতিবেশী। ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এবং ‘সাগর’ (সাগর—সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিওন) উদ্যোগেও দেশটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
মুইজ্জু সরকারের ভারতবিরোধী অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা তাই শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, গোটা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে আবারো উঠে এসেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ। শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বিষয়ে মন্তব্য করেন।
এক সাংবাদিক ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার একাধিক সাক্ষাৎকার প্রকাশের সময়কালকে আকর্ষণীয় উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান। মুখপাত্র জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, এই সাক্ষাৎকারগুলোর বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।
এদিকে, অন্য এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ বছরের ডিসেম্বরে তার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সঙ্গে নেপথ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের নিশ্চয়তা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি চান স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হোক।এ বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে কিছু জানিয়েছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়েও তার কিছু জানা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে বিদেশে পাঠানোর একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই পরিকল্পনায় গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের অবৈধ ও জোরপূর্বক বিতাড়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেন গভির, ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি ভাষণে জানান, পরিকল্পনার আওতায় প্রথম বছরে গাজা থেকে আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তীতে পরবর্তী ছয় বছরে গাজার প্রায় ২০ লাখ জনসংখ্যার অবশিষ্ট অংশকেও সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য এবং কিছু দেশ রয়েছে, যারা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে ‘প্রস্তুত’। কিন্তু তিনি এসব দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, অধিকৃত অঞ্চল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, গাজা নিয়ে ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিজেদের পরিকল্পনা কতটা কঠোর হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতা চলছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রচেষ্টাও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠানোর প্রস্তাব পশ্চিমা জোটেরযুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক চাপকে আরও তীব্র করছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আসন্ন বোর্ড সভায় ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন প্রস্তাব পাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি লবিং শুরু করেছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সভায় যদি প্রস্তাবটি পাস হয়, তাহলে ইরান পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রিপোর্ট করা হবে।
মূল বিরোধের পটভূমি
পুরোনো প্রস্তাব ও নজরদারি সংঘাত: ২০২৫ সালের জুনে গৃহীত একটি প্রস্তাবে আইএইএ জানিয়েছিল, অঘোষিত স্থানে ইউরেনিয়ামের নমুনার উপস্থিতির বিষয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা না করে ইরান চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
পরিদর্শনের নিষেধাজ্ঞা: রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য আইএইএ কর্মীদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তেহরান।
ইরানের অবস্থান: পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে না। তেহরান বারবার ঘোষণা করেছে যে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ