শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৭ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে কারা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে একই অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে নতুন আইজি প্রিজনস হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, একই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপর কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামকে কারা অধিদপ্তরের নতুন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্প্রতি লেফট্যানেন্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন।
এই দুই কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগের জন্য তাদের চাকরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত ১৯ আগস্ট কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ে মানুষের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এটি জীবনের ভারসাম্য, প্রশান্তি এবং বংশবৃদ্ধির একটি সুন্দর ও পবিত্র অনুঘটক। বিয়ে শুধুমাত্র দুটি মানুষের সামাজিক বন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আত্মিক ও দাম্পত্য প্রশান্তি অর্জনের একটি অপূর্ব ইসলামি মাধ্যম। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে— একজন ব্যক্তি কি চাইলে সারা জীবন বিয়ে না করে একা কাটিয়ে দিতে পারে? ইসলামি শরিয়তে এই সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন কিভাবে করা হয়েছে এবং একজন ব্যক্তির শারীরিক ও সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে বিয়ের বিধান কেমন, তা জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সারা জীবন বিয়ে না করে চিরকুমার বা চিরকুমারী হয়ে থাকা ইসলামে নিরুৎসাহিত ও অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বিষয় হলেও, এটিকে সর্বাবস্থায় সরাসরি ‘হারাম’ বা কবিরা গুনাহ বলা যায় না। শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক অবস্থা এবং পাপাচারের আশঙ্কার ওপর নির্ভর করে বিয়ের হুকুম বা বিধান ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়।
ব্যক্তির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিয়ের শরঈ হুকুম—
ওয়াজিব (অবশ্যকরণীয়): যদি কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক বা প্রবল যৌন চাহিদা থাকে এবং বিয়ে না করলে জেনা, ব্যভিচার কিংবা কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট ভয় থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব। এই অবস্থায় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করে একা থাকা গুনাহের কারণ হতে পারে।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা (সুনির্দিষ্ট সুন্নাত): যে ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক যৌন চাহিদা রয়েছে এবং তিনি নিজেকে হারাম কাজ থেকে মুক্ত রাখার সক্ষমতাও রাখেন, তার জন্য বিয়ে করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি মহানবী (সা.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।
মুবাহ বা জায়েজ: যদি কোনো ব্যক্তির যৌন চাহিদা একেবারেই না থাকে (যেমন— জন্মগত অক্ষমতা, বার্ধক্য কিংবা শারীরিক জটিলতা) এবং বিয়ে না করলেও কোনো প্রকারে গুনাহে জড়ানোর ন্যূনতম ভয় না থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে না করে একাকি জীবন কাটানো জায়েজ বা অনুমোদিত।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিয়ের তাগিদ
ইসলামে বৈরাগ্যবাদ বা চিরকুমার জীবনযাপনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং যথাসময়ে বিয়ের মাধ্যমেই চরিত্র রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَاءِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ
‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস ও দাসীদের বিয়ে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের বিয়ের তাগিদ দিয়ে এবং অহেতুক বৈরাগ্য বর্জন করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কেননা রোজা তার কামভাব দমন করবে।’ (বুখারি ৫০৬৬, মুসলিম ১৪০০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, একাকি থাকা বা অহেতুক বিয়ে এড়িয়ে চলা তার আদর্শের অংশ নয়—
النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
‘বিয়ে হলো আমার সুন্নত (আদর্শ)। সুতরাং যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (ইবনে মাজাহ ১৮৪৬)
বিয়ে কেবল শারীরিক চাহিদাপূরণের হাতিয়ার নয়, বরং এটি দ্বীনকে পূর্ণতা দেওয়ার এবং একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের শরিয়তি মাধ্যম। বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা বা শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে বিনা কারণে সারা জীবন চিরকুমার থাকার মানসিকতা ইসলামী জীবনদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই প্রতিটি সামর্থ্যবান ও সক্ষম মানুষের উচিত সুন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রবের ওপর ভরসা রেখে দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে নিজের চরিত্র ও ঈমানকে হেফাজত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন–জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান পরিচালনা করে ৬৫ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় ওই ভবন থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৭০টি ডিভাইস জব্দ করা হয়।
অভিযানের বিষয়টি খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি এবং সেখানে সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম আসছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
পুলিশের ধারণা, এসব ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, তাদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সঙ্গে বাংলাদেশ সৎ, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে চায়। তিনি সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার অবসান, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধানেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী দিনে তিনি বলেন, "যদি ভারত বাংলাদেশকে সৎ প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়, তবে বাংলাদেশও সৎ প্রতিবেশী হতে চায়।" উভয় পক্ষের সদিচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, তিস্তা সমস্যার সমাধান না হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের কষ্ট দূর হবে না। তিনি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনকাল, রাজনৈতিক সংঘাত, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণের মতামত, ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।"
তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধুমাত্র দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জনগণের অভিজ্ঞতা ও অধিকারকে সামনে রেখে মূল্যায়ন করা উচিত।
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "ওই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো দল বা ব্যক্তি রাষ্ট্রের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে না পারে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ ভারতের সঙ্গে কোনো বৈরী সম্পর্ক চায় না।" বাংলাদেশ চায় যে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের অর্থ একতরফাভাবে কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। বরং উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করাই প্রকৃত বন্ধুত্বের ভিত্তি হতে পারে।
তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অধিকার, দুর্নীতি দমন, প্রশাসনের জবাবদিহি, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, শিল্প ও প্রবাসী কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়, যেখানে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দল রাষ্ট্রের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে না। জনগণের ভোট, মতামত ও অধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের ভুল-ত্রুটি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানোর পরিবর্তে ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল, মর্যাদাপূর্ণ ও জনগণকেন্দ্রিক হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক মত দমন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের শাসনামলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার ও সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ