শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪২ এম
বিয়ে মানুষের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এটি জীবনের ভারসাম্য, প্রশান্তি এবং বংশবৃদ্ধির একটি সুন্দর ও পবিত্র অনুঘটক। বিয়ে শুধুমাত্র দুটি মানুষের সামাজিক বন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আত্মিক ও দাম্পত্য প্রশান্তি অর্জনের একটি অপূর্ব ইসলামি মাধ্যম। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে— একজন ব্যক্তি কি চাইলে সারা জীবন বিয়ে না করে একা কাটিয়ে দিতে পারে? ইসলামি শরিয়তে এই সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন কিভাবে করা হয়েছে এবং একজন ব্যক্তির শারীরিক ও সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে বিয়ের বিধান কেমন, তা জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সারা জীবন বিয়ে না করে চিরকুমার বা চিরকুমারী হয়ে থাকা ইসলামে নিরুৎসাহিত ও অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বিষয় হলেও, এটিকে সর্বাবস্থায় সরাসরি ‘হারাম’ বা কবিরা গুনাহ বলা যায় না। শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক অবস্থা এবং পাপাচারের আশঙ্কার ওপর নির্ভর করে বিয়ের হুকুম বা বিধান ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়।
ব্যক্তির অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিয়ের শরঈ হুকুম—
ওয়াজিব (অবশ্যকরণীয়): যদি কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক বা প্রবল যৌন চাহিদা থাকে এবং বিয়ে না করলে জেনা, ব্যভিচার কিংবা কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট ভয় থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব। এই অবস্থায় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করে একা থাকা গুনাহের কারণ হতে পারে।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা (সুনির্দিষ্ট সুন্নাত): যে ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক যৌন চাহিদা রয়েছে এবং তিনি নিজেকে হারাম কাজ থেকে মুক্ত রাখার সক্ষমতাও রাখেন, তার জন্য বিয়ে করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি মহানবী (সা.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।
মুবাহ বা জায়েজ: যদি কোনো ব্যক্তির যৌন চাহিদা একেবারেই না থাকে (যেমন— জন্মগত অক্ষমতা, বার্ধক্য কিংবা শারীরিক জটিলতা) এবং বিয়ে না করলেও কোনো প্রকারে গুনাহে জড়ানোর ন্যূনতম ভয় না থাকে, তবে তার জন্য বিয়ে না করে একাকি জীবন কাটানো জায়েজ বা অনুমোদিত।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিয়ের তাগিদ
ইসলামে বৈরাগ্যবাদ বা চিরকুমার জীবনযাপনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং যথাসময়ে বিয়ের মাধ্যমেই চরিত্র রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَاءِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ
‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস ও দাসীদের বিয়ে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের বিয়ের তাগিদ দিয়ে এবং অহেতুক বৈরাগ্য বর্জন করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কেননা রোজা তার কামভাব দমন করবে।’ (বুখারি ৫০৬৬, মুসলিম ১৪০০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, একাকি থাকা বা অহেতুক বিয়ে এড়িয়ে চলা তার আদর্শের অংশ নয়—
النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
‘বিয়ে হলো আমার সুন্নত (আদর্শ)। সুতরাং যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (ইবনে মাজাহ ১৮৪৬)
বিয়ে কেবল শারীরিক চাহিদাপূরণের হাতিয়ার নয়, বরং এটি দ্বীনকে পূর্ণতা দেওয়ার এবং একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের শরিয়তি মাধ্যম। বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা বা শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে বিনা কারণে সারা জীবন চিরকুমার থাকার মানসিকতা ইসলামী জীবনদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই প্রতিটি সামর্থ্যবান ও সক্ষম মানুষের উচিত সুন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রবের ওপর ভরসা রেখে দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে নিজের চরিত্র ও ঈমানকে হেফাজত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন–জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান পরিচালনা করে ৬৫ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় ওই ভবন থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৭০টি ডিভাইস জব্দ করা হয়।
অভিযানের বিষয়টি খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি এবং সেখানে সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম আসছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
পুলিশের ধারণা, এসব ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, তাদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সঙ্গে বাংলাদেশ সৎ, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে চায়। তিনি সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার অবসান, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধানেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী দিনে তিনি বলেন, "যদি ভারত বাংলাদেশকে সৎ প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়, তবে বাংলাদেশও সৎ প্রতিবেশী হতে চায়।" উভয় পক্ষের সদিচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, তিস্তা সমস্যার সমাধান না হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের কষ্ট দূর হবে না। তিনি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনকাল, রাজনৈতিক সংঘাত, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণের মতামত, ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।"
তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধুমাত্র দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জনগণের অভিজ্ঞতা ও অধিকারকে সামনে রেখে মূল্যায়ন করা উচিত।
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "ওই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো দল বা ব্যক্তি রাষ্ট্রের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে না পারে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ ভারতের সঙ্গে কোনো বৈরী সম্পর্ক চায় না।" বাংলাদেশ চায় যে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের অর্থ একতরফাভাবে কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। বরং উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করাই প্রকৃত বন্ধুত্বের ভিত্তি হতে পারে।
তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অধিকার, দুর্নীতি দমন, প্রশাসনের জবাবদিহি, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, শিল্প ও প্রবাসী কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়, যেখানে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দল রাষ্ট্রের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে না। জনগণের ভোট, মতামত ও অধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের ভুল-ত্রুটি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানোর পরিবর্তে ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল, মর্যাদাপূর্ণ ও জনগণকেন্দ্রিক হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক মত দমন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের শাসনামলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার ও সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসলে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আজ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত ৩৮তম ইন্টার গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং শেষে রেল ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম জিয়াউল হক এ তথ্য জানান।
ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের অ্যাডিশনাল মেম্বার (ট্রাফিক) দীপক কুমার ঝা এ সময় উল্লেখ করেন, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী মৈত্রী ট্রেন চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ভারত।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ (মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস) পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এই আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম) অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম জিয়াউল হক এবং ভারতের পক্ষে দেশটির রেলওয়ে বোর্ডের অ্যাডিশনাল মেম্বার (ট্রাফিক) দীপক কুমার ঝা নেতৃত্ব দেন। এতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৫ সদস্য এবং ভারতের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক জানান, স্থগিত থাকা ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো এজেন্ডা রাখা হয়নি। কারণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের মূল উদ্যোগ ভারতীয় পক্ষকেই নিতে হবে। ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রস্তাব আসার পর এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন মিললেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, কেবল যাত্রীবাহী ট্রেন নয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য ও ক্রস-বর্ডার ট্রেন চলাচল রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টগুলোর সীমাবদ্ধতা দূর করা, পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানো, বিভিন্ন ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, ওয়াগনের হায়ার চার্জ কমানো, টার্ন এরাউন্ড টাইম হ্রাস এবং পুরাতন ওয়াগনের পরিবর্তে নতুন ওয়াগন পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে আগে চলাচলকারী তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেনের বিষয় তুলে ধরে জিয়াউল হক জানান, দুই বছর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এই সেবা বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনো এজেন্ডা রাখা হয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে সদ্য নির্মিত পদ্মা সেতু দিয়ে ঘুরিয়ে পরিচালনার (রি-রুট) একটি এজেন্ডা প্রস্তাব করা হয়েছিল।
পদ্মা সেতু দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি রুট। নতুন ব্রিজে ট্রেন চালাতে গেলে সেটির ক্যাপাসিটি এবং রুট পরিবর্তনের বেশ কিছু টেকনিক্যাল বিষয় পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চললে যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় বাঁচবে, তবে দূরত্বের পরিবর্তনের সাথে ভাড়া সমন্বয়ের প্রশ্নটিও যুক্ত রয়েছে। এছাড়া ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সুবিধার পাশাপাশি পদ্মা রুট ব্যবহার করলে ট্রেনের দিক পরিবর্তনের জন্য ক্রসওভারের সুবিধাসহ কমলাপুর স্টেশনের বর্তমান ক্যাপাসিটি ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ট্রেনের চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ে এককভাবে আন্তর্জাতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে প্রস্তাব পাঠালে বাংলাদেশ তা মূল্যায়ন করবে এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বন্ধন ও মিতালি এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দুই দেশের কোনো পক্ষ থেকেই এবারের বৈঠকে কোনো এজেন্ডা ছিল না বলে জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই ট্রেনগুলো বন্ধ করেনি। ফলে পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ থেকে সাড়া বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের জন্যই ঢাকা অপেক্ষা করছে।
বৈঠকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্পর্কের বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে নির্ধারিত হয়। তবে দুই দেশের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পেশাদার সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল।
আগরতলা-আখাউড়া রেললাইনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জিয়াউল হক বলেন, পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই রুটে ট্রেন চালানোর জন্য ভারতীয় পক্ষকে একটি বাস্তবসম্মত ডিমান্ড প্রজেকশন বা চাহিদার নথিপত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত মিটিং থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো নতুন আপডেট বা যোগাযোগ আসেনি। বৈঠকে তাদের পূর্বের সেই সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীপক কুমার ঝা জানান, যৌথ বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল এবং যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ অংশের প্রস্তাব অনুযায়ী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি পদ্মা সেতু দিয়ে চালুর বিষয়টি ভারতীয় এজেন্ডার অংশ ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এসব বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
আজ জাতীয় সংসদে যশোর-৫ আসনের বিরোধী দলের সদস্য কাজী এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। মন্ত্রী বলেন, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করা বাংলাদেশি নাগরিকরা ওই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার অধীন থাকেন, তাই সরকারকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হয়।
তিনি আরও জানান, বিদেশের কারাগারে বন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন কারাগার অথবা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর আটক ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, মামলাসংক্রান্ত পরামর্শ এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, যদি কোনো বন্দির আইনজীবী নিয়োগের সক্ষমতা না থাকে, তবে আদালতের মাধ্যমে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশন প্রচেষ্টা চালায়। বন্দির পরিবার যদি আলাদাভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে চান, তাহলে মিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন হলে বন্দির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরিমানা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। একইসাথে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। যদি পরিবার প্রত্যাবাসন ব্যয় বহনে অসমর্থ হয়, তবে সরকারি অর্থে ওই ব্যয় বহন করা হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় প্রটোকলসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্রুত ট্রাভেল পাস ইস্যুর ব্যবস্থা করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশস্থ বাংলাদেশের মিশনগুলো এই সেবাগুলো প্রদান করে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তিনি জানান, ক্ষেত্রবিশেষে স্বাগতিক দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার জন্যও জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিক এবং মিয়ানমারে আটক তিন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি পোর্টাল চালু করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ