সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৪ পি.এম
বর্ষা এবং বন্যার মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে ব্রহ্মপুত্রের তীরে কোনোমতে মাথা গুঁজে বছরটি পার করার পরিকল্পনা করেছিলেন মাইদুল ইসলাম। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ব্রহ্মপুত্রের জলস্তর বেড়ে গেছে। চরগুলোতে ভাঙন চলছে। এতে টিকতে না পেরে নতুন ঠিকানার উদ্দেশ্যে নৌকায় মালপত্র বোঝাই করে চলেছেন তারা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকায় ব্রহ্মপুত্রের চর কালির আলগা ও গোয়ালপুরী যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এই চরগুলোতে বর্তমানে ভাঙনের তাণ্ডব চলছে। তিন দিক থেকে ব্রহ্মপুত্র চরগুলোকে গিলে ফেলতে চাইছে। তাই নতুন ঠিকানার খোঁজে বাসিন্দারা চতুর্থ দিকে পাড়ি দিচ্ছেন।
মাইদুল তাদের মধ্যে একজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময় মাইদুল বলেন, ‘দুই মাসে হাফ কিলোমিটার ভাঙল। এই চরে আমার থাকার আশ্রয় নাই। বাধ্য হয়ে তিন কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ কালির আলগা চরে চলে যাচ্ছি। ওখানে কী হবে আল্লাহ জানেন।’
আড়াই হাজার টাকা নৌকাভাড়া করে মাইদুল নতুন গন্তব্যে যেতে পারলেও ভাঙনে চরম দুর্ভোগে পড়া অনেক পরিবার তা করতে পারছে না। গোয়ালপুরী চরে অন্তত ৫০টি পরিবার ঘর ভেঙে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। কিছু পরিবার জায়গা ভাড়া নিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। অর্থ ও জমির অভাবে নতুন ঠিকানা তৈরির সামর্থ্য নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, গোয়ালপুরী ও রলাকাটায় গত দুই সপ্তাহে প্রায় দেড়শ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ দুটি চরে ৩০০ পরিবার ভিটে হারিয়েছে। কালির আলগা চরের শেষ চিহ্ন মুছে যাচ্ছে। সেখানে এ বছর গৃহহীন হয়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবার।
ইউপি সদস্য আরও জানান, গত দুই সপ্তাহে গোয়ালপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ালপুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঈদগাহ মাঠ ও একটি মাদরাসা ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০টি পরিবারকে কিছু সহায়তা প্রদান করা হলেও বাকিরা তেমন কোনো সহায়তা পায়নি।
গোয়ালপুরী চরের বাসিন্দা খায়রুন্নেসা জানান, তার ঘর ভেঙে ফাঁকা জমিতে রেখেছেন। জমি এবং টাকা নেই। কোথায় যাবেন জানেন না। তিনি বলেন, ‘ভাঙা বাড়িঘরে আছি বাবা। ট্যাহা-পয়সা নাই। অভাবী সংসার। যামু কই? ট্যাহা-পয়সা জোগাড় কইর্যা কোনোহানে যামু। তার আগে ভাইস্যা গেলে যামু।’
খায়রুন্নেসার প্রতিবেশী জেলেমন বেওয়ার গোয়ালঘরের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি ঘর ভেঙে রেখেছেন পাশের জমিতে। মালামাল পড়ে আছে যত্রতত্র। এখনও গন্তব্য ঠিক করতে পারেননি। অসহায় এই বৃদ্ধা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘ঘর দুইটা হ্যাঙ্গা দিয়া রাখছি। ট্যাহা না থাকলে জাগা-জমি কিনি কী কইর্যা।’
একই অবস্থা আল আমিন, পনির উদ্দিন, আব্দুল খালেকসহ অনেকের। নতুন চরে প্রতিবিঘা জমির মূল্য ৩০-৪০ হাজার টাকা। এই টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে টিনের চাল ও ঘরের মালামাল খোলা জায়গায় ফেলে রেখেছেন। তারা চালাঘর তুলে মাথা গুঁজে আছেন।
তারা জানান, কেউ কেউ মহাজনের কাছে দাদন নিচ্ছেন, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ধার-দেনা করছেন। আর যারা টাকা জোগাড় করতে পারছেন না, তারা পড়ে আছেন ভাঙা সংসারে।
কালির আলগা চরের হামেদ আলী, মর্তুজা ও আনোয়ার হোসেন জানান, পুরনো কালির আলগা থেকে ৩০০টি পরিবার দক্ষিণ কালির আলগায় নতুন চরে চলে গেছে। ঠিকানা না পেয়ে ২০-২২টি পরিবার ঝুঁকি নিয়ে পড়ে রয়েছেন। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে কালির আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, রলাকাটা, কালির আলগা, গোয়ালপুরী ছাড়াও শিবেরপাচি, অষ্ট্রআশিসহ কয়েকটি চরে কমবেশি ভাঙন চলছে। অনেকেই ঘর তুলতে পারেননি। দিন দিন গৃহহীন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এমনকি সাবমেরিন ক্যাবল নাইনের মাধ্যমে যাওয়া বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙনের মুখে পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ভাঙনের শিকার কয়েকটি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ঘর নির্মাণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, চরাঞ্চলে নদীভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার সুযোগ নেই। তবে ভাঙন রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অনেক সময় বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে কাজ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের ব্যাংক খাতের মতো বীমা খাতেও লুটপাট চলছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বীমা খাতে মানুষের বিপুল পরিমাণ সম্পদ নষ্ট হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি জানান, গ্রাহকের পাওনা বীমা দাবি পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সময় বেঁধে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ৫৭ শতাংশ বীমা দাবি এখনো অপরিশোধিত রয়েছে। কিছু কোম্পানি গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ না করে নিজেদের সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দাবি পরিশোধ করতে তাদের সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। যদি এর মধ্যে পরিশোধ না করা হয়, তবে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে জনগণের টাকা দেওয়া হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত অটোমেশনের আওতায় আসার নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি বলেন, সকল বীমা কোম্পানিকে অটোমেশনে যেতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময়সভায় বীমা খাতের অনিয়ম, গ্রাহকের দাবি পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা এবং খাতটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকের পাওনা দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত-শিবির যদি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি এত ভালোবাসা অনুভব করে, তাহলে তাদের বাংলাদেশ ত্যাগ করে পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াত-শিবির বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘ভবিষ্যতে জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ বানাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা এর একটি প্রমাণ।’
তিনি পোস্টে আরও লেখেন, ‘ডাকসুকে পুরো জামাতিকরণ করেছে শিবির! ডাকসু যেন শিবিরের প্রধান কার্যালয়! আর তার অংশ হিসেবে ডাকসুতে দেশবিরোধী ও ভাষাবিরোধীদের ছবি টাঙিয়েছে জামায়াত-শিবির!’
ছবি টাঙানোর প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘ছবি যদি টাঙাতে হয়, তবে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে জনগণ কর্তৃক গোলাম আযমকে জুতা নিক্ষেপের ছবিও টাঙানো উচিত!’
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের জাতির পিতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে যদি এত ভালো লাগে, তবে বাংলাদেশ ছেড়ে জামায়াত-শিবিরের পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা উচিত!’
তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বাংলাদেশে থেকে দেশবিরোধী শক্তিকে প্রাসঙ্গিক করার দুঃসাহস জামায়াত-শিবির কোত্থেকে পায়?’
রাশেদ খান বলেন, ‘সময় থাকতে এই শক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে, এরা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য বানিয়ে ছাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান প্রযুক্তি, পর্যটন এবং অন্যান্য সৃজনশীল খাতে তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডুর একটি স্থানীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান প্রফেশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর ৭ম আসরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
‘Season Media’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নেপালের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাম বরণ যাদব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, কোরিয়া সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রদূত বক্তব্যের শুরুতে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান, যারা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে এবং কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প, উদ্ভাবন ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে উৎসাহিত করে।
রাষ্ট্রদূত এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রযুক্তি, পর্যটন এবং অন্যান্য সৃজনশীল খাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এশিয়ার দেশগুলোর জনগণ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়ার সাংবাদিক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পর্যটন এবং অন্যান্য সৃজনশীল শিল্পে এশিয়ার বিপুল সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
রাষ্ট্রদূত নেপালে উৎকর্ষকে স্বীকৃতি ও উদযাপনের দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির প্রশংসা করেন এবং দেশটির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, নেপালি সমাজের সৌন্দর্য ও দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নেপালের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, বুদ্ধের কালজয়ী শিক্ষা এবং দেশটির অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, বিনয়, পারস্পরিক স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধাবোধের এক গভীর দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের চমৎকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার কথাও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন।
‘এশিয়ান প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড’ নেপালের গণমাধ্যম অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পখাতে দীর্ঘদিনের অবদান ও শিল্প নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পঞ্চকন্যা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রেম বাহাদুর শ্রেষ্ঠকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া, বিভিন্ন খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন বাংলাদেশিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন—আলহাজ মো. সোহাগ, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, মিম শরৎ গ্রুপ (Outstanding Business Leadership & Social Responsibility Award); ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ, প্রধান ফটোসাংবাদিক, দৈনিক খবরের কাগজ (Excellence in Photojournalism Award); এবং মো. শরীফ সারোয়ার আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার (Ocean & Underwater Photography Excellence Award)।
নেপাল ফটোগ্রাফি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ‘Season Media’ -এর চেয়ারম্যান প্রদীপ রাজ আন্তোসহ নেপাল ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
তিনি সিটিটিসি, ডিবি এবং থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন।
আজ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
ডিএমপি’র মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং ডিউটির কোনো ঘাটতি না থাকে। সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনের সময় যেন এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উত্তম কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার। সভায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ