সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৬ এম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) রহস্যজনকভাবে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য প্রদান করেনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে জানান, ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, "এটি একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং এ নিয়ে দলটির কোনো বক্তব্য দেওয়ার কিছু নেই।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল বর্তমানে জামায়াতের সদস্য নন এবং ব্যক্তিগত অপরাধ বা এই মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে স্বীকার করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেয় দলটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী শেরেবাংলা নগরে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত একটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী গ্রেফতার দুজনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
পরে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, কক্ষটি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের। পরবর্তীতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথমে এটি এআই ব্যবহার করে তৈরি করা বলে দাবি করেন।
এ ঘটনার পর সংসদ সদস্য তার ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে এক পোস্ট দেন। সেখানে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কর্পোরেট জীবনের প্রচণ্ড চাপ আর মানসিক অবসাদ কাটাতে আইনজীবী পেশা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর বয়সি এক নারী। লিজ ইস্ট নামের ওই নারী এখন পেশাদার কুকুর হাঁটনো বা ‘ডগ ওয়াকার’ হিসেবে কাজ করছেন। আর এতে তিনি আগের চেয়ে অনেক কম কাজ করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।
পিপল ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এর আগে চার বছর ধরে ফৌজদারি মামলা ও অপরাধ দমন সংক্রান্ত আইনি সেবায় (ক্রিমিনাল ডিফেন্স) যুক্ত ছিলেন লিজ। প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে আদালতে যাওয়া, এমনকি কারাগারে গিয়ে মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলা—সবকিছুই করতে হতো তাকে। তবে এই কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ তার মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছিল।
লিজ জানান, দীর্ঘ সময় কাজ এবং লন্ডনের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে তার জীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। মাঝেমধ্যে রাত ৯টা বা ১০টা বেজে যেত বাসায় ফিরতে। তার মনে হয়েছিল, এই জীবন পরিবার গঠনের জন্য একেবারেই টেকসই নয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে তিনি একসময় পুরোপুরি মানসিক অবসাদের (বার্নআউট) শিকার হওয়ার ভয় পেয়েছিলেন।
এরই মধ্যে তার স্বামীর ডগ ওয়াকিং ও ডগ বোর্ডিংয়ের ব্যবসা দেখে তার মনে অনুপ্রেরণা জাগে। তিনি ভাবলেন, স্বামী যদি নিজের কাজ এত ভালোবেসে করতে পারেন, তবে তিনি কেন ছুটির দিনেও কাজের ভয়ে মন খারাপ করে থাকবেন?
এরপরই তিনি বড় সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ব্যবসার কাস্টমার বা মক্কেল জোগাড় করার সময় খরচ চালানোর জন্য প্রথমে একটি স্থানীয় পাবে চাকরি নেন তিনি। এভাবে মাত্র এক বছরের মধ্যে তার নিয়মিত ব্যবসার পরিধি বেশ বড় হয়ে যায়।
বর্তমানে লিজ প্রতিদিন চারটি দলে ভাগ করে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি কুকুর নিয়ে হাঁটেন। প্রতি কুকুরের জন্য ঘণ্টায় ১৪ পাউন্ড করে নিয়ে তার প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পাউন্ড আয় হয়।
অনেকেই তাকে প্রশ্ন করেন, এত পড়াশোনা করে শেষ পর্যন্ত কুকুর হাঁটার কাজ বেছে নিলেন?
উত্তরে লিজ বলেন, ‘অনেকে মনে করেন এই পেশায় আয় কম। কিন্তু আমি কর্পোরেট চাকরির চেয়ে এখন অর্ধেক সময় কাজ করে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করছি। আইন পড়ার দিনগুলোকে আমি নষ্ট মনে করি না, কারণ সেখান থেকে শেখা অভিজ্ঞতা এখনো আমার নানা কাজে লাগে।’
তবে এই পেশায় আসার জন্য কেবল অর্থের পিছু ছুটলে চলবে না বলে সতর্ক করেছেন লিজ। তার মতে, কুকুর ও প্রকৃতির প্রতি যার নিঃশর্ত ভালোবাসা রয়েছে, কেবল তার জন্যই এই পেশাটি উপযুক্ত।
লিজ বলেন, ‘আমার ডিগ্রিটি সবসময় আমার সঙ্গেই থাকবে, চাইলে আমি যেকোনো সময় আইন পেশায় ফিরে যেতে পারব। যদিও মনে হয় না যে আমার আর কখনো সেখানে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, কারণ বর্তমান কাজটিকে আমি সত্যি ভীষণ ভালোবাসি।’
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক বয়কট করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এমনটি জানিয়েছেন দলটির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই সরকারকে সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সংবিধান সংশোধনের জন্য। প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে চলমান সংকটের সমাধান না হয়ে তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের সংশোধন কীভাবে হবে, সেটি গণভোটে রায় দেওয়া হয়েছে। এটি অবশ্যই সংবিধান সংশোধন পরিষদের মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে। যদি সংবিধান সংশোধনের বিষয়গুলো সংশোধনীর মাধ্যমে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ যে সাংবিধানিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেটি আরও ঘনীভূত হবে।
গণভোটের রায় সম্পর্কে এনসিপির এই নেতা বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে গণভোটের রায় অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। অন্যথায় দেশের চলমান সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলেছি, সংবিধান সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করতে হবে। সরকার যদি সেই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা সেখানে আলোচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতিতে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আমরা অংশ নেব না।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মামলাজটে ব্যাহত হচ্ছে সারাদেশে শিক্ষা প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩টি বিভাগ, ১৬টি দপ্তর, ১১টি শিক্ষা বোর্ড এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন আদালতে ১৩ হাজার ৭৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে ১০ হাজার ১৫২টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট মামলা। আর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিরুদ্ধে ৮ হাজার ৮৯৩টি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বিরুদ্ধে এক হাজার ১৫৯টি মামলা রয়েছে। ওসব মামলায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, এমপিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। তবে চলমান মামলার প্রায় ৩০ শতাংশ বিগত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হয়েছে। আর ওই অধিকাংশ মামলাই স্কুল-কলেজের অ্যাডহক কমিটি বাতিল বা নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হয়েছে। মামলার কারণে বর্তমানে শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। কোথাও একাধিক কমিটি, কোথাও নিয়মিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট ৩ হাজার ৪২৬টি মামলার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) বিরুদ্ধেই ৩ হাজার ২৮২টি মামলা রয়েছে। ওসব মামলার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে বহু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, এমপিও, কমিটি অনুমোদন, এমনকি নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানের কাজ। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিক্ষা প্রশাসনে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডেশন, এমপিও, বেতন-ভাতা, বিভাগীয় শাস্তি, চাকরিচ্যুতি, জাতীয়করণ, কোটা, ভর্তি, পেনশন, অডিট আপত্তি, শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত এবং পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে সবচেয়ে বেশি মামলা হচ্ছে। শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই ১২ ধরনের ত্রুটি নিয়ে মামলা হচ্ছে। আর স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটি নিয়ে ১৮ ধরনের মামলা রয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনে মোট ১০৮টি বিষয়ে মামলা হচ্ছে। তার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ ধরনের বিষয়ে মামলার কারণে নিয়মিত আদালতে যেতে হচ্ছে। মামলার কারণে প্রায় ৬ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে ছিলো। তবে সমপ্রতি তার নিষ্পত্তি হলেও অন্য নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট মামলার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক সংকট তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি অচল হয়ে পড়ছে প্রশাসনিক কাঠামো।
সূত্র জানায়, আদালতে মামলার কারণে মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা সমপ্রসারণে পরিচালিত সেসিপ প্রকল্পের কয়েকশ শিক্ষক কাজ চালাতে পারছে না দীর্ঘন। বিগত ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া ওই শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও নিয়োগ বৈধতা নিয়ে মামলা থাকায় অনেককেই বিদ্যালয়ে পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে ব্যবহার হচ্ছে না দেশের শত শত বিদ্যালয়ে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি। আর ওসব যন্ত্রপাতি পড়ে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালাবদ্ধ অবস্থায়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ৮৩১টি মামলা রয়েছে। যা ওই বিভাগের মোট মামলার প্রায় ৬৮ শতাংশ। ওসব মামলার বেশির ভাগ শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, এমপিও, ইনসিটু, ওএসডি, গভর্নিং বডি গঠন, বেতন বিল, জাল কাগজে এমপিও এবং শিক্ষার্থী ভর্তি-সংক্রান্ত। তাছাড়া দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্ট এক হাজার ৬৬৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এক হাজার ৫৫২টি, আর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১১১টি মামলা রয়েছে। মামলার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। মামলার সংখ্যা ২৭৩টি। আর ২৬৩টি মামলা নিয়ে তার পরের অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। তাছাড়া রাজশাহী ২০৯টি, দিনাজপুর ১৮৩টি, ময়মনসিংহ ১৬৩টি ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৬৯টি মামলা রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রায় ৭১ শতাংশ মামলা ব্যবস্থাপনা কমিটি, পরীক্ষার ফল পুননির্রীক্ষণ, গভর্নিং বডি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪ -এর সংশোধনী আনে গত বছর। সংশোধনীতে কমিটির সভাপতি মনোনয়ন-সংক্রান্ত ১৩(১) বিধি এবং যোগ্যতা-সংক্রান্ত বিধিতে সংশোধনী আনা হয়। ইতিপূবে স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ওই সুপারিশে ম্যানেজিং কমিটিতে সরকারি চাকরিজীবীদের রাখার কথা বলা হয়। তখন সরকার বিধিমালায় সংশোধন এনে সিদ্ধান্ত দেয়, সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্মরত নবম গ্রেডের নিচে নন এমন কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা সভাপতি হতে পারবেন। ওই সংশোধিত বিধি চ্যালেঞ্জ করে চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি উচ্চ আদালতে রিট মামলা করেছেন।
এদিকে মামলার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দিলেও সরকারের নির্ধারিত ফি কম হওয়ায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবীরা আগ্রহী হয় না। বর্তমানে ফি কাঠামো অনুযায়ী আরজি বা জবাব প্রস্তুতের জন্য ২০ হাজার টাকা, চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২০ হাজার টাকা এবং আইনি মতামতের জন্য ৩ হাজার টাকা দেয়া হয়। আইনজীবীদের মতে, সরকারি মামলায় যে পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তা অত্যন্ত কম। অথচ প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মামলা হচ্ছে। অথচ নিষ্পত্তির গতি কম।
এদিকে এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশের বিভিন্ন আদালতে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওসব মামলার কারণে ব্যাহত হচ্ছে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ