শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৪ পি.এম
ভারতের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছেন রোহিত যাদব, যিনি বয়স চুরি করে বিশ্বকাপ জিতেছেন আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার।গত জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছিলেন লেগস্পিনার রোহিত যাদব। আসন্ন যুব সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দলে তার ডাক পড়েছিল।কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্য বিপর্যস্ত হয়েছে। বয়স লুকানোর তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই উদীয়মান ক্রিকেটারকে। শুধু রোহিত নয়, বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারের নামও এসেছে।ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) নতুন মৌসুমের আগে খেলোয়াড়দের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে এই তথ্য বেরিয়ে আসে। রোহিতের জমা দেওয়া কাগজপত্রের সঙ্গে তার প্রকৃত বয়সের মধ্যে প্রায় ২৭ মাসের ব্যবধান পাওয়া গেছে। জালিয়াতি ধরা পড়ার পরপরই তাকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ সিরিজের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এখন আগামী দুই বছর সিএবি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর কোনো ম্যাচে আর মাঠে নামতে পারবেন না এই লেগস্পিনার।এছাড়া, সিএবির এই নথিভিত্তিক অভিযানে মোট ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়সে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। সেই তালিকায় ২০২২ সালে ভারতের যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের তারকা পেসার রবি কুমারের নামও রয়েছে। ফাইনাল ম্যাচে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করা বাঁহাতি পেসারের বয়সে পার্থক্য পাওয়া গেছে অবিশ্বাস্য ৪০ মাস। ফলে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত তার জমাদানকারী সব বয়সভিত্তিক নথি বাতিল বলে ঘোষণা করেছে সিএবি।উল্লেখ্য, ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতি রোধে ২০২০ সালে বিসিসিআই একটি বিশেষ ‘ক্ষমা পরিকল্পনা’ (অ্যামনেস্টি স্কিম) চালু করেছিল, যেখানে স্বেচ্ছায় সঠিক বয়স স্বীকার করলে শাস্তি মওকুফের সুযোগ ছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে জন্মনিবন্ধন, স্কুলের সনদসহ বিভিন্ন নথিপত্র জমা নেওয়া সত্ত্বেও একটি রাজ্য সংস্থায় ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়স জালিয়াতির ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন মডেলে কাজ শুরু হয়েছে। পতেঙ্গার দু’টি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে তার যাত্রা শুরু হলো। এর মাধ্যমে পানি সংকট কেটে যাবে।’
আজ (শুক্রবার) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’র একটি হলরুমে শহরের সুবিধাবঞ্চিত জনগণের মধ্যে পানি-সরবরাহ সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চুক্তির আওতায় ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান একটি তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন (বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান) ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেনের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনগণের পক্ষে ইসরাফিল খসরু ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন সমঝোতা স্মারকের সাক্ষী ছিলেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এই উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এর অংশ হিসেবে নগরীর প্রান্তিক পর্যায়ে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গায় একটি নতুন পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের সরকার বদ্ধপরিকর, কিন্তু শুধু সরকার একা এটা করতে পারে না, এ জন্য পার্টনারশিপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মডেলে পানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করছি আমরা। এই প্রকল্পে নেদারল্যান্ড দূতাবাস, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা একসাথে কাজ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন অর্থনীতির সংজ্ঞাও বদলে গেছে। আগে সব সরকার করত। এখন সরকারের পক্ষে একা তো সবকিছু করা সম্ভব না। সরকারি সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা এই পার্টনারশিপটা সব জায়গায় অ্যাপ্লাই করছি। আমাদের পুরো অর্থনীতি মডেলে নতুন পদ্ধতি শুরু করেছি; আগে যেখানে ফাইন্যান্সিং শুধু লিমিটেড কিছু জায়গা থেকে হতো এখন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এখন আমরা লিমিটেড জায়গা থেকে সরে গিয়ে পিপিপি মডেলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছি। তার অর্থটা হচ্ছে, সরকার টাকা দেবে, প্রাইভেট সেক্টরও টাকা দেবে, এনজিওরা সহযোগিতা করবে। এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে যে মডেল আমরা দাঁড় করাচ্ছি, সেটা দীর্ঘমেয়াদী হবে, সেটার উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে। এবং এটার বেনিফিট পেতে মেইনটেনেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যায় যে সরকার অনেককিছু করে, কিন্তু এগুলো আবার মেইনটেনেন্স করা হয় না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এইখানে কিন্তু পুরো প্যাকেজটা ওইভাবে করা হচ্ছে। আমরা ক্লিন ওয়াটারের সাথে সাথে বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যাটাও আমরা সিরিয়াসলি দেখছি। এটা নিয়েও নেদারল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে।’
চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির আওতায় তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে, যার শুরু হবে কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ ওয়ার্ডের চাহিদা নিরূপণ ও পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে এটিই এ ধরনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা, যেটি বাংলাদেশের পানি সরবরাহ খাতের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা করেছে।
চলতি বছরের মে মাসে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (ম্যাক্স ট্যাপওয়াটার)-পরিচালিত একটি সমীক্ষার পর এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলো।
ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানি প্রাপ্তির সুযোগ সীমিত। ওই দুটি ওয়ার্ডের মাত্র ২০-৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক পৌঁছেছে।
সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, দুটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাসিন্দা বর্তমানে সেখানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৮৫-১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার করে পানি কেনেন, যার জন্য ব্যয় হয় ২৫ থেকে ৫০ টাকা করে। এতে আরও দেখা যায় যে, এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি অত্যন্ত লবণাক্ত, পরীক্ষায় যার মাত্রা জাতীয় নিরাপদ সীমা ১ হাজার পিপিএম-এর বিপরীতে ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডিজিএফআই পরিচয়ে অবস্থানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে ফতুল্লার ভূইঘর সাহেবপাড়া পঞ্চায়েতের মোড় এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার বজর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রায়হান মাহাবুব আলম (৩৬), সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় রহিম মার্কেট এলাকার মৃত দুলাল গাজীর ছেলে মোহাম্মদ সাদ্দাম গাজী (৩০) এবং ফতুল্লার ভূইঘর পূর্বপাড়া এলাকার আ. ছালাম হোসেনের ছেলে নাসির হোসেন (৩৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়ে ওই এলাকায় অবস্থান করছে—এমন খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে তিনজনকে আটক করা হয়।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কথাবার্তায় অসংগতি পাওয়া যায়। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা বৈধ কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র ও ব্যবহৃত ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে বহনকারী গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তিনি ঢাকা থেকে তার নির্বাচনী জেলা জয়পুরহাটে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুর্ঘটনার ফলে প্রতিমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী নাজমা আরা বেগম আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় আহত এক পথচারী নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটি ফিরোজা বেগম (৬০) নামে এক নারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সড়কের পাশে ধানখেতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা আহত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজামুদ্দিন সরদারের স্ত্রী ছিলেন।অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রীকে কালাইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী সুস্থ আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর ডান পা, বাম পায়ের সোল্ডার এবং বুকে আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাট চাষ কইরা কি করুম? ১ মন পাট বেইচ্চা ১ মন চাইল কিনতে পারি না। জাইন্না-শুইন্না কে লস দিবে?’—এভাবে প্রশ্নের জবাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের কৃষক ছালে মুছা মিয়া জানান কেন তিনি পাট চাষে আগ্রহী নন।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পাট চাষে এক সময় বেশ অগ্রসর ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি এবং দামের অস্থিতিশীলতার কারণে ১৩টি ইউনিয়নে পাট চাষের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমে যেখানে আগে পাট ক্ষেত ছিল, সেখানে এখন ধান চাষ হচ্ছে।এছাড়া, পাট পচানোর স্থান সীমিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে পাট চাষের প্রতি আগ্রহ কমে গেছেবৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই উপজেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ১৩২০ হেক্টর জমিতে, কিন্তু চলতিমৌসুমে তা কমে ১২৭০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারের আবাদ কমেছে।বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বাঞ্ছারামপুরের চাষিরাও পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। গত দুই-তিন বছরে পাট চাষ করে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। পাট কাটার পর বহন করে নদী, বিল, খাল ও পুকুরে জাগ দিতে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এই কারণে চলতি মৌসুমে কৃষকরা পাটের পরিবর্তে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।তেজখালি ইউনিয়নের বিষ্ণারামপুর গ্রামের চাষি সফর আলী জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৬-১৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়।বিঘাতে পাট হয় ১০-১২ মণ, এবং প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় ৩ হাজার ৫ শ টাকা পর্যন্ত। এই দামে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ ওঠানো সম্ভব নয়। গত বছর তিনি ৪ কানি জমিতে পাট চাষ করেছিলেন, কিন্তু এবারে তা কমিয়ে ২ কানিতে চাষ করেছেন। বৃষ্টির কারণে ৫ বিঘা জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে।এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো আবদুল্লাহ মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, চাষিরা ধান চাষে ঝুঁকে পড়ায় পাট চাষের পরিমাণ কমেছে। তবে কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি সত্য যে পাটের তুলনায় আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ