শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৪ পি.এম
পাট চাষ কইরা কি করুম? ১ মন পাট বেইচ্চা ১ মন চাইল কিনতে পারি না। জাইন্না-শুইন্না কে লস দিবে?’—এভাবে প্রশ্নের জবাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের কৃষক ছালে মুছা মিয়া জানান কেন তিনি পাট চাষে আগ্রহী নন।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পাট চাষে এক সময় বেশ অগ্রসর ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি এবং দামের অস্থিতিশীলতার কারণে ১৩টি ইউনিয়নে পাট চাষের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমে যেখানে আগে পাট ক্ষেত ছিল, সেখানে এখন ধান চাষ হচ্ছে।এছাড়া, পাট পচানোর স্থান সীমিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে পাট চাষের প্রতি আগ্রহ কমে গেছেবৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই উপজেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ১৩২০ হেক্টর জমিতে, কিন্তু চলতিমৌসুমে তা কমে ১২৭০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারের আবাদ কমেছে।বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বাঞ্ছারামপুরের চাষিরাও পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। গত দুই-তিন বছরে পাট চাষ করে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। পাট কাটার পর বহন করে নদী, বিল, খাল ও পুকুরে জাগ দিতে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এই কারণে চলতি মৌসুমে কৃষকরা পাটের পরিবর্তে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।তেজখালি ইউনিয়নের বিষ্ণারামপুর গ্রামের চাষি সফর আলী জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৬-১৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়।বিঘাতে পাট হয় ১০-১২ মণ, এবং প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় ৩ হাজার ৫ শ টাকা পর্যন্ত। এই দামে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ ওঠানো সম্ভব নয়। গত বছর তিনি ৪ কানি জমিতে পাট চাষ করেছিলেন, কিন্তু এবারে তা কমিয়ে ২ কানিতে চাষ করেছেন। বৃষ্টির কারণে ৫ বিঘা জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে।এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো আবদুল্লাহ মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, চাষিরা ধান চাষে ঝুঁকে পড়ায় পাট চাষের পরিমাণ কমেছে। তবে কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি সত্য যে পাটের তুলনায় আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ বসনিয়ার মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধী জেনারেল রাতকো ম্লাদিককে সামরিক মর্যাদা প্রদান করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি কারা হাসপাতালে ৮৪ বছর বয়সে মারা যান।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে রাতকো ম্লাদিকের মৃতদেহ সার্বিয়াতে পৌঁছায়। বসনিয়ার কসাই নামে পরিচিত এই যুদ্ধাপরাধীর কফিনটি সার্বিয়ার পতাকায় মোড়ানো ছিল। তার মরদেহ বহন করতে ছয়জন সেনা উপস্থিত ছিলেন এবং সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ও বিচারমন্ত্রী নেনান্দ ভুজিক।
পুলিশের স্কর্টে তার মরদেহ বেলগ্রেডের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুর কারণ জানার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিলেন যে, এই দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানো হবে। রাতকো ম্লাদিক ১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধে আট হাজার মুসলিমকে হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সার্বিয়া সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, "তার মতো একজন অপরাধীর স্থান ইউরোপে নেই এবং এসব অপরাধেরও কোনো স্থান নেই।"
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের নির্ধারণ করা ‘সেফ এরিয়া’-তে আট হাজার মুসলিমকে হত্যার নির্দেশ দেন রাতকো ম্লাদিক। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় নৃশংস হত্যার ঘটনা। মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।
এই ভয়াবহ গণহত্যার পর রাতকো ম্লাদিকের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২১ সালে তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়। ২০১৭ সালে দেওয়া রায়ে আদালত এই জেনারেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবজাতির জঘন্যতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র জোহানেসবার্গে ব্যাপক অবৈধ খনন কার্যক্রমের কারণে একটি ব্যস্ত সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায়ও একই চিত্র। ওয়েমার প্যান রোডে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল ও গর্ত। শহরের মাটির নিচে স্বর্ণ ও অন্যান্য খনিজের সন্ধানে অবৈধ খননকারীরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মাটি খুঁড়তে থাকায় এসব গর্ত ও ফাটল তৈরি হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা বলছেন, দিন-রাত চলা এই অবৈধ খনন কার্যক্রম জোহানেসবার্গের অবকাঠামোর ওপর ভয়াবহ চাপ তৈরি করছে। এতে পরিবহন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাড়িঘর ও বিভিন্ন ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্যাংয়ের মধ্যে আধিপত্যের লড়াইকে কেন্দ্র করে অপরাধও বাড়ছে।
জোহানেসবার্গের কেন্দ্রের উত্তর-পশ্চিমে রুডেপোর্ট এলাকায় বসবাসকারী ৪৫ বছর বয়সী ভোনিন ট্রম্পেটার এএফপিকে বলেন, ‘শুরুতে মাটির নিচে বিস্ফোরণ ও কম্পনের কারণে আমাদের ফ্ল্যাট কাঁপত। আমরা সেটা অনুভব করতাম।’
তিনি বলেন, ‘এখন এলাকায় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছে। এটা খুবই ভয়ংকর।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ খনন কার্যক্রমে আশপাশের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। তারা একটানা কয়েক দিন পর্যন্ত মাটির গভীরে অবস্থান করে খননকাজ চালান।
স্থানীয়ভাবে তাদের ‘জামা জামা’ বলা হয়। জুলু ভাষায় এর অর্থ ‘যারা চেষ্টা করে’। এসব শ্রমিকের বেশিরভাগই ভারী অস্ত্র বহন করেন। তারা খনি কোম্পানিগুলোর পরিত্যক্ত গভীর খনিতে নেমে যান অথবা নিজেরাই নতুন সুড়ঙ্গ তৈরি করেন।
গৌতেং প্রদেশের আইনসভার সদস্য মাইকেল সান বলেন, এসব অবৈধ খননকারীরা বিদ্যুতের তার চুরি করে, পানির পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাস্তা খুঁড়ে ফেলে।
তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ভুগতে হয় কাদের? ভুগতে হয় সাধারণ বাসিন্দাদের।’
জোহানেসবার্গের কেন্দ্রের কাছে ডেনভার এলাকায় এক ব্যবসায়ী এএফপিকে তার কারখানার প্রবেশপথ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে একটি বিশাল গর্ত দেখান। তার দাবি, প্রতি সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক অবৈধ খননকারী ওই গর্ত দিয়ে মাটির নিচ থেকে বের হয়ে আসেন।
৬৩ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ী পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘আমাদের ভবনগুলোর নিচে কী ঘটছে, তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে থাকা ফাটল দেখিয়ে তিনি জানান, মাটির নিচে বিস্ফোরণের কারণেই এসব ফাটল তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
জোহানেসবার্গের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা শহরের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, অবৈধ খননের কারণে তাদের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক-এর মুখপাত্র আইজ্যাক মাঙ্গেনা বলেন, ‘মাটির নিচে খননকাজের কারণে ভূমির স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ট্রান্সফরমার, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু এলাকায় মাটির নিচে অবৈধ খনন কার্যক্রম বাড়তে থাকায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন অবকাঠামো দেবে যেতে শুরু করেছে।’
অপরাধ ও অবৈধ খননের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান জোরদার করতে গত মার্চে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গৌতেং প্রদেশজুড়ে সেনা মোতায়েন করেন।
আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী শহর হিসেবে পরিচিত জোহানেসবার্গের জন্ম হয়েছিল ১৮৮০-এর দশকের স্বর্ণের খনি আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে। শহরের কিছু এলাকায় বৈধ খনন কার্যক্রম এখনো চলছে। তবে প্রধান সোনার খনি অঞ্চলের পাশে শত শত পরিত্যক্ত খনির সুড়ঙ্গও রয়েছে।
খনি বিশেষজ্ঞ ডেভিড ভ্যান ওয়াইক বলেন, এসব পরিত্যক্ত খনির কিছু অংশে ‘জামা জামা’রা আবার খনন চালাচ্ছে। অন্য অনেক খনি আবার অ্যাসিডযুক্ত পানিতে ভরে আছে, যা ভূমিতে বড় বড় গর্ত বা সিঙ্কহোল তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।’
ভ্যান ওয়াইকের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩৪ হাজারের বেশি অবৈধ খননকারী রয়েছে।
তিনি বলেন, খনির বর্জ্য ফেলে তৈরি স্তূপের ওপর গড়ে ওঠা অনানুষ্ঠানিক বসতিগুলোর বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তার আশঙ্কা, ‘আরও অনেক বাড়িতে ফাটল ধরবে এবং সেগুলো সিঙ্কহোলে ধসে পড়তে পারে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে অ্যাডাম টেলকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর কিছুক্ষণ পূর্বে সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, সেনাবাহিনীর সিভিল ওয়ার্কস বিভাগের বর্তমান সহকারী সচিব অ্যাডাম টেল অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত সেনাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি একজন দেশপ্রেমিক এবং সবার কাছে সম্মানিত।’
২০২৫ সালের আগস্টে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর অ্যাডাম টেল সেনাবাহিনীর সিভিল ওয়ার্কস বিভাগের সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন কংগ্রেসে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে, ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগের পেছনে পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে তার মতবিরোধ ছিল বলে জানা গেছে।
ড্রিসকল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাবেক আইন স্কুলের সহপাঠী। প্রশাসনের ভেতরে ভ্যান্সের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সর্বশেষ ঘটনা হলো ড্রিসকলের এই পদত্যাগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, কুইক রেন্টাল দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত। শুক্রবার এফডিসিতে অনুষ্ঠিত “জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ” শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।
জালাল আহমেদ বলেন, ‘বিগত সময় কুইক রেন্টালের নামে কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে অনিয়ম করেছিলো ফ্যাসিস্ট সরকার। কুইক রেন্টালের মেয়াদ ৩ বছর হওয়ার কথা, যার দাম ছিলো ১৬ টাকা। কিন্তু ইনভেস্টমেন্ট রিকভারি হয়ে যাওয়ার পরেও নবায়নের সময় শুধুমাত্র অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচারের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ না করে প্রায় পূর্বের মূল্যেই বিদ্যুৎ কেনা হয়েছিলো। তাই কুইক রেন্টালের দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া যায় না। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পলিসি সাপোর্ট অব্যাহত থাকলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করে ঘাটতি মিটিয়ে সংকট কাটানো সম্ভব। এতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না। এজন্য সরকারকে নীতি সহায়তা প্রদান করে কম সুদে ঋণের ব্যবস্থার মাধ্যমে সুষম সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ অনেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। তাই আমাদেরকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিশ্র জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিলো। কায়েমী স্বার্থে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কমিশনের লোভে এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়েছিলো।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘পতিত সরকারের সময় জ্বালানি নীতি ছিলো বিভ্রান্তিকর, বিতর্কিত ও তোষণমূলক। বিগত শাসনামলের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ