বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০১ এম
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী বেলজিয়াম, যা ফ্রান্সের পরের ঘটনা। দেশটির লিয়েজ শহরে শিক্ষাব্যয় বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা উপকরণ ও সুযোগ-সুবিধার সংকটের প্রতিবাদে টানা দুই দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এই বিক্ষোভের ফলে পুলিশ ১০৭ জনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার লিয়েজের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বেলগা সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আটক ৮০ জনের মধ্যে ২৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের মতে, কয়েকজন বিক্ষোভকারী সম্পত্তির ক্ষতি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
ফরাসিভাষী বেলজিয়ামের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সুযোগ-সুবিধা কমছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যামেলিয়া দি সালভে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, "বিক্ষোভ ছাড়া পরিবর্তন না হওয়ায় আমরা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" ফ্রান্সের চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভ তাদের কিছুটা প্রভাবিত করেছে। অন্য এক শিক্ষার্থী আলফ্রেড বলেছেন, "দুই দেশের শিক্ষার্থীরা প্রায় একই সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় আমরা একে অপরকে সমর্থন করছি।"
লিয়েজের মেয়র উইলি দেমেয়ার শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ শোনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বেলজিয়ামে ভাষাভিত্তিক সম্প্রদায়গুলোর অধীনে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ডাচভাষী ফ্ল্যান্ডার্স এবং ফরাসিভাষী ওয়ালোনিয়া পৃথকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে, ফলে দেশটিতে একক জাতীয় শিক্ষাক্রম নেই।
ফরাসিভাষী অঞ্চলে টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৯৪ ইউরো করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এর আগেও ব্রাসেলসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সেও শিক্ষা ব্যয়, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। দুই দেশের আন্দোলনেই শিক্ষা খাতে ব্যয় ও সুযোগ-সুবিধার সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধুলা, ধোঁয়া এবং ক্ষতিকর কণার উপস্থিতি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। এখানে বায়ুমান স্কোর ২২৫ রেকর্ড করা হয়েছে। এই বাতাসের মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, আজকের বায়ুমান স্কোর ১৬৮ নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। এই বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমান দিনে বিশ্বের বায়ুদূষণ শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, যার বায়ুমান স্কোর ২২৫। এই বাতাসের মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এছাড়া, বায়ুমান স্কোর ২০৭ নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর দ্বিতীয় স্থানে, ১৯৩ স্কোর নিয়ে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা তৃতীয় স্থানে, ১৮২ স্কোর নিয়ে ভারতের দিল্লি চতুর্থ স্থানে এবং ১৮০ স্কোর নিয়ে ভারতের মুম্বাই পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে বায়ুর মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ বলে ধরা হয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়। ৩০১-এর বেশি স্কোর ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরিয়া, সউদী আরবের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দামেস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ড সউদী আরবের নিরাপত্তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার হুথিরা সউদী আরবের আবহা ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। আবহা বিমানবন্দরে দুই নারী এবং রিয়াদের বিমানবন্দরে এক সুদানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হুথিরা এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সউদীর বিভিন্ন বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সউদী নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদে হামলায় ব্যবহৃত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংস করা হয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সউদী আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশটিতে বসবাসকারী নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ যে বৈধ পদক্ষেপ নেবে, দামেস্ক তার প্রতি পূর্ণ সংহতি জানাবে।
সিরিয়ার এই অবস্থান এমন এক সময়ে প্রকাশ পেয়েছে, যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা চলতি সপ্তাহে রিয়াদ সফর করে সউদী যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে সিরিয়ার পুনর্গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, নির্মাণ, শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এই সফরে আহমেদ আল-শারা সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সিরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। একই সময়ে ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির কোলন শহরে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের সঙ্গে জার্মান বিএনপির সাবেক সভাপতি আকুল মিয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে তাঁরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বর্তমানে জাতীয় সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই কমিটি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে।
জার্মানির কোলন শহরে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হিসেবে উঠে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত সপ্তাহে এ বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশটির ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরামত এবং প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করবে।
অন্যদিকে, মিসর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২ হাজারের বেশি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সর্বোচ্চ ২০০টি জ্যাভেলিন লঞ্চ ইউনিট ক্রয় করবে। এই চুক্তির আওতায় সিমুলেশন রাউন্ড, খুচরা যন্ত্রাংশ ও মার্কিন সরকারের কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চুক্তির আনুমানিক মূল্য ৮৩২ মিলিয়ন ডলার।
তবে তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্ত্র চুক্তিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। দেশটি সর্বোচ্চ ১০ হাজার এপিকেডব্লিউএস-২ লেজার-নির্দেশিত অস্ত্র ব্যবস্থা কিনবে। আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে—দুই ধরনের অভিযানে ব্যবহারের উপযোগী এসব অস্ত্রের চুক্তির মূল্য আনুমানিক ১.০৪ বিলিয়ন ডলার।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের বিষয়টি প্রকাশ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা সরবরাহ করার পরেও মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সামরিক ভারসাম্যে মৌলিক কোনো পরিবর্তন ঘটবে না।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ