০৭:১৭ পি.এম
কক্সবাজার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার মতো সামাজিক সমস্যা শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না। এর সঙ্গে দারিদ্র্য, অসচেতনতা, সামাজিক অনুশাসনের দুর্বলতা, পারিবারিক সংকট এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার নানা ঘাটতি জড়িত রয়েছে।
সুতরাং, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে বাল্যবিবাহ মুক্ত এবং শিশুবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ামুক্ত কক্সবাজার জেলা গঠনে অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রোগ্রামটি আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট।
আরও পড়ুন: উখিয়ার অগ্নিকাণ্ডে নাহিদ ও তার পরিবারের খোঁজ নেই, হতাহতদের তালিকা নেই
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট ম্যানেজার সাগর ডি কস্তার পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশুদের বাল্যবিবাহ তাদের শৈশব এবং শিক্ষাজীবনকে সংকুচিত করে, শিশুশ্রম তাদের স্বাভাবিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া তাদের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তাই এ সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন খুবই জরুরি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কক্সবাজারকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ামুক্ত করতে হলে একটাই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; শুধু অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পরিবার থেকে শুরু করে বিদ্যালয়, পাড়া-মহল্লা, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে একটি কার্যকর সামাজিক নজরদারি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
যদি কোনো শিশু বিদ্যালয় থেকে অনুপস্থিত থাকে, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। যদি কোনো কিশোরীর বিয়ের পরিকল্পনা থাকে, তবে তা আগে থেকেই শনাক্ত করতে হবে। এবং যদি কোনো শিশুকে শ্রমে নিয়োজিত করা হয়, তাহলে তার পেছনে থাকা অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারণে চিহ্নিত করতে হবে এবং সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে।
সভায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে স্থায়ী এবং কার্যকর সামাজিক ব্যবস্থা। শিশুর ঝুঁকি শনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নাহিদুরের স্ত্রী ও দুই মেয়ের সন্ধান চায় পরিবার
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং অফিসার পার্থ প্রতীম বাগচী। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী ও সুধীজন তারা তাদের মতামত উপস্থাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন