০৯:১১ এম
চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো এবং এর আশপাশের অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। কাদামাটির ঢলে রাস্তায় গাড়ি ভেসে গেছে এবং ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বহু বাসিন্দা প্রাণ রক্ষার্থে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় উপশহর লাস কন্দেসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারী বৃষ্টির ফলে সান্তিয়াগোর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও সড়ক পানির স্রোতে পরিণত হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি সেবায় নিয়োজিত সরকারি সংস্থাগুলোকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
লাস কন্দেসের মেয়র কাতালিনা সান মার্টিন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় ১৪ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অক্টোবরে সাধারণত যত বৃষ্টি হয়, এবারের বৃষ্টির পরিমাণ তার প্রায় নয় গুণ বেশি। ফলে পুরো এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর
সান্তিয়াগোর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া মাপোচো নদীর পানি উপচে পড়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিলির দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা ভূমিধসের আশঙ্কায় আরও ১০টি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি শুক্রবার (১০ অক্টোবর) স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সপ্তাহের শুরুতে হওয়া বৃষ্টিতে মধ্য চিলির কয়েক ডজন বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সান্তিয়াগোর প্রায় ১২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে একটি বছর বয়সী শিশুও রয়েছে, যার হাড় ভেঙে গেছে। দমকলকর্মীরা এক হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছেন অথবা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।
এদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রভাব এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকালে সাধারণত বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জানিয়েছে, চলতি বছরের এল নিনো ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। ১৯৫০ সালের পর এটি সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ , এপি, সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন