০৫:২৬ পি.এম
মুন্সীগঞ্জে গত সাত মাসের মধ্যে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৩০ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার পেছনে বেপরোয়া ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতির কারণে চালকের ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো বিষয়গুলোকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এই তথ্য উপস্থাপন করেন।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে একটি রোড শো বের করা হয়। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন করার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন পিপিএম, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন এবং মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু।
এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নিরাপদ সড়ক চাই-এর মুন্সীগঞ্জ শাখার সভাপতি ও সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনা কেবল একজন মানুষের প্রাণহানি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও জীবিকা। অনেক ক্ষেত্রে একজন মানুষের আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল থাকে।" তাই দুর্ঘটনার কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহার করা এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা
আলোচনা সভায় বক্তারা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি চালক, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারী সবার দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন।
বক্তারা চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, ক্লান্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার, নির্ধারিত বাস বে-তে গাড়ি থামানো এবং নিরাপদ স্থানে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাননি এমন চারজন পেশাদার গাড়িচালককে পুরস্কৃত করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক দপ্তরের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন