১০:৩৫ এম
সন্ত্রাসীরা যে ডিজিটাল চিহ্ন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রেখে যেত, বর্তমানে তা আর দেখা যাচ্ছে না। জম্মু ও কাশ্মীরের দুর্গম জঙ্গলে নতুন ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সন্ত্রাসীরা। এই ব্যবস্থায় সিমকার্ড, মোবাইল টাওয়ার বা ওয়াই-ফাইয়ের প্রয়োজন নেই।
এনডিটিভি সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, এই নতুন যোগাযোগব্যবস্থায় লোরা (LoRa- Low Range) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। লোরা হলো কম শক্তিতে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগের প্রযুক্তি। কাশ্মীরে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী কমান্ডারদের কাছ থেকে একাধিক উন্নত যোগাযোগযন্ত্র উদ্ধার হওয়ার পর বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে আসে।
নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, সন্ত্রাসীরা প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থার বাইরে চলে গেছে। এটি সন্ত্রাসী যোগাযোগের নতুন ধরনের ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’
২৯ সেপ্টেম্বর বুদগামে একটি বন্দুকযুদ্ধের পর এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গুরওয়াতকালানে ওই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে লস্কর-ই-তৈয়্যেবার কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ, যিনি হাশিম মুসা ফৌজি নামে পরিচিত, নিহত হন। তার কাছ থেকে একটি কালো রঙের শক্তপোক্ত যোগাযোগযন্ত্র উদ্ধার করা হয়, যার উপর ‘লোরা আলট্রা’ লেখা ছিল।
নিরাপত্তা বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এগুলো সাধারণ ওয়াকিটকি নয়। এগুলো এনক্রিপ্ট করা রেডিও, যা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম। প্রতিটি যন্ত্র অন্য যন্ত্রের সংকেতও পাঠাতে পারে। ফলে সিমকার্ডের প্রয়োজন হয় না এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, লোরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে জঙ্গলের মতো এলাকায় কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছোট বার্তা, জিপিএস অবস্থান ও জরুরি সংকেত পাঠানো সম্ভব। এই প্রযুক্তির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, একটি যন্ত্র অন্য যন্ত্রের সংকেত আবার পাঠাতে পারে। ফলে দুর্গম এলাকায় একাধিক যন্ত্র মিলে নিজেদের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তিগত নজরদারির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে থাকা কারো কাছে বার্তা পাঠানো সম্ভব হতে পারে। সাধারণ মোবাইল নজরদারিতে এর কোনো চিহ্ন পাওয়া নাও যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সউদী বাহিনীর ১১০ হামলার দাবি
দাচিগাম ও পাহেলগামের মধ্যবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ‘অপারেশন মহাদেব’ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী পহেলগাম হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজছিল। ওই অভিযানে একাধিক এনক্রিপ্টেড লোরা যন্ত্র এবং সিমবিহীন একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানতে পারে, সন্ত্রাসীরা নিজেদের মধ্যে এবং পাকিস্তানে থাকা তাদের নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এসব যন্ত্র ব্যবহার করছিল। তারা মোবাইল নেটওয়ার্ক এড়িয়ে চলছিল। জাতীয় প্রযুক্তিগত গবেষণা সংস্থার ফরেনসিক বিশ্লেষণে যন্ত্রগুলোর উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, এসব যন্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়নি। এগুলো আগে থেকেই নির্দিষ্টভাবে সেট ও এনক্রিপ্ট করা ছিল। সীমান্তের ওপারে থাকা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নতুন এই যোগাযোগব্যবস্থা মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীও তাদের নজরদারি পদ্ধতি বদলাচ্ছে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গলে লোরা প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে বিভিন্ন যন্ত্র ও ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের অকুণ্ঠ সমর্থন
আরেক কর্মকর্তা বলেন, এখন শুধু সিমকার্ড বা মোবাইল ফোনের ওপর নজর রাখলেই হবে না। সিমবিহীন এই রেডিও যোগাযোগ শনাক্ত করাই নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন