০৯:৫৯ এম
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরম আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ-অবরোধের কারণে ইরান গত মাসে করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আবারও একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তারা আর এই চুক্তির কোনো শর্ত মানতে বাধ্য নন। তাদের অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র শুধু চুক্তি লঙ্ঘনই করেনি, বরং ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধ দিয়ে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যেকোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালির ওপর তারা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখবেন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওমানের অংশসহ পুরো প্রণালিটি তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তারা আর কোনো আলোচনায় যাবে না বলেও তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: গুলশান-বনানীতে উওরা ডিএনসির অভিযান: নেপথ্যে মাসোহারা আদায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন। প্রথমে তিনি জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি বসানোর কথা বললেও পরে উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। তবে বুধবার ভোর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ কার্যকর হয়ে গেছে।
অবরোধ শুরুর পরপরই হরমুজে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফলে বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কতা জারি করা হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইসরায়েল প্রথম যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই এই সংঘাত চলছে। বর্তমানে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি যুদ্ধজাহাজ ও কয়েকশ সামরিক বিমান প্রস্তুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল ও গ্যাস পারাপার হয়। পরিস্থিতি শান্ত না হলে সারাবিশ্বে জ্বালানির দাম আরও মারাত্মকভাবে বাড়বে।
আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন