ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনা সিটি মেডিকেলে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস


খুলনা সিটি মেডিকেলে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।

এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস এসে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণও আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণ করছেন। হাসপাতালে থাকা রোগীরা এবং তাদের স্বজনেরা আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে বাইরে ছুটে এসেছেন।

আরও পড়ুন: মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ, হামলায় আহত দুই সদস্য

এদিকে, হাসপাতালের সামনের দিকে উৎসুক জনতার ভিড়ের জন্য ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে।

হাসপাতালের নিচতলার জেনারেটর রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। পরে ১৬ তলা ভবনের উপর তলাগুলোতে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমাদের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন: রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীর ৭ লাখ টাকা ডাকাতি, এসআরবি-৮-এর অভিযানে আফজাল-লিটনসহ গ্রেপ্তার ৫

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড. খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


ড. খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

জাতিসংঘ সদরদফতরে অনুষ্ঠিত ভোটের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

একটি গেজেটে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য এবং সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও প্রচারণার ফলস্বরূপ, জাতিসংঘের ৮১-তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়ার সুযোগটি উন্মোচিত হয়েছে। মন্ত্রিসভা মনে করে এই বিজয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্যদেশসমূহের আস্থা ও কূটনৈতিক সম্প্রীতির পরিষ্কার উল্লেখ পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে আরও উজ্জ্বল হয়েছে, এজন্য মন্ত্রিসভা ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মোট ১৯০ ভোটের মধ্যে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটে পরাজিত করে, ড. খলিলুর রহমান ৮১-তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্টিনেজের আঙুলে ফাটল, আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন কি না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


মার্টিনেজের আঙুলে ফাটল, আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন কি না

দলের সেরা গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ। তবে তবুও হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি খেলেননি। মনে হচ্ছে, কেন তিনি খেলেননি? আর্জেন্টাইন সাংবাদিক দিয়েগো মনরইগ জানিয়েছেন, স্ক্যালোনির প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকের আঙুলে ফাটল ধরা পড়েছে, যার কারণে তাকে ওই দুইটি ম্যাচে দেখা যায়নি।

হন্ডুরাসের বিপক্ষে গোলবারের নিচে খেলেছেন হুয়ান মুসো। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা কোনো গোল হজম করেনি এবং জয়লাভ করেছে ২-০ গোলে। এরপরের ম্যাচে, অর্থাৎ আইসল্যান্ডের বিপক্ষে, স্ক্যালোনি নামিয়েছিলেন জেরেনিমো রুলি। রুলি নিজেও জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আর্জেন্টিনা জয়লাভ করেছে ৩-০ গোলে।

যদিও মুসো ও রুলি জাল অক্ষত রেখেছেন, তবুও স্ক্যালোনি যে মার্টিনেজকেই অগ্রাধিকার দেবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অ্যাস্টন ভিলা কিপার কাতারে বিশ্বকাপ জিততে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আর্জেন্টিনা এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মার্টিনেজকে পাবে কি?

মুন্দো আলবিসেলেস্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্টিনেজ খেলতে পারবেন কি না, তা জানার জন্য আর্জেন্টিনা তার কয়েকটি পরীক্ষা করাবে। এর মাধ্যমেই জানা যাবে, তিনি ১৭ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন কি না। কারণ ওই দিন মেসিদের প্রতিপাক্ষ আলজেরিয়া।

গ্রুপপর্বে মেসিদের সকল ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে। ম্যাচটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এবং বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। জে গ্রুপে থাকা আর্জেন্টিনার গ্রুপপর্বে অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো জর্ডান ও অস্ট্রিয়া। ২২ জুন রাত ১১টায় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। আর জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুন সকাল ৮টায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আর্জেন্টিনা সেতু’ উন্মাদনায় ঠাসা, পুরো শহরজুড়ে উৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


‘আর্জেন্টিনা সেতু’ উন্মাদনায় ঠাসা, পুরো শহরজুড়ে উৎসব

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই আনন্দের রেশ ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে হ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙ্গামাটি উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে একটু বৃষ্টি উপেক্ষা করে আকাশি-সাদা জার্সি পরে শহরের শহিদ আব্দুর শুক্কুর স্টেডিয়ামে সমবেত হতে থাকে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। তারা প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে যাত্রা বের করে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে। শোভাযাত্রায় সকল বয়সের মানুষ উপস্থিত ছিল। ভুভুজেলার কানফাটা শব্দ পরিবেশকে আরও উন্মত্ত করে দিয়েছিল। গান ও নৃত্যের তালে তালে তারা স্মোক ফ্লেয়ার হাতে নিয়ে পুরো প্রাঙ্গণকে মুখরিত করে তোলে।

আর্জেন্টিনা শোভাযাত্রা হবে, এমন দিনে ব্রাজিল সমর্থকরা কি বসে থাকবেন? তারা শহরের দোয়েল চত্বরে সমবেত হয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। শোভাযাত্রা সেখানে পৌঁছাতেই ব্রাজিল সমর্থকরা ইতালীয় খেজুর খাওয়ায় এবং থ্রি-পিস দিয়ে তাদের অভিবাদন জানিয়েছেন। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এ নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন।

পরে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা শহরের রিজার্ভ বাজারস্থ ওয়াই আকৃতির আর্জেন্টিনা সেতুর কাছে মিলিত হন। হাজারো সমর্থক সেখানে কানায় কানায় ভরে ওঠে। তারা পাতাকা উড়িয়ে স্লোগানে হাসি-আনন্দে সেতুটিকে মাতিয়ে রাখে। প্রিয় দলের জন্য তারা শুভ কামনা জানানোর পাশাপাশি ব্রাজিল দলের নিয়ে টিপ্পুনি কাটেন।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, '১৯৮০ সালের পর যারা বিশ্বকাপ খেলা দেখেছে, সবাই ম্যারাডোনার খেলা দেখেছে। এই কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ আর্জেন্টিনা সমর্থন করে। এবারের আর্জেন্টিনা দল খুব ভালো খেলছে। আশা করছি ২০২২ সালের মতো এবারও মেসির হাতে কাপটি উঠবে।'

আরেক সমর্থক মো. মাহিন খান বলেন, 'ব্রাজিল শুধুমাত্র ফাঁকা বুলি ছোড়েন। এসব শোনার সময় নেই আমাদের। আমরা অতীতকে বিশ্বাস করি না। গেল বিশ্বকাপ আমরা জিতেছি। ব্রাজিলের অনেক সমর্থক আছে, যারা এখনও দলটিকে বিশ্বকাপ জিততে দেখে নি, তাদের সাথে আবার কীসের কথা।'

ইয়াছিন রানা সোহেল বলেন, 'আমার অনেক বন্ধু রয়েছে, যারা বলে ব্রাজিল ৫ বার কাপ নিয়েছে। কিন্তু আমি বলি ৫ বার কাপ নিলে কিছুই হয় না। খেলা দেখো, দুই দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার খেলায় অনেক পার্থক্য রয়েছে।'

ব্রাজিল দলের সমর্থক মো. ইব্রাহিম বলেন, 'আমাদের র‌্যালিতে তারা সেভেন আপ দিয়ে বরণ করেছিল, তাই আজ আমরা তাদের র‌্যালির ক্লান্তি দূর করতে খেজুর খাওয়ালাম। সঙ্গে থ্রি পিস দিয়ে বরণ করে নিয়েছি। খেলা মানে আনন্দ। সেই আনন্দ ভাগাভাগি করেছি সারাই মিলে।'

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক মৃনাল তঞ্চগ্যা বলেন, 'গত বিশ্বকাপে সৌদি থেকে খেজুর খেয়ে শক্তি বাড়িয়ে কাপ নিয়েছি। খেজুর আমাদের শক্তি বাড়িয়েছে। এবারও মেসির হাতেই বিশ্বকাপ উঠবে, এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।'

রাঙামাটি পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, 'বিশ্বকাপে একদিন বাংলাদেশ খেলবে সেই স্বপ্ন দেখি। সেইদিন দেশের জন্য এর থেকে বড় শোভাযাত্রার আয়োজন করবো। যতদিন বাংলাদেশ খেলবে না ততদিন আর্জেন্টিনা দলের সমর্থন দিয়ে যাব। তাই আজ দলের শুভকামনায় এই শোভাযাত্রা করেছি। তবে সব দলের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান থাকবে, কোন ভেদাভেদ নয়, আসুন সবাই মিলে ফুটবলের সৌন্দর্য উপভোগ করি। আর মজা করি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তবতা কী বলে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


হরমুজ দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তবতা কী বলে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘গোপনে লাখ লাখ ব্যারেল’ তেল পরিবহন করে নিয়ে গেছে। এই কাজটি তেলের বৈশ্বিক দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে এই জলপথ দিয়ে তেল সরিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে এনেছি, কেউ কিছু টের পায়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন যে, এই গোপন অভিযানের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে এই দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।

বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয় এই সরু ও কৌশলগত জলপথ দিয়ে। চলমান সংঘাতের কারণে মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কোনও জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না। তবে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ জাহাজের জন্য সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্ত হল যে, তাদের ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

এপ্রিলের ১৩ তারিখে, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পাঁচ দিন পর, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দর লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েনের মধ্যে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজই প্রণালীটি পার হতে সক্ষম হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে- যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ দিয়ে কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পেরেছে?

ট্রাম্প কী দাবি করেছেন? ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ‘২২টি জাহাজ রাতে আলো নিভিয়ে পার করা হয়েছে’। কারণ তার ভাষায়, ইরানের রাডার ব্যবস্থা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তিনি এই ‘গোপন মিশন’ উন্মোচন করছেন কারণ তেহরান বিষয়টি বুঝে ফেলেছে। পরবর্তীতে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, গত মাসে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘গোপন অভিযান’ পরিচালনা করতে।

তার দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে। এখন হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, ইরানের নয়।”

ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘পরাজিত’ ও তাদের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংসপ্রায়’ বলেও মন্তব্য করেন।

তবে একই দিনে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট কংগ্রেস শুনানিতে জানান যে, তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনও বৃহৎ তেল পরিবহনের বিষয়ে অবগত নন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব জাহাজ ইরানি নয়।

গালফ অঞ্চলের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ এই প্রণালী ব্যবহার করে তাদের তেল রফতানি করে।

বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র কি এই তেল সরাতে পেরেছে? বিশ্লেষণে দেখা যায়, ট্রাম্পের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে পাঁচ দিনের সমুদ্রপথ বাণিজ্যের সমান। যুদ্ধ শুরুর আগে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতো।

সেই হিসেবে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মোট সম্ভাব্য পরিবহনযোগ্য তেল প্রায় ২০০ কোটি ব্যারেল হওয়ার কথা ছিল, যদি স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকত।

এছাড়া যুদ্ধপূর্ব দৈনিক প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করতো। সেই হিসাবে পাঁচ দিনের স্বাভাবিক ট্রাফিকেই প্রায় ৭০০টি জাহাজ পার হওয়ার কথা।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ট্র্যাকিং ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, গত পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে। লয়েড’স লিস্ট বলছে সংখ্যা ১৪২টি, আর কেপলার জানিয়েছে সর্বোচ্চ ২৬৪টি জাহাজ পারাপার হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যাও ট্রাম্পের দাবি করা ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনের সমর্থনে যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকদের মত।

অনেকে জানাচ্ছে, অনেক জাহাজই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) কর প্রদান করে প্রণালী পার হয়েছে। কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ানেও অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার নিয়ন্ত্রণে? যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করছে। তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। পাকিস্তান, ভারত ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশ তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে জাহাজ পরিবহন করছে।

ইরান এই প্রণালীকে নিজেদের ভূখণ্ডসংলগ্ন অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য বীমাসদৃশ ফি আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সমালোচকরা এই ফি-কে অবৈধ ‘টোল বুথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ নয়; এটি ইরান ও ওমানের যৌথ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা।

ফ্লোরিডাভিত্তিক এনএসআই ইনস্যুরেন্স গ্রুপের সিইও অস্কার সেকালি বলেন, “ভূগোলিক সুবিধাকে আর্থিক সুবিধায় রূপান্তরের প্রচেষ্টা এটি। প্রাচীন এই কৌশলই এখন নতুনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান যে, একটি বড় তেলবাহী জাহাজ প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ডলার খরচ করে, এবং ১০০ দিনের বিলম্বে ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত। তবে ইরানকে অর্থ প্রদান অনেক কোম্পানিই এড়িয়ে চলে, কারণ এতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকি ও বীমা জটিলতা তৈরি হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%