ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তবতা কী বলে?


হরমুজ দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তবতা কী বলে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘গোপনে লাখ লাখ ব্যারেল’ তেল পরিবহন করে নিয়ে গেছে। এই কাজটি তেলের বৈশ্বিক দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে এই জলপথ দিয়ে তেল সরিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে এনেছি, কেউ কিছু টের পায়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন যে, এই গোপন অভিযানের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে এই দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি

বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয় এই সরু ও কৌশলগত জলপথ দিয়ে। চলমান সংঘাতের কারণে মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কোনও জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না। তবে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ জাহাজের জন্য সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্ত হল যে, তাদের ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

এপ্রিলের ১৩ তারিখে, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পাঁচ দিন পর, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দর লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েনের মধ্যে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজই প্রণালীটি পার হতে সক্ষম হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে- যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ দিয়ে কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পেরেছে?

ট্রাম্প কী দাবি করেছেন? ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ‘২২টি জাহাজ রাতে আলো নিভিয়ে পার করা হয়েছে’। কারণ তার ভাষায়, ইরানের রাডার ব্যবস্থা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কিউবা পরিকল্পনা, ইরান থেকে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত

তিনি আরও জানান, তিনি এই ‘গোপন মিশন’ উন্মোচন করছেন কারণ তেহরান বিষয়টি বুঝে ফেলেছে। পরবর্তীতে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, গত মাসে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘গোপন অভিযান’ পরিচালনা করতে।

তার দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে। এখন হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, ইরানের নয়।”

ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘পরাজিত’ ও তাদের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংসপ্রায়’ বলেও মন্তব্য করেন।

তবে একই দিনে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট কংগ্রেস শুনানিতে জানান যে, তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনও বৃহৎ তেল পরিবহনের বিষয়ে অবগত নন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব জাহাজ ইরানি নয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন

গালফ অঞ্চলের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ এই প্রণালী ব্যবহার করে তাদের তেল রফতানি করে।

বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র কি এই তেল সরাতে পেরেছে? বিশ্লেষণে দেখা যায়, ট্রাম্পের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে পাঁচ দিনের সমুদ্রপথ বাণিজ্যের সমান। যুদ্ধ শুরুর আগে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতো।

সেই হিসেবে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মোট সম্ভাব্য পরিবহনযোগ্য তেল প্রায় ২০০ কোটি ব্যারেল হওয়ার কথা ছিল, যদি স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকত।

আরও পড়ুন: পুরাতন রমনা থানার সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ

এছাড়া যুদ্ধপূর্ব দৈনিক প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করতো। সেই হিসাবে পাঁচ দিনের স্বাভাবিক ট্রাফিকেই প্রায় ৭০০টি জাহাজ পার হওয়ার কথা।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ট্র্যাকিং ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, গত পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে। লয়েড’স লিস্ট বলছে সংখ্যা ১৪২টি, আর কেপলার জানিয়েছে সর্বোচ্চ ২৬৪টি জাহাজ পারাপার হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যাও ট্রাম্পের দাবি করা ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনের সমর্থনে যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকদের মত।

অনেকে জানাচ্ছে, অনেক জাহাজই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) কর প্রদান করে প্রণালী পার হয়েছে। কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ানেও অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূল হোতা ইসরাইল, দাবি মিসর, সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার নিয়ন্ত্রণে? যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করছে। তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। পাকিস্তান, ভারত ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশ তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে জাহাজ পরিবহন করছে।

ইরান এই প্রণালীকে নিজেদের ভূখণ্ডসংলগ্ন অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য বীমাসদৃশ ফি আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সমালোচকরা এই ফি-কে অবৈধ ‘টোল বুথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ নয়; এটি ইরান ও ওমানের যৌথ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা।

আরও পড়ুন: ইতালিতে ১২ বার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি

ফ্লোরিডাভিত্তিক এনএসআই ইনস্যুরেন্স গ্রুপের সিইও অস্কার সেকালি বলেন, “ভূগোলিক সুবিধাকে আর্থিক সুবিধায় রূপান্তরের প্রচেষ্টা এটি। প্রাচীন এই কৌশলই এখন নতুনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান যে, একটি বড় তেলবাহী জাহাজ প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ডলার খরচ করে, এবং ১০০ দিনের বিলম্বে ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত। তবে ইরানকে অর্থ প্রদান অনেক কোম্পানিই এড়িয়ে চলে, কারণ এতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকি ও বীমা জটিলতা তৈরি হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেট নিয়ে টিআইবির সতর্ক সাধুবাদ, আছে হতাশাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


বাজেট নিয়ে টিআইবির সতর্ক সাধুবাদ, আছে হতাশাও

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আপাতত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখায় সরকারকে সতর্ক সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের সুস্পষ্ট পথরেখা নেই উল্লেখ করে সংস্থাটি হতাশাও প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান একটি বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দেয়া সরকারের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের স্বপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ নানা অজুহাতে পরবর্তীতে বিভিন্ন খাতে অর্থ বিলে এই সুযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ফলে কোনোভাবেই যেন বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার অনৈতিক সুযোগ আর না ফেরে— এই প্রত্যাশা করছি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পরে নিরবিচ্ছন্নভাবে এই সুযোগ প্রদান করা হয়েছেন, কিন্তু এর মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে আর্থিক লাভের থেকে সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি কর ফাঁকির দুর্বিনীত সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছে।

আশা করি, এই দুর্নীতিসহায়ক চর্চার বিপরীতে সরকার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বিবৃতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের শর্ত হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো যেভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা প্রমাণ করছে এ বিষয়ে সরকারকে বাস্তবতার আলোকে কতটা কঠোর হিসাব-নিকাশ করতে হয়েছে।

১১ বছরের ব্যবধানে আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা যৌক্তিক বিবেচিত হয়েছে।

তবে এ বরাদ্দের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদনের প্রত্যাশিত সুফল পেতে হলে নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত হিসেবে, সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থাৎ যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিবছর নিজের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করবেন, শুধু তাদের জন্যই নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া বাজেটে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নিত্যপণ্য ও সেবার শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে উল্লেখ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

একইসঙ্গে তিনি করফাঁকি ও অনিয়ম রোধে কর প্রশাসনের ভেতরে বিদ্যমান দুর্নীতি ও যোগসাজশমূলক অনিয়ম বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বাজেট বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের সুস্পষ্ট পথরেখা নেই উল্লেখ করে হতাশও প্রকাশ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আশা করেন, চূড়ান্ত বাজেটে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাসহ যেসব জেলায় সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


ঢাকাসহ যেসব জেলায় সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া সতর্কবার্তায় এই তথ্য উল্লেখ করা হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, সংস্থাটির অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় কিছু কিছু স্থানে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া দেশের সব বিভাগে আগামী এক সপ্তাহ ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সমালোচনা বিরোধীদলীয় নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সমালোচনা বিরোধীদলীয় নেতার

আদ-দীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা জানান।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা সকলেই গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার আজ হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। তিনি এটিকে মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলছেন না।

তিনি আরও সুষ্পষ্টভাবে লিখেছেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো অবহেলা, ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে যে হাসপাতালটিকে ‘গরিবের হাসপাতাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং যা মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিল, আজ তার লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া হলো। ফলে এর ক্ষতি শেষ পর্যন্ত জনগণেরই হলো।

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে জামায়াতের আমির তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে সম্ভবত ৪০০-৫০০ মেডিকেল শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর পাশাপাশি নার্সিং কোর্সও এখানে চলছে। এ অবস্থায় তাদের গন্তব্য কোথায়? শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যদি কারও কোনো দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে তাকে বন্ধ করে দেয়া কাম্য নয়।

এর আগে, বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস স্বাক্ষরিত বার্তায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। তবে ওই বার্তাতে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রতিষ্ঠানটিকে আপিল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্থাপিত বাজেটকে ‘সম্পূর্ণ ক্রিয়েটিভ’ বললেন মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


উত্থাপিত বাজেটকে ‘সম্পূর্ণ ক্রিয়েটিভ’ বললেন মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৬-২৭ সালে প্রস্তাবিত বাজেটকে উৎপাদন ইনভেস্টমেন্ট ব্যবসা বান্ধব একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, এটি একটি ক্রিয়েটিভ বাজেট।’

আজ বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবনের নিজের চেম্বারে বাজেটের উপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব এই কথাগুলি বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ বাজেট মূলত উৎপাদন বান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসা বান্ধব। এ বাজেটে যে ছাড়গুলো দেওয়া হয়েছে, যে রেয়াত দেয়া হয়েছে, আমরা এর আগে এত বড় ছাড় দেখতে পাইনি।’

শিল্প, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই বাজেটে শিল্পখাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, এর ফলে অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে, তার চিন্তা ভাবনাগুলোকে একত্র করে অর্থমন্ত্রী আমির-খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্র মন্ত্রণালয়ের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করেছেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং শুধু অর্থনীতি নয়, একই সঙ্গে এই সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।

মাঝখানে ইন্টেরিম গভর্নমেন্টও দেশকে ঠিক সেইভাবে একটা ট্র্যাকের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, পুরো ভঙ্গুর অর্থনীতি, অগোছালো প্রশাসন এবং অর্থনীতির চরম দুরবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে।

বিএনপি সরকার গঠনের পরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব এসে পড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি আজ আমাদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বাজেট পেশ করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ বাজেটটাতে প্রতিফলিত হয়েছে যে সরকার কতটা আন্তরিক, দেশের অর্থনীতিকে তারা পুনর্বাসন করতে চায় এবং এটি একটি গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বসে বিকেল তিনটায় অর্থমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%