ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৫:৩২ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় একটি বাড়ির সীমানা প্রাচীর এবং গেট বসানোকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ২ আগস্ট (রবিবার) দুপুরের দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী পাড়া এলাকায়, মন্দিরের সামনের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়টি বর্ণনা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রমা রানী দাস (৪৫) বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০/১২ জনকে আসামি করে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় পুলিশ মো. শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার এবং রোববার রাতে ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলা বাদী রমা রানী দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা জানালেন, রোববার দুপুরে রমা রানী তার বাড়ির প্রবেশদ্বারে লোহার গেট বসাতে গেলে পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী আনোয়ার হোসেন আকন এবং শহিদুল ইসলাম লোকজন নিয়ে বেআইনিভাবে বাধা প্রদান করেন। পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী আনোয়ার হোসেন আকন ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রমা রানীকে কোপ দিতে উদ্যত হন। এ সময় হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করার প্রেক্ষিতে রমা রানীর বাম হাতের তালু ও আঙুল গুরুতরভাবে কেটে যায়। পরবর্তীতে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্বামী ননী দাস (৫৫) এবং ঝর্ণা রানী দাস (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিহত হতে গিয়ে এবং লাঠি দিয়ে আক্রমণ চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর ফুলা জখম হয়।
এ সময়ে আনোয়ার হোসেন রমা রাণীর ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ২,২০,০০০ টাকা) এবং শহিদুল ইসলাম ঝর্ণা রাণী দাসের ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ১,৬৫,০০০ টাকা) এবং ধাওয়া ইউনিয়ন জামায়াত আমির নাছির উদ্দিন নগদ ১৭ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন আকন জানিয়েছেন, "এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ওই দিন আমি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।" উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. শামীম হাওলাদার বলছেন, "১৯৭১ সালে জামায়াত যে ভাবে নির্যাতন করেছে, সে ভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছে।" ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ও প্রতিবাদ করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানিয়েছেন, "এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ শহিদুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে গতকাল সোমবার তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ, সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌর বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তোলার উদ্দেশ্যে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু আরো জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ক আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। এ কারণেই তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন ও উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় জানানো হয় যে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
সভায় আরো উল্লেখ করা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহারে আগ্রহ বৃদ্ধি করতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।
এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলে উপস্থাপনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ অন্যান্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা হতে ১৭ জনের হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৪ অক্টোবর তারিখের মধ্যে সময় দিয়েছে।
সোমবার, চারজন আসামিকে হাজির করার পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই আদেশ জারি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
এর পূর্বে, ২২ জুলাই এ মামলার চারজন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- ঢাকা-৫ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম খান।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় আটজন এবং ২০ জুলাই আরও নয়জনকে হত্যা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুটিং চলাকালে দুর্ঘটনার কারণে গুরুতর আহত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। একটি নাচের দৃশ্য ধারণ করার সময় তিনি পড়ে গিয়ে তার হিপ টেন্ডনে গুরুতর আঘাত পান। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, রাশমিকাকে অন্তত ছয় সপ্তাহ সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত রাশমিকাকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সুস্থ হয়ে উঠতে তার নির্দিষ্ট পুনর্বাসন (রিহ্যাবিলিটেশন) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
রাশমিকা নিজেই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, ঘটনাটি সত্যি। তবে আমি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছি। আমার খোঁজ নেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’
এ চোটের কারণে আপাতত তার আসন্ন প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘রানাবালি’ ও ‘মাইসা’র শুটিং পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের টেন্ডনের আঘাত সাধারণত পেশাদার ক্রীড়াবিদদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে এমন গুরুতর চোট তুলনামূলক বিরল।
রাশমিকার এই দুর্ঘটনার পর আবারও তেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পে শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শুটিং করতে গিয়ে রাম চরণ, জুনিয়র এনটিআর, নন্দামুরি বালাকৃষ্ণ, পবন কল্যাণ ও প্রভাসসহ একাধিক তারকা আহত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা নিজেরাই স্টান্ট দৃশ্যে অংশ নেওয়ার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামফারা অঙ্গরাজ্যের কাসুয়ার দাজি গ্রামসহ একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে অন্তত ৫২ জনকে বন্দুকধারীরা অপহরণ করেছে, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার এএফপিকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা প্রথমে গ্রামের উপকণ্ঠে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করে এবং একটি সামরিক টহলযানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা গ্রামে ঢুকে একের পর এক বাড়িতে গিয়ে লোকজনকে অপহরণ করতে থাকে। প্রথম দিকে শতাধিক মানুষকে অপহরণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে কিছু জনকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং শেষে ৫২ জনকে আটক রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি যাচাই করার পর জানা গেছে, হামলায় কোন সেনাসদস্য অপহৃত হননি। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মুখপাত্র ওলানিই ওসোবা জানান, সেনারা হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে একজন সেনা এবং একজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং অজ্ঞাতসংখ্যক বাসিন্দাকে অপহরণ করা হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় সক্রিয় সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীগুলো মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, গ্রাম আক্রমণ, গবাদিপশু লুট এবং অবৈধ খনন কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে। জামফারা এই ধরনের হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ