মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৯ পি.এম
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন যে, ইশরাকের পদত্যাগ সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদত্যাগের ফলে আইনগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা ডাকবাংলোয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিতে পারেন। ইশরাক নিয়ম মেনে পদত্যাগ করেছেন। এটি একটি সাংবিধানিক বিষয় এবং এখানে আইনগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, যদি ইশরাক পদত্যাগ না করতেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে তাকে পদত্যাগ করানোর জন্য অনুরোধ জানাতেন। এটি সাংবিধানিক বিধানের আওতাধীন।
সরকারের সিদ্ধান্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, যখন একটি সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন কাকে দায়িত্বে রাখা হবে এবং কাকে রাখা হবে না, তা সরকারের নিজস্ব বিবেচনার বিষয়।
মতবিনিময়সভায় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং আধুনিক শিল্প খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ব্যয়ে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক। বিশ্ব বৌদ্ধিক সম্পত্তি সংস্থা (WIPO)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি করা বৈশ্বিক তালিকায়, বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে নবম স্থানে রয়েছে দেশটি।
ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী প্রস্তুত করা এই আন্তর্জাতিক তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে তুরস্কের মোট ব্যয় ৪৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক মোট গবেষণা ব্যয়ের প্রায় ১.৫ শতাংশ একাই অবদান রাখছে তুরস্ক। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের নিজস্ব সামরিক শিল্প, মহাকাশ গবেষণা, অটোমোবাইল, জৈবপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উচ্চপ্রযুক্তির খাতে আঙ্কারার ধারাবাহিক অগ্রাধিকার ও কৌশলগত অর্থায়নের ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও উন্নয়নে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তালিকায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর গবেষণা ব্যয়কারী দেশ হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে চীন। ২০২৪ সালে বেইজিংয়ের গবেষণায় ব্যয় হয়েছে ৭৮৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক ব্যয়ের ২৭.৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, ৭৮১.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। মোট ১৮৬.০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, ১৩৬.৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ স্থানে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৩২.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি।
তালিকায় যথাক্রমে ৮৬.৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে যুক্তরাজ্য, ৭৫.৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সপ্তম স্থানে ভারত এবং ৬৫.৮ বিলিয়ন ডলার নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। তুরস্কের পর তালিকার দশম স্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, যাদের বার্ষিক গবেষণা ব্যয় ৩৮.৪ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমা আধিপত্য এবং এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও গবেষণা ও প্রযুক্তিতে তুরস্কের এই বিশাল বরাদ্দ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর সীমান্তের কোমরপুর এলাকা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হেরোইন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত চার বোতল রাসায়নিক দ্রব্য জব্দ করেছে। আটককৃত দ্রব্যের বোতলে উল্লেখিত মূল্য অনুযায়ী, এর মোট সিজার মূল্য ৭৮ লাখ টাকা।
বিজিবির সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর অধীন শাখরা বিওপির টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার সাহাবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল কোমরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এবং ওই রাসায়নিক দ্রব্যের বোতলগুলো আটক করে।
পরবর্তীতে, জব্দকৃত দ্রব্যগুলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করে যে, দ্রব্যগুলো মূলত হেরোইন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বোতলের গায়ে উল্লেখিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতিটি বোতলের দাম ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সুতরাং, চার বোতলের মোট সিজার মূল্য ৭৮ লাখ টাকা দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ, পিএসসি, সিগন্যালস্ মন্তব্য করেন, "সাতক্ষীরার শাখরা সীমান্তে হেরোইন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন রাসায়নিক দ্রব্য আটক বিজিবির একটি সফল ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান।" তিনি আরও বলেন, "এই অর্জনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর ও আপসহীন অবস্থান আবারও প্রতিফলিত হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ নগরীর কাচারি ঘাটের চলাচল ব্যবস্থা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন। শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে প্রশাসক কাচারি ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
দুর্গোৎসবের শেষ পর্বে বিসর্জন উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত, দর্শনার্থী ও পূজারিরা ঘাটে সমবেত হন। জনসমাগমের চাপ সামলানো, চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ঘাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কাচারি ঘাটের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক।
পরিদর্শনকালে মূর্তি বিসর্জন ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় এবং নগরবাসী নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রাখা এবং মূর্তি বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন, দেশের স্বার্থে আমরা কোথাও কোনো ছাড় দেব না। তিনি উল্লেখ করেন, "দেশকে বুকে ধারণ করে আমরা পথ চলতে চাই। দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পরিচয় একটাই- "আমরা সবাই বাংলাদেশি।" বিএনপির আদর্শও হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠন করা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, "আপনারা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।" তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আজ দেশের তিনটি বিভাগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন। তিনি বলেন, "আমরাও এবার দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।" তিনি উল্লেখ করেন, "গতবারের তুলনায় এবার বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে জনগণের দ্বারা দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তারা আবারও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।" প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা যদি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।" তিনি দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা মাদকমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তুলব।" তিনি জানান, "এই টাঙ্গাইল থেকেই মাদক নির্মূলের কাজ শুরু করতে চাই, যাতে সারা বাংলাদেশ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়।" তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমার দলের কেউ যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকেও কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের নেতারাও এ বিষয়ে সোচ্চার রয়েছেন।"
মতবিনিময় সভা শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাঙ্গাইল শহরের ছোট কালীবাড়ি, বড় কালীবাড়িসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করেন।
এ সময় তারা পূজার সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ