১০:৩১ পি.এম
জামালপুরে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে আদালত স্বামীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন। সেই সঙ্গে, এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ওহারের রাজধানী জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডে দণ্ডিত আসামী আলাল সেক (৫৩) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো: মজর উদ্দিনের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত রাজীব হোসেন (৩৮) একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানিয়েছে, দেওয়নগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে ২০০৮ সালের ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে সকালের মধ্যে এক সময় আলাল সেক তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করেন, গুরুত্বর আহত করেন এবং পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। এই ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক ২০০৮ সালের ৫ জুন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়। আলাল সেক পলাতক থাকার কারণে তার অনুপস্থিতিতে রায় দেয়া হয়। রায়ে আলাল সেককে মৃত্যুদন্ড দেয়ার পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ডও প্রদান করা হয়। মামলায় আসামী পক্ষে কোন আইনজীবী উপস্থিত না ছিলেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন/ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা, কার ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা
অপরদিকে, দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় রাজীব হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড দিয়েছে একই আদালত। এই অর্থদন্ডের টাকা অনাদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর জমিজমা বিক্রি করে ভিকটিমের বাবা ও মা কে দেয়ার জন্য আদেশ প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামে ঘরের জানালা খুলে প্রতিবেশী রাজীব হোসেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে সে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর ডাক চিৎকারে পরিবার ও স্বজনরা উপস্থিত হলে রাজীব হোসেন হাতেনাতে ধরা পড়ে, তবে সে তাদের ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায়নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী ২০১৫ সালের ১১ জুন দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ৬ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আসামী রাজীব হোসেনের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। অর্থদন্ডের টাকা অনাদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর জমিজমা বিক্রি করে সেই টাকা ভিকটিমকে দেয়ার জন্য আদেশ প্রদান করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ফজলুল হক পি, পি, এবং আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন