সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১১ এম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উন্নয়ন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে, বিশ্বের শীর্ষ তিন প্রযুক্তিবিদ এবারে একটি অভূতপূর্ব সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তারা মনে করেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ আপাতত ‘ধীর’ বা সীমিত করা উচিত। অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই-এর একটি সতর্কতামূলক ব্লগ পোস্টের পর ওপেনএআই-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআই-এর প্রধান ইলন মাস্কও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টের মাধ্যমে এর পক্ষে সম্মতি প্রকাশ করেন।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক এক্সে লিখেছেন, "দারিও সঠিক কথা বলেছেন।" অন্যদিকে, স্যাম অল্টম্যান মন্তব্য করেছেন, "আমি দারিওর সঙ্গে একমত।" অল্টম্যান আরও জানান, তার প্রতিষ্ঠানও আমোদেইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা মূল্যায়নকারীদের স্বাগত জানাবে।
‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ বা অতি-বুদ্ধিমান কম্পিউটার সিস্টেমের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে, আমোদেই নিজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে লিখেছেন যে, এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি আমাদের কিছুটা কমাতে হবে।
অগ্রগতি এখনও দ্রুত মনে হতে পারে, তবে এই সময়ে পাওয়া সুযোগকে আমাদের বুদ্ধিমানের মতো কাজে লাগাতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি তৈরি না করা মানবজাতিকে এর সুফল থেকে বঞ্চিত করবে অথবা এটি কর্তৃত্ববাদী শক্তির হাতে চলে যেতে পারে, আবার খুব দ্রুত এটি তৈরি করা চরম বেপরোয়া আচরণ। তাই তারা একটি মধ্যপন্থা চেয়েছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি ওপেনএআই ছেড়ে অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়া গবেষক জ্যাকব কক্সন উভয় কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এআই শিল্প ত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্ব-উন্নয়নশীল মডেল তৈরির এ প্রতিযোগিতায় কোম্পানিগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ‘জুয়া খেলছে’। এর কিছুদিন পরই আমোদেইয়ের এ সতর্কবার্তা সামনে এল। আমোদেই সতর্ক করে বলেন, মানুষের নজরদারি ছাড়া কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যেভাবে দ্রুত এদের সক্ষমতা বাড়ছে, তাতে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এ ধরনের ক্ষতিকর এআই ব্যবস্থা গোটা ইন্টারনেট ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, যা শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে অ্যানথ্রপিক তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মূল্যায়নে তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন দলকে কর্মীর মতো সব ধরনের প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের নিরাপত্তা নীতি মানার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র : দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এস এ জিন্নাহ কবির মাদকের বিষয়ে কাউকে ন্যূনতম ছাড় না দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা কিংবা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার সুযোগ নেই।" তিনি আরও বলেন, দলের কেউ যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে শিবালয় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এমপি জিন্নাহ কবির বলেন, "প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।" তিনি পুলিশকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "মাদক নির্মূল করা গেলে চাঁদাবাজি ও সামাজিক অপরাধও কমে আসবে।"
তিনি আরো বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিতীয় বিপ্লবকে সফল করতে হলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে। স্বয়ংসম্পূর্ণ আগামীর সোনার বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে। মাদকের বিষয়ে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।"
জিন্নাহ কবির আরও জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় অর্ধশতাধিক মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, "বর্তমানেও এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।" সংসদ অধিবেশন ছাড়া অন্য সময়ে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় গিয়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করার কাজ চলছে। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বাবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন, কৃষক দলের সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বাদলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পিরোজপুর সদর হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন।
আজ রোববার সন্ধ্যায় হাসপাতাল পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুই প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শনকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন। তারা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে নিশ্চিত হতে পারেন যে রোগীরা নিয়মিত ওষুধপত্র এবং কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন কি না, কিংবা তারা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কি না।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য প্রস্তুতকৃত ও পরিবেশন করা খাবারের মান এবং পরিমাণও সরেজমিন পরীক্ষা করেন দুই প্রতিমন্ত্রী। তারা পর্যবেক্ষণ করেন যে নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী সঠিক পরিমাপে এবং উন্নত গুণগত মান বজায় রেখে খাবার দেওয়া হচ্ছে কি না।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রীদ্বয় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সার্বিক চিকিৎসাসেবার পরিবেশ উন্নত করা এবং রোগীদের জন্য সর্বোচ্চ রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি রোগীদের খাবারে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনায় নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ একটি বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এই নতুন নীতির আওতায় শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের জন্য আমদানিযোগ্য সব ধরনের পণ্য নির্ধারিত মূল্যসীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ঋণপত্র না খুলে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা নমনীয়তা সৃষ্টি হবে এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজ হবে।
নতুন নীতির আওতায় রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উপকরণ সংগ্রহের পাশাপাশি বিনা মূল্যে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদন উপকরণ আমদানি ও সংগ্রহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নতুন নীতির বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এসআরও নম্বর ৩০৮-আইন/২০২৬, গত ২৪ আগস্ট-এর মাধ্যমে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ জারি করা হয়। নতুন আদেশটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে ওই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো আমদানি নীতি আদেশ জারি না হলে বর্তমান আদেশের বিধান পরবর্তী নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সরকারি গেজেটেও ২৪ আগস্টের আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন নীতির ফলে আগামী কয়েক বছর দেশের আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি হবে প্রধান নীতিগত কাঠামো। আমদানিকারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক এবং অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এ নীতির বিধান অনুসরণ করেই আমদানি ও সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পরিচালনা করতে হবে।
উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ
নতুন আমদানি নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানির মূল্য পরিশোধের সুযোগ। আমদানি নীতি আদেশের অনুচ্ছেদ ৫(ম)-এ এ সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারেও বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রক্রিয়াগত নমনীয়তা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে লেনদেন পরিচালনার সুযোগ বাড়বে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, বিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের জন্য সুবিধা যেমন তৈরি হবে, তেমনি ব্যাংকগুলোর জন্য যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র সংরক্ষণের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কারণ নতুন নীতিতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিধিবিধান থেকে ব্যাংকগুলোকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
এলসি ছাড়াই মূল্যসীমা ছাড়া আমদানির সুযোগ
নতুন নীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের আমদানির ক্ষেত্রে। আমদানি নীতি আদেশের অনুচ্ছেদ ৬(৩) অনুযায়ী শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আমদানিযোগ্য সব পণ্য নির্ধারিত মূল্যসীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ঋণপত্র না খুলে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করা যাবে।
এর ফলে আমদানিকারকদের জন্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য আমদানির ব্যবস্থা করা যাবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যক্রম দ্রুত করার সুযোগ দিতে পারে।
তবে এই সুবিধার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের পণ্য যেকোনো শর্তে আমদানি করা যাবে। আমদানি নীতি আদেশে পণ্যের শ্রেণি, নিষেধাজ্ঞা, নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান রয়েছে। ফলে এলসি না খুলে আমদানির সুযোগ থাকলেও আমদানি কারককে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব বিধান অনুসরণ করতে হবে।
রফতানিমুখী শিল্পে স্থানীয় উপকরণ সংগ্রহে সুবিধা
রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ২৫-এ রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও সংগ্রহের বিধান বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ করা যাবে। একই সঙ্গে বিনা মূল্যে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে।
রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও সময় কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে উপকরণ সংগ্রহের এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পোশাকসহ বিভিন্ন রফতানিমুখী শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় উপকরণ দ্রুত সংগ্রহ করা গেলে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রমে সময়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
এ ছাড়া অনুচ্ছেদ ২৫-এর আওতায় উৎপাদন উপকরণ আমদানি বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বন্ডেড ওয়্যারহাউস পদ্ধতির প্রযোজ্যতা নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আমদানি ব্যবস্থাকে বন্ড সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারীদের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে ৩০-এর পার্ট-জি অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার অনুমতি ছিল। নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওই সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট পার্ট-জির বিধান প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধিত হিসেবে গণ্য হবে বলে নতুন সার্কুলারে জানানো হয়েছে।
এতে বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আমদানি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নীতিগত সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগের নির্দেশনার সঙ্গে নতুন আমদানি নীতির কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে নতুন নীতির বিধানকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংকের ওপর দায়িত্ব বাড়ল
নতুন আমদানি নীতিতে আমদানিকারকদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব কমেনি। বরং আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির সময় আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, পণ্য আমদানি বা স্থানীয়ভাবে উপকরণ সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে আমদানি নীতি আদেশের বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থায় অনুসৃত বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকরা নতুন সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চুক্তি, পণ্যের বিবরণ এবং লেনদেনের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ এলসি বাধ্যতামূলক না থাকলেও ব্যাংকিং তদারকি পুরোপুরি বাদ যাচ্ছে না।
ব্যবসা সহজ করার পথে নতুন পদক্ষেপ
নতুন নীতির মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো আমদানি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা তৈরি করা। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে মূল্যসীমা ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে এলসি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বিকল্প তৈরি করেছে।
অন্যদিকে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ রফতানিমুখী শিল্পের সরবরাহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করবে।
তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, নথিপত্র যাচাই, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিধান এবং আমদানিকারকদের মধ্যে নতুন ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগের ওপর। একই সঙ্গে আমদানি নীতির অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক বিধানও সমানভাবে কার্যকর থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত কাঠামো
২০২৬-২০২৯ মেয়াদের নতুন আমদানি নীতি আদেশকে শুধু আমদানি সহজ করার একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ তাৎপর্য পাওয়া যাবে না। এটি আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনা, শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ, বাণিজ্যিক আমদানি এবং রফতানিমুখী শিল্পের উপকরণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কাঠামো।
বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে এলসি ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ এবং রফতানিমুখী শিল্পে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের বিধান ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন নমনীয়তা আনতে পারে। একই সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের বিধানের সঙ্গে নতুন নীতির সমন্বয় রফতানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলারে তাই ব্যাংকগুলোকে শুধু নতুন নীতির বিষয়ে অবহিত করা হয়নি; বরং আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত প্রতিটি লেনদেনে নতুন নীতির বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিদ্যমান বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন আমদানি নীতিতে একদিকে আমদানি প্রক্রিয়ায় নমনীয়তা বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ন্ত্রিত লেনদেন নিশ্চিত করার দায়িত্বও বহাল রাখা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি লেনদেনে বিকল্প পদ্ধতি বাড়ানো, রফতানিমুখী শিল্পে উপকরণ সংগ্রহ সহজ করা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ন্ত্রিত কাঠামো বজায় রাখা। এর ফলে আমদানি ব্যবস্থায় গতি ও নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি রফতানি শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়ায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর চৌমাথা লেকের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। পদ্মফুল আকৃতির দৃষ্টিনন্দন ‘লোটাস লাইট’ লেকের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর যখন এসব বাতি জ্বলে ওঠে, তখন লেকের পানিতে আলোর প্রতিফলন তৈরি হয়, যা মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে নগরবাসী ও আগত দর্শনার্থীরা আকৃষ্ট হচ্ছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ বলেন, "আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতির এমন ব্যবহার অনলাইনে দেখে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন চৌমাথা লেককে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।"
তিনি আরও জানান, চৌমাথা লেকে পর্যায়ক্রমে আরও ‘লোটাস লাইট’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পার্ক সংস্কার, বটগাছে ঝাড়বাতি স্থাপন, দর্শনার্থীদের বসার স্থান তৈরি, চারপাশে সবুজায়ন এবং বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন জানান, "ঢাকার পর বাংলাদেশে বরিশালেই প্রথমবারের মত এ ধরনের লোটাস লাইট স্থাপন করা হয়েছে।" এর আগে গত মে মাসে চৌমাথা লেকে মিউজিক্যাল ও ড্যান্সিং ফোয়ারা চালু করে সিটি করপোরেশন। বর্ণিল আলো, পানির নৃত্য ও সংগীত উপভোগ করতে উদ্বোধনের পর থেকেই লেক এলাকায় মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। এবার এর সঙ্গে লোটাস লাইট যুক্ত হওয়ায় রাতে লেকের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর লেকের চারপাশে হাঁটতে আসা মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে আলোকসজ্জা উপভোগ করছেন। পরিবার নিয়ে আসা মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের কাছে স্থানটি ধীরে ধীরে বিনোদনের আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
ঘুরতে আসা সোনিয়া আক্তার বলেন, "চৌমাথা লেকের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছে। পরিবার নিয়ে সন্ধ্যায় এখানে সময় কাটাতে ভালো লাগে। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও বসার ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন।" বরিশাল সরকারি হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী রাব্বি ইসলাম জানান, "লোটাস লাইট ও ফোয়ারা চালুর পর রাতে লেকের পরিবেশ অনেক আকর্ষণীয় হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসীর জন্য এটি একটি ভালো বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।"
নগরবাসী বলছেন, কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত বরিশাল শহরটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান শহর। এ নদীর তীরে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী বন্দর। এ ঐতিহ্যবাহী শহরের নাগরিক জীবনে বিনোদন ও নান্দনিক পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে। কর্মব্যস্ত দিনের পর পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর মতো নিরাপদ ও সুন্দর স্থান নগরীতে সীমিত। এ কারণে তারা চৌমাথা লেকের পাশাপাশি বিবির পুকুরপাড় ও পদ্মপুকুরকেও পর্যায়ক্রমে সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
তাদের মতে, শুধু আলোকসজ্জা ও ফোয়ারা নয়, বসার ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাঁটার পথ এবং লেকের পানি পরিষ্কার রাখা ও অবৈধ দখলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা গেলে চৌমাথা লেক বরিশালের অন্যতম প্রধান নাগরিক বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চলমান সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে চৌমাথা লেক নগরবাসীর বিনোদনের পাশাপাশি বরিশালের অন্যতম নান্দনিক স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, "নগরবাসীর বিনোদন ও নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চৌমাথা লেককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" পর্যায়ক্রমে লেক ও এর আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। নগরবাসীর জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ বিনোদন পরিবেশ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ