০৭:৫২ পি.এম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাড়িতে হামলার নেপথ্যে রাশিয়ার হাত রয়েছে, এমন দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। আদালত ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অর্থের প্রলোভনে পরিচালিত হয় এই হামলার ঘটনা। তবে, রুশ দূতাবাস এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২৫ সালের মে মাসে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মালিকানাধীন বাড়ি ও গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের পর কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের ফলস্বরূপ, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে।
আদালত ও পুলিশের বরাতে গণমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, পুরো অপারেশনটি একজন রুশ-ভাষী হ্যান্ডলারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল, যে টেলিগ্রামে ‘এল মানি’ নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
অভিযোগ অনুযায়ী, এই ব্যক্তি ইউক্রেনের নাগরিক রোমান লাভরিনোভিচ এবং রোমানিয়ার নাগরিক স্ট্যানিস্লাভ কার্পিউককে নিয়োগ দিয়েছেন এবং ধাপে ধাপে আরও গুরুতর কাজের নির্দেশনা দিয়েছেন। তথ্যে উল্লেখিত আছে, লাভরিনোভিচকে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি রুশ নাগরিকত্ব দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এই ধরনের কার্যক্রম বৃহত্তর একটি প্রক্সি নেটওয়ার্কের অংশ, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব নেটওয়ার্ক বিভ্রান্তিমূলক অনলাইন কমিউনিটি তৈরি করে যুক্তরাজ্যে ভীতি ও বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রুশ পক্ষ এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দূতাবাস জানিয়েছে যে, রাশিয়াকে কোনো ধরনের অবৈধ কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউরোপজুড়ে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ব্যবহার করে নাশকতা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করছে।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
ইউক্রেনীয় তদন্তকারীরা বলছেন, একাধিক দেশে ছড়িয়ে থাকা এমন নেটওয়ার্কে ইউক্রেনীয়রা বড় অংশে জড়িত, যা কৌশলগতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির একটি প্রচেষ্টা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দেখছেন এই ঘটনাকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবে নয়, বরং আধুনিক হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবেও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন