০৫:৫০ এম
ময়মনসিংহের ত্রিশাল সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের দ্বিতল ভবন নির্মাণের ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি, যা প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও জনবল নিয়োগের কোনো সমাধান মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ সরকার ও আফাজ উদ্দিন সরকারের দান করা সাড়ে ৩২ শতাংশ জমির ওপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এই কেন্দ্রটি গ্রামের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়ার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে জনবল নিয়োগের জন্য একাধিকবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায়, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নষ্ট হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইশরাক: প্রধানমন্ত্রীর সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলেছি
স্থানীয় নয়ামিয়া জানান, "আমার গর্ভবতী স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথিমধ্যে সন্তান প্রসব হয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, "শুধু আমার স্ত্রীর বেলায় এমনটি নয়, এমন অনেক ঘটনাই এই এলাকায় ঘটেছে। আমি চাই দ্রুত এই কেন্দ্রের জনবল নিয়োগের জন্য জোর দাবি জানাই, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পায়।"
জমিদাতা আবদুল আজিজ সরকারের ছেলে সারোয়ার জাহান জুয়েল বলেন, "একসময় এই এলাকার রাস্তাঘাটগুলো খারাপ ছিল। গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য আমার বাবা জমি দান করে ছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর জনবল না থাকায়, আমার বাবার মনের আশাটুকু আর পূরণ হচ্ছে না। এখন আমি স্থানীয় এলাকাবাসী হিসেবে দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার জন্য উপরমহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।" ত্রিশাল থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদা ইসলাম দীপা জানান, "এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে জনবলের অভাবে গ্রামের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি সংকটের কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।"
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল বারী জানান, "২০০৬ সালে নির্মিত ওই সেবা কেন্দ্রে জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তারপরও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ভবন সংস্কারের অভাবে কিছুটা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সংস্কারের বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।
আরও পড়ুন: গাজায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে শত শত তাঁবু প্লাবিত, দুর্ভোগ চরমে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন