ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সুনামগঞ্জে খরার কারণে বীজতলা ফেটে চৌচির, কৃষকরা বিপাকে


সুনামগঞ্জে খরার কারণে বীজতলা ফেটে চৌচির, কৃষকরা বিপাকে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চল নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বোরো ধানের বীজতলা শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছায়ার হাওড়, দেখার হাওড়, শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও গুরমার হাওড়সহ বেশিরভাগ হাওড়ের বীজতলায় খরা দেখা দিয়েছে। যেখানে এখন চারা গজানোর কথা ছিল, সেখানে গবাদিপশু চরানো হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর কার্তিকের শেষ পর্যন্ত হাওড়ে পানি থাকে। বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি নভেম্বরের শেষে শুরু হয়। কিন্তু এবারে অক্টোবরের শেষেই পানি নেমে গেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় মাটি দ্রুত শুকিয়ে গেছে। ফলে সেচের খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। কৃষকরা জানিয়েছেন, শুকনো জমি নরম করতে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি দিতে প্রতি কেয়ার জমিতে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নলডাঙ্গায় দাঁড়িয়েও মিলছে না সার, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

শাল্লার কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেছেন, "বীজতলা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি দিয়ে নরম রাখার চেষ্টা করছি। এতে খরচ হচ্ছে বেশি।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ফেটে যাওয়া বীজতলার চারা দুর্বল হবে, কীটপতঙ্গের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের চারা গজাবে কম। এর ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরো বলেছেন, "ধান উৎপাদন কম হলেও দাম বাড়ানো হলে এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব। নতুবা কৃষি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালাতে হবে।"

একই উপজেলার বড় কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেছেন, "বড় কৃষক হচ্ছেন মাঝারি, মাঝারি কৃষক হচ্ছেন ছোট আর ছোট কৃষক হচ্ছেন দিনমজুর। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি একদিন হারিয়ে যাবে। কৃষিকে বাঁচাতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।"

পাকনার হাওড়ের কৃষক সিরাজুল হক ওলী বলেছেন, "সময়মতো পানি পাচ্ছি না, ধানের দামও পাচ্ছি না। আগে কার্তিক মাসে বৃষ্টি হতো, এখন খটখটে রোদ।" তিনি দাবি করেছেন যে, কৃষি বিভাগের উচিত হাওড়ে সময়মতো পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। বীজতলার জন্য গভীর নলকূপ বসানো দরকার।

আরও পড়ুন: বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে কৃষকের চাষ পদ্ধতি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানিয়েছেন, "কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে যে এবার খরার প্রভাব পড়বে। বীজতলায় ঠিকমতো পানি না পেলে ফসল উৎপাদন কম হবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যেখানে পানির উৎস আছে, সেখান থেকে পানি নিয়ে বীজতলা প্রস্তুত করতে হবে।

চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ এবং ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেলসন ম্যান্ডেলাকে বন্দি রাখা সেই কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ এম


নেলসন ম্যান্ডেলাকে বন্দি রাখা সেই কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস

শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলাকে দীর্ঘদিন বন্দি রাখা ঐতিহাসিক রবেন আইল্যান্ড কারাগার পরিদর্শন করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা কেপটাউনে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ দ্বীপ পরিদর্শন করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।

রবেন আইল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে পরিচিত। বর্ণবাদী শাসনামলে এখানে রাজনৈতিক বন্দিদের আটক রাখা হতো। নেলসন ম্যান্ডেলা তার জীবনের ১৮ বছর এ দ্বীপের কারাগারে কাটিয়েছেন। বর্তমানে এটি বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসের স্মারক হিসেবে পরিচিত।

ড. ইউনূসের এ পরিদর্শন দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং মানবাধিকারের জন্য আত্মত্যাগের স্মৃতির সঙ্গে তার সফরকে যুক্ত করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ এম


মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইসলামী পর্যটন সম্মেলনের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী ‘ডব্লিউআইটিসি মার্টে’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের উপস্থিতি তুলে ধরেছেন। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করে তারা মুসলিমবান্ধব পর্যটন, হালাল শিল্প, পর্যটন ব্যবসা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা ও পর্যটন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছেন।

রাজ্যের সুলতান আহমদ শাহ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (এসএএসআইসিসি) শুরু হওয়া এই বাণিজ্যিক প্রদর্শনী আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীতে পর্যটনশিল্পের ১৪টি খাতের ১২৩টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের পর্যটন পণ্য, ভ্রমণ প্যাকেজ এবং বিশেষ বাণিজ্যিক অফার তুলে ধরা হয়েছে।

এতে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছে পর্যটন প্যাকেজ, ওমরাহ, হালাল খাবার, স্পা, হোটেল এবং ভ্রমণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এবং হাইকমিশনের বাণিজ্য উইংয়ের প্রধান প্রণব কুমার ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এই আয়োজনে অংশ নেন।

এবারের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় (আইআইইউএম) অধ্যয়নরত একদল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা সম্মেলনের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম, আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগবিষয়ক অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন। এসব অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, পর্যটন বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।

শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ কেবল সম্মেলনে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আন্তর্জাতিক পর্যটনশিল্পের কার্যক্রম কাছ থেকে জানা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনুধাবন এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি তরুণদের মেধা, আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাং রাজ্যের ঐক্য, পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান লিওং ইউ মান বলেন, "বিশ্ব ইসলামী পর্যটন সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে এই বাণিজ্যিক প্রদর্শনী। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পর্যটন নিয়ে ধারণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়কে বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগে রূপান্তর করা।"

তিনি আরও বলেন, "১৪টি শিল্পগুচ্ছের ১২৩টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের পর্যটন প্যাকেজ এবং সেবা তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে পর্যটন খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে। পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও একই জায়গায় বিভিন্ন পর্যটন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।"

পাহাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী দাতো শ্রী দিরাজা হাজি ওয়ান রোসি ওয়ান ইসমাইলের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে পঞ্চম বিশ্ব ইসলামী পর্যটন সম্মেলনের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

লিওং ইউ মান আরও জানান, দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বিশেষ অফার রাখা হয়েছে। কয়েকটি হোটেল ইতোমধ্যে আগামী রমজানের বুফে আয়োজনের প্যাকেজ এবং আগাম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে।

তিনি জানান, পাহাংয়ের বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও তাদের পর্যটন পণ্য ও সেবা নিয়ে এতে অংশ নিয়েছে। ফলে কুয়ানতানসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা একই জায়গায় বিভিন্ন পর্যটন প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে এবং বিশেষ ছাড়ে সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে চলতি বছর পাহাং রাজ্যে পর্যটক আগমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যটক আগমনের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশ্লেষণ শেষে পর্যটক আগমনের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে।

রাজ্যের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে লিওং ইউ মান বলেন, "ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে পাহাংয়ের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।" তিনি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও এ খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও গুরুত্ব বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি পাহাংয়ের বাসিন্দাসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ডব্লিউআইটিসি মার্ট পরিদর্শনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মুসলিমবান্ধব পর্যটন প্যাকেজ, হালাল খাবার, হোটেল সুবিধা এবং ভ্রমণসেবার বিশেষ অফার গ্রহণের সুযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ এম


সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়ায় সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে নদীতে সৃষ্ট তীব্র স্রোত বাঁধের বিভিন্ন অংশকে ভেঙে ফেলেছে। এর ফলে বসতঘর, কবরস্থান, মসজিদ, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে, ভাঙনকবলিত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, যা তাদের জন্য মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত জুলাই মাসের শুরুতে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চৌধুরীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক পর্যায়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে, যা এলাকার মানুষের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বেড়িবাঁধ জরুরি মেরামতের জন্য ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দের অর্থ দিয়ে নদীভাঙন রোধে ১৫০ মিটার এলাকায় জিও টিউব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। हाल ही में কাজ শুরু হলেও নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাজ চলাকালে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ সাঙ্গু নদীগর্ভে ধসে পড়ে, ফলে আপাতত জিও টিউব স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ জামাল এবং মোহাম্মদ ফোরকান জানান, বর্ষা এলেই সাঙ্গু নদীর ভাঙন নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। নদীর স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, ফসলি জমি এবং চলাচলের সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পটিয়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, নদীভাঙনের কারণে নির্ধারিত স্থানের বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই পদ্ধতি নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ এম


ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল

ময়মনসিংহের ত্রিশাল সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের দ্বিতল ভবন নির্মাণের ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি, যা প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও জনবল নিয়োগের কোনো সমাধান মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ সরকার ও আফাজ উদ্দিন সরকারের দান করা সাড়ে ৩২ শতাংশ জমির ওপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এই কেন্দ্রটি গ্রামের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়ার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে জনবল নিয়োগের জন্য একাধিকবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায়, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় নয়ামিয়া জানান, "আমার গর্ভবতী স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথিমধ্যে সন্তান প্রসব হয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, "শুধু আমার স্ত্রীর বেলায় এমনটি নয়, এমন অনেক ঘটনাই এই এলাকায় ঘটেছে। আমি চাই দ্রুত এই কেন্দ্রের জনবল নিয়োগের জন্য জোর দাবি জানাই, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পায়।"

জমিদাতা আবদুল আজিজ সরকারের ছেলে সারোয়ার জাহান জুয়েল বলেন, "একসময় এই এলাকার রাস্তাঘাটগুলো খারাপ ছিল। গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য আমার বাবা জমি দান করে ছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর জনবল না থাকায়, আমার বাবার মনের আশাটুকু আর পূরণ হচ্ছে না। এখন আমি স্থানীয় এলাকাবাসী হিসেবে দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার জন্য উপরমহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।" ত্রিশাল থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদা ইসলাম দীপা জানান, "এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে জনবলের অভাবে গ্রামের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি সংকটের কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।"

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল বারী জানান, "২০০৬ সালে নির্মিত ওই সেবা কেন্দ্রে জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তারপরও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ভবন সংস্কারের অভাবে কিছুটা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সংস্কারের বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%